Samokal Potrika

মন, যাকে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলি, তার প্ররোচনায় 

ব্যথায় কাঁদি, আনন্দে হাসি-গাই, দুঃখে বিলাপ করি, ভয়ে চিৎকার ..

.

এইরকমই আরেকটি হল কবিতা— যা লিখে রাখা হয় এবং যা আসে আরেকটু অতিচেতনা থেকে ।  

.

মন যেখানে ফুলকে দেখে বলে, "আহা কী সুন্দর !", এবং তার রূপের বর্ণনা শুরু করে আক্ষরিক অর্থেই,—

তা কবিতা হয়ে ওঠে না  । 

.

কিন্তু সেই অতিচেতনা যখন অনুভব করায় তার সৃজন রহস্যের ঘনীভূত অন্ধকার, যেখানে সম্ভাব্য সৃষ্টিকর্তার বিরাজ, সেই অপার রহস্যের চির-ঘনীভূত আঁধারে তাকিয়ে কেউ কেউ  দেখতে পায়— সব সৃষ্টিই সুন্দর !

কারণ সৃষ্টিমাত্রেই এক অপরূপ কারুকার্য । 

পৃথিবীর সমস্ত তথাকথিত বস্তুর (জীবজড় সহ)  সুন্দর ও অসুন্দর রূপ একই উপাদানে নির্মিত । 

যেমন, প্রতিটি তথাকথিত কুৎসিত ও সুন্দর মানুষ একই রক্ত-মাংস-অস্থিতে নির্মিত ।কেবল আমাদের নজর বড়ো কম.. আসলে সব দেখে ফেলতে নেই যে .. সেই ব্যবস্থাই করা হয়েছে । 

.

কিন্তু সেই অতিচেতনা বিদ্যুৎচমকের মতো এই সত্যটি দেখিয়ে দ্যায়, তখনই, সেই ক্ষণজন্মা কবিতার জন্ম হয়— সেই মুহূর্তে; জন্ম হয় কবিত্বেরও,— আর এই বিদ্যুল্লেখায় চমকিত হ'তে চেয়ে প্রান্তরের ঘনীভূত অন্ধকারে অনিমিখ নির্জন অপেক্ষা যাঁর, তিনিই কবি ।

সেই অপূর্ব অনুভূতি কবির ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে নাড়িয়ে দেয়... তখন কবি তাকে ছুঁতে চান পার্থিব পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে...কবি দেখতে চান, শুনতে চান, ছুঁতে চান.. তার জন্য তাঁর চাই যথেষ্ট উপযুক্ত ও সেই অনুভূতির যোগ্য সম্মান দিতে পারার মতো রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ ।

তখনই কবি অনুবাদ ক'রে ফেলতে চান সেই অপূর্ব অনুভূতির, তাঁর নিজস্ব পার্থিব লিপি-বর্ণে-শব্দে ।

কবি শঙ্কিত হন,—

 'যদি ভাবের এই পাঠোদ্ধার সঠিক লিপিতে বিন্যস্ত না করতে পারি... যদি রূপরঙরসের তুলিতে সেই মানসী বাকপ্রতিমার সঠিক ছবি আঁকতে না পারি  ?! সেই মানসবাকপ্রতিমারমূর্তী গড়তে কী যেমনতেমন বর্ণ- অক্ষর- শব্দ- বাক্য -বিন্যস্ত করবো, নাকি সেই তন্ময় শিল্পীর মতো গড়বো- ভাঙবো- গড়বো-দেখবো-আবার ভাঙবো-আবার গড়বো -রঙপালিশ করবো......     ?!'

... এবং তখনই আশ্রয় নিতে হয় অর্জিত অধীত বিদ্যার, মগজের পরামর্শের ও কারিগরির।

.

এই অতিচেতনাকে আমি সপ্তমেন্দ্রিয় বলি ।