Samokal Potrika

দিনহাটা শহরের একটু বাইরে বড়নাচিনা গ্রাম l শহর থেকে মাইল তিনেক হবে l প্রতিদিন সকালে উঠে ঢেঁকি শাক ,কলার মোচা ,থোড় ,দণ্ডকলস শাক তুলে শহরের বাজারে আসে তা বেচতে l পথে কেউ ডাকলে মাথা থেকে ঝুড়ি নামিয়ে সেগুলো দেখায় l কেউ কেনে আবার কেউ দেখে দামদর করে নেয় না l তপনের মা বোঝে কে নেবে আর কে নেবে না l তপনের বাবা মারা যাবার পর থেকে এই কাজ করে সংসার চালায় সে l তাও হলো দশ বছর l এখনও চেহারাটা ঠিক আছে l বাজারে কত কথাও শুনতে হয় তার কিন্তু উপায় কী ?লোকের বাড়ি কাজ করার চাইতে এই কাজ তো অনেক ভালো l ছেলেটি আর মানুষ তো হলো না l  এই ভাবতে ভাবতেই হটাৎ কানে এলো তপনের মা ...ও  তপনের মা ?
প্রথমটায় বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল পড়ে বাড়ির গেটে গিয়ে বলল- ও দিদিমণি !
তা কী নিবেন শাক মোচা দুই আছে !
এই বলে তপনের মা গিরিজাবালা ভিতরে ঢোকে l মাথা থেকে শাকের ঝুড়ি নামায় l 
বলে - কদ্দিন দেখিনা তোমাক !সেই যে রিটায়ার করলেন !
দিদিমণি উমা দেবী বলল -তোমার তপন এখন করে কী ?
আর কন না দিদিমণি ,ওর বাপ মরি যাবার পর ছাওয়াটাক ওর মামা বাড়ি পাঠালাম মানুষ হবার জন্য l তাই এলা মানুষ হওয়া ছাড়ি বাউদিয়া হয়া গেইচে l 
তপনের মা অনেক দিন পর দিদিমণিকে পেয়ে সব কথা উগলে দিলো l এই দিদিমণি ওখানে এক প্রাইমারী স্কুলের দিদিমণি ছিল l প্রায় কুড়ি বছর ওদের ওখানে l সেখানের মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল l 
দিদিমণি গিরিজাবালার কাছে ওদের গ্রামের সব কথা জেনে নিলো l 
যাবার সময় বলল এদিক পানে গেলে খোঁজ নিও গো তপনের মা l এখন তো মানুষ আর কারো খোঁজ করে না l 
মাথায় ঝুড়ি উঠিয়ে মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানিয়ে পথে বের হলো l গেট বন্ধ করে ভিতরে আসতেই 
হঠাৎ একটি বিকট আওয়াজ কানে এলো দিদিমনির l গেট খুলেই উঁকি দিতে দেখে কিছুদূরে তপনের মা পড়ে আছে একেবারে গেটের কাছে তার শাকের ঝুড়িটা উপর হয়ে পড়ে আছে l ততক্ষণে ধর ধর বলে পাড়ার কটা ছোকরা চেঁচিয়ে উঠলো l 
দিদিমণি এগিয়ে গিয়ে দেখলো তপনের মা র মাথাটা থেঁতলে গেছে পাশে চাপ চাপ রক্ত l কে একজন বলল একটি ক্যান্টার ভ্যান পিক আপ নিয়ে বেরিয়ে গেলো ওকে ধাক্কা মেরে l 
পাশে পড়ে থাকা মোচাটি যেন জানান দিচ্ছে জীবন টা ঠিক মোচার মতো তার পরতে পরতে দুঃখ লেপ্টে থাকে তপনের মা !
দিদিমণি চশমা টা খুলে শাড়ির আঁচলে চোখের কোল টা মুছে নিলেন ! আর কোনদিন তপনের মা এসে খোঁজ নেবে না l