Samokal Potrika

'আমি কি কোনো কাজ করিনা?'(গলা চড়িয়ে বলে উঠলো রিদিমের মা)

'হ্যাঁ, তুমিই কাজ করো, আমি সারাদিন বসে থাকি!'

'তাইতো মিস্টার সুপ্রতিভ,তুমি ম্যানেজার ডিরেক্টর বলে কথা! কি আর করবো বলো সংসারটা হাওয়ায় চলছে!'

'কি হলো বউমা এতো চেঁচাচ্ছো কেন?বাবুতো ঠিক কথাই বলেছে,সারাদিন খাটুনির পর তুমি এমন করছো যেন আমার ছেলেটা আড্ডা মেরে এসেছে!'

'একটা মেশিনকে আপনারা ঘরে এনেছেন,তার তো কোনো ক্লান্তি থাকতে নেই,তাই তো!'

'আঃ, তোমরা থামবে,আমাকে খবরটা দেখতে দাও।'(সুপ্রতিভ রায়ের বাবা কমলবাবু টিভির ভলিউম দ্বিগুণ করে দিলেন)

বসার ঘরের কিচিরমিচির রিদিমের ঘরের চৌকাঠ পর্যন্ত প্রায় পৌঁছেই গেছিলো।হাফল্যান্ডিং-এর ধারে পায়ে পায়ে এসে দাঁড়িয়েছিল একটা সরল বারো বছর।ওর হাতে ধরা ছিল রঙিন কাগজে মোড়া চারকোণা ফ্রেম।যে ফ্রেমের ভিতরে মা,বাবা,ঠামমুম,দাদু সবাই সেজেগুজে দাঁড়িয়ে।সবার মুখেই ভালোলাগার হাসি,ভালোবাসার হাসি।আর তাইতো রোজদিনের এই দূরে যাওয়া মানুষগুলোকে একই ফ্রেমে সাজিয়ে উপহার দিতে চেয়েছিলো রিদিম।এটাই তার পুজো গিফট।সবাই যেন এই ফ্রেমটার মতো পাশাপাশি দাঁড়ায় আরো একবার।

রিদিম যে এদের সবাইকে কাছে পেতে চায়।

ওর ছেলেবেলা যে বড্ড দূরে চলে যাচ্ছে।ওর যে বড্ড কান্না পাচ্ছে।

একমাত্র ফ্রেম-ই পারে হয়তো ওর,আর ওর পরিবারের শৈশবকে ফেরাতে।

রিদিম এগিয়ে যায় ওর শৈশবের দিকে,ফ্রেম হাতে,সিঁড়ি বেয়ে।

(এগিয়ে যাওয়ার দৌড়ে আমরা,আমাদের নিজেদের দেখাটুকু থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি দিন দিন,পিছিয়ে পড়ছি সংসারের সমস্ত সম্পর্কগুলো থেকেও।তাই ঘরে ঘরে সরে যাওয়াকেই ধরে রাখতে চাইলাম একটা ছোট্ট ফ্রেমে।এই ফ্রেম হয়তো আমার,আপনার সকলের চেনা,সকলের জানা।)