Samokal Potrika

অনেক দিন দেখা হয়নি।

শেষ কবে দেখা?

স্মৃতি ঝাপসা হয়ে আসে মন্দিরার। খেলা ভাঙার গান নিয়ে দুজনের মুখোমুখি বসা।

অলিক বলেছিল, এই প্রোজেক্টটা দাঁড়িয়ে গেলে আমরা জীবন সাজাবো।

কিন্তু সব এলোমেলো করে দিয়ে অলিক নিজেই অলিক ভাবনা হয়ে গেল। 

অথচ তাদের কখনো কথা কাটাকাটি, ঝগড়া, মান-অভিমান কিছুই হয়নি।

তাহলে কি এমন হল যে, অলিক এভাবে নিরুদ্দেশহয়ে আছে?

কোনও প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পায়না মন্দিরা।

এর মধ্যে বাবা মায়ের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে ঝামেলা লেগেই আছে।

জীবনের প্রতি একধরণের বিতৃষ্ণায় নিজেকে ঘৃণা করতে শুরু করেমন্দিরা।

ভাবে আত্মহত্যা করবে।

কিন্তু বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান হয়ে এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ তার পক্ষে সম্ভাব নয়।

পাঁচ বছর টানাপোড়নের পর বন্ধু বান্ধবরা মন্দিরাকে বিয়েতে রাজি করায়।
সারাবাড়ি আলো ঝলমল। বাড়ির একমাত্র সন্তানের বিয়ে বলে কথা।

নিজের বাড়ি, জাঁকজমক, দেখনদারির কোথাও খামতি নেই।

মেয়ের আশির্বাদের জন্য পাত্রপক্ষও এসে গেছে। আনন্দ মুখর বাড়ি

এমন সময় বহুদিন ধরে স্টেটাস মেন্টেইন করা ল্যান্ড ফোনটা বেজে ওঠে।

ব্যস্ততার মাঝে ধরার লোক নেই।

তবু বারবার বেয়াক্কেলে রিসিভার তার কর্কশ কণ্ঠ নিয়ে বেজে যায়।

ছেলের বাবা মন্দিরারমাথায় হাত রাখতেই আবার টেলিফোন বেজে ওঠে।

বিরক্ত মুখে মন্দিরার মা রিসিভার তোলেন।

রিসিভার তুলতেই অভিব্যক্তি বদলে যায়। ভুল বকার মত বলে যেতে থাকে,

কি থানা? পুলিশ?

মানে? কেন?

কেউ কিছু বুঝতে পারেনা। সবাই কেমন ভিত সন্ত্রস্ত।

হঠাৎ মন্দিরার মায়ের হাত থেকে রিসিভার পড়ে যায়।

তিনি টলমল শরীরে কোনওক্রমে বসে পড়েন।

মেয়ের আশির্বাদ ছেড়ে সবাই মেয়ের মাকেসামলাতে ব্যস্ত।
সব ঝক্কিঝামেলা মিটিয়ে মন্দিরার বিয়ে পর্ব আনন্দমুখর হয়ে ওঠে।

সাতপাক ঘোরানো হবে।

বিয়েবাড়ি গমগম করছে এমন সময় পুলিশ জিপ এসে দাঁড়ায় মন্দিরারদের উঠোনে।

সবাই হকচকিয়ে যায়।সবাইকে অবাক করে পুলিশ জিপ থেকে নেমে আসে অলিক।

মন্দিরার সাতপাক?
খেলা ভাঙার গানের ভিডিও শ্যুট করতে পুরুলিয়া গিয়েছিল অলিক।

মাওবাদী সন্দেহে পুলিশ তাকে এ্যারেস্ট করে।

পাঁচ বছর পর নির্দোষ অলিক ছাড়া পেয়ে প্রথমে চলে এসছে

তার খেলা ভাঙার গানের মন্দিরার কাছে।