Samokal Potrika

দৈব দ্বৈত


কাব্য যেখানে নতুন জগতে অবাধ প্রবেশদ্বার
যোগ সেখানে সাধনা ভক্তি অগাধ অঙ্গীকার
দাশের ঢাকা বিক্রমপুরের পেলব পদ্মাপার
হুগলির সেথা কামারপুকুরের চাটুজ্জ্যে পরিবার
ক্ষুধিরাম ও চন্দ্রামনির কোল জুড়ে ভরে আলো
জীবনানন্দের কলমে ঘোচে চরাচরের যত কালো
সত্যানন্দ কুসুমকুমারীর রত্নগর্ভ সংসার
বরিশালের ঘরে ঘরে জীবন হল প্রচার
মোক্ষপথে রামকৃষ্ণ কাণ্ডারী হয় তার
অহমপথত্যাগী ভাসে যে মাভৈঃ অকূলান্ত পাথার
দোসর যখনি সাথে রয় এ দ্বৈত গুণীজন
জীবনের আনন্দে রামকৃষ্ণে করে সে কৃচ্ছ্রসাধন
বনলতা সেন বা রূপসী বাংলা রত্নে ভরা ভান্ডার
বাণী নীতিমালা চরিতামৃতে অভয় দিক্হারাবার
সে জীবন হেনো আয়ুষ্মান হোক লম্বা নয় --- বড়
৫০ হোক বা ৫৫, কেউ কারো নয় দর
প্রমাণ করিলেন শত শতবার ঝংকৃলে কিঙ্কিণী
আঁধার করিবেন যিনি, আধার জোগাবেনও তিনিই |

 


নিখাদ বসন্ত

 

অদভূত এ মন,

সত্যি !

খুব ঈর্ষা, অবহেলিত ও বক্ষবিদীর্ণ হয়েছিল ,

যেদিন সম্মুখে সে করলো অন্যের পাণিগ্রহণ,

বিয়ে করলো,

ঘর পাতলো,

আমার ঘর ফাটলো !

ক্ষমা করিনি ;

জীবনে নামলো ধূসর শীত-বুড়ি,

আজ হঠাৎ কলকাকুলি !

যমজ সন্তান হল তার,

নিষ্পাপ সারল্যের এক জোড়া চাহুনি আমার পানে,

বুকে টেনে নিলাম অজ্ঞাতেই,

আদর না বিলিয়ে পারলাম না তাদের,

যাদের দোষ জানা নেই আমার,

অবাক হয়ে দেখলাম

কোন সে অপরিচিত,

অনিমন্ত্রিত

হেংলা ও ক্ষুধার্থ সময়

কখন যেন পাত পেড়ে বসে,

গোগ্রাসে চেটে-পুটে হাপিশ করে দিয়েছে সে রাগ,

থুড়ি অভিমান ;

বিগলিত সেই প্রেম

যেন নিকষিত হেমের মতই,

শীতকে পাল্টে দিয়েছে,

চোখের সামনে যে দুটি বসন্তের

সদ্য-ফুটন্ত কুড়ি !

হয়তো তারাই এ অধম রে হেলায় বুঝিয়ে দিলো

স্নেহ সর্বদাই নিম্নগামী |

 

 

দিনটিতো বেশ !

সকাল থেকেই পেট-টা করছে গুড়গুড়,

ঘরের 'ওদিক' ডাকছে বারংবার,

খাটালাম মাথা জোরদার,

মনে পড়ছে না কিছুই যে আর,

কাল তো খাইনি গুরুপাক তেমন,

কেন পাচ্ছি তব গুরুদণ্ড এমন ?

ভাতঘুমে আবির্ভাব আন্তর্জামীর

বলিলেন, "তুই কী নিরস !

ভুলে গেলি কি করে, আজ যে

বিশ্ব HUG দিবস !

 

 

আলোকিত আঁধার

সূর্য কাল ঘুম থেকে উঠবে কি ?

দরজায় খিল দিয়ে গেল পাশের ঘরে শুতে

চাঁদ বেচারা ভেবেই মরে হায়

তার পরিচিতর কপালে কি জোটে

ঠিকই, বন্ধু নয়, কেবলই পরিচিত

গ্লানি গ্রীবায়, শ্লেষের শ্লাঘায় উজ্জীবিত

নতুন ছেঁড়া তাঁর, মৃদঙ্গে হোক না অযুত যত ছিদ্র,

ধুলো-বালি জমুক না শত হৃদয়ে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র,

তিতিক্ষা, করে প্রতীক্ষা একটু ছোঁয়া সে হাতের,

অসুর-রাই হয়তো বুঝবে আমায়, বৃথা নষ্ট সময়

জীবনদেবতার সংঘাতের

গবাক্ষে অপেক্ষায় হে যক্ষরাজ

অলোকা করে আকুলি-বিকুলি,

অলীক সে মিলন যেন,

অর্ধদগ্ধ তৃণের অঙ্গুলি

স্বাদ পেয়েছে জীবনের নির্যাসে

গৃধনু এ তিলোত্তমার জিহ্বা

তৃপ্ত আজ সে ভাগ্যের পরিহাসে

জানুক বা না জানুক কেউ তা

জোনাকির বাগান হেথা তন্বী নদীর অন্তরায়,

পিশাচের হাতে শপলাম জীবনের হালখাতা,

নিঠুর অস্তরাগে আজ ভূষিত অঙ্গসাজ

কোলের উপরে কাঁটা, এ আমার পাষাণী কলকাতা !