Samokal Potrika

হে বীর, কোন ভয়ে তুমি ভীত? শাসক না শোষণে?

তোমার মুঢ়তায় লুণ্ঠিত মাগো কুণ্ঠিত মুঢ় পাষাণে;

ভেকধারী নও যদি দেশমাতৃকার মাতৃত্ব করো উদ্ধার,

কুচক্রি, অপরাধী যত শুনুক তোমার অস্ত্রের বজ্র ঝঙ্কার।

 

হে বীর, নিদ্রা ভাঙো আজি, জাগাও নতুন মন্ত্র,

অচলায়তনের পাহাড় ভাঙুক তোমার শাণিত যন্ত্রে;

যে শির ছিলো উন্নত চির, আজিকে হয়েছে পদানত,

জাগাও তারে নব বিদ্রোহ্‌ হে বীর, দ্রোহকাল সমাগত।

 

হে বীর, অন্ধকারে গ্রাস করা দেশজনতা মরছে ধুকে

তবে কি আজ ধরেই নেবো নষ্টবারুদ তোমার বুকে!

আর কতকাল নীরব থেকে সইবে এমন কুটকাচাল?

ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের রক্ত, দেশভরা চিতার চাতাল।

 

হে বীর, ধর্ম যদি এতোই বড়ো অন্ধ কেন তোর ভগবান?

শ্মশান কবর ভরছে লাশে, জীবন্ত সব তাজা প্রাণ--

রক্ত নিয়ে খেলছে হোলি রাজনীতিক আর ধর্মগুরু,

কোথায় কবে দেখবো তোমার প্রতিরোধের আগুন শুরু?

 

হে বীর, তুমি হিন্দু না মুসলিম, বৌদ্ধ না খৃষ্টআন?

একচোখা তুমি বীর? বীরের বর্মে কাফের শয়তান?

প্রমাণ দাও তুমিই বীর! ধর্মহীন, রাজনীতিহীন,

তোমার হুঙ্কারে কেঁপে উঠুক শকুনীদের খাসজমীন।

 

হে বীর, আর অস্ত্র তুলবে কবে? শিয়রে মৃত্যুদূত

গলি থেকে রাজপথ, দাঁড়িয়ে রয়েছে সেনানী অযুত।

নেতৃত্ব চাই যুগ পুরুষের, রুখে দিতে সব অবিচার,

খুলে দাও বীর, পুত্রকন্যাদের তোমার গচ্ছিত অস্ত্রাগার।

 

হে বীর, দধীচি যদি চাও আমাকে নাও, বজ্র বানাও কঠিন’

জাটিয় পতাকায় জ্বালিয়ে আগুন, রক্তে খেলছে অর্বাচীন।

নিদ্রা ভাঙো, জেগে ওঠো বীর, লাশের গন্ধে শ্বাসরুদ্ধ”

মুক্তির শ্বাস দাও, ভাঙো প্রাচীর, বধো যত ক্রোধান্ধ।