Samokal Potrika

এত টা পথ হেঁটে আসতেই ট্রেনটি সজোরে হুইসেল দিয়ে বেরিয়ে গেলো l রাতের শেষ ট্রেন l রমজানদের বাড়িতে ঘড়ি ছিলো না l একটা আন্দাজ করে বেরিয়ে পড়েছিল সুজন l অনেকদিন পর রমজানদের বাড়িতে এলো সুজন l ভার্সিটির বন্ধু l 
রমজান গ্রামেই এক কেজি স্কুলের শিক্ষকতা করে l দুদিন বেশ ভালোই কাটলো l এত রাতে আবার ফিরে যাব !নিজের মনেই প্রশ্ন করে সুজন l না আছে কোন যান বাহন না আছে পথ বাতি l তার উপর কুয়াশা !
ফালাকাটা স্টেশনে রাত ভর ট্রেন আসে তাই একটি ব্রেঞ্চ দখল নিয়ে শুয়ে পড়ল সুজন l মাঝে মাঝে চা ওয়ালার চিত্কার কানে আসে l এই গরম চা ,চা দেবো ?
স্টেশনের ডিজিট্যাল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সুজন দেখলো রাত এগারটা l এখন অনেক রাত l একটা চা খেলো সুজন l আবার শুয়ে পড়ল l কিছুক্ষণ পর টি টি এসে জিজ্ঞেস করলো কথায় যাবে ?
সুজন শুয়ে শুয়েই উত্তর দিলো যাব তো বামনহাট l 
তাহলে তো সেই সকাল বেলা l প্লাটফর্ম টিকিট আছে ?
না l 
তাহলে একটি প্লাটফর্ম টিকিট করে শুয়ে থাকুন আর সাবধান ব্যাগটা মাথায় দিয়ে রাখবেন l এই বলে টিটি লোকটি চলে গেলো l 
সুজন ভাবলো দুর্ এতো রাতে আবার প্লাটফর্ম টিকিট !
ভোর হয় হয় !কুয়াশার জন্য আরও অন্ধকার করে আছে চারিদিক l দূরে কোথাও আজানের সুর কানে এলো l আড়মোড়া দিয়ে ব্রেঞ্চে পাশ ফিরলো !কিছুক্ষণ পর একটা গন্ধ নাকে এলো l বাহ্ !কী মিষ্টি গন্ধ !পৌষ সংক্রান্তিতে আলোকদের বাড়িতে এই গন্ধটা বেরুতো l এখানে কে  পিঠে ভাজবে !কিন্তু গন্ধটা আরও তীব্রতর হচ্ছে l সুজন উঠে বসলো l দেখলো বেঞ্চের পাশে এক বুড়ি ভাঁপা পিঠে করছে l সুজন উঠে পড়ল l হাত মুখ ধুয়ে এসে বেঞ্চে বসলো l কিন্তু একি সেই গন্ধও নেই সেই বুড়িরও দেখা নেই !অদ্ভুত !স্টেশন ফাঁকা l গা টা ছমছম করে উঠলো !তবে কি এখানে ভূত আছে ?নিজের মনেই প্রশ্ন করলো সুজন !
গাড়ির ঘন্টি পড়ল !ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো এখনও তার ট্রেনের দেরি আছে l ব্যাগ নিয়ে স্টেশন মাস্টারের ঘরের সামনে গেলো l ততক্ষণে দুএকজন স্টেশনে আসতে শুরু করেছে !কিন্তু আজ কী দেখলাম !এই কথাই বার বার মনে হচ্ছিল সুজনের !পড়ে জানা গেছে ওই জায়গাটায় অনেক দিন আগে  কুয়াশার ভোরে পিঠে বিক্রি করা এক বুড়ি ট্রেনে কাটা পড়েছিল l