Samokal Potrika

সৌম্য আর সরিতার আজ মনটা খুব ভারাক্রান্ত। কোনও কাজেই মন বসছে না। আজ সৌম্যর বাবা-মায়ের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী।   

-   জানো, বাবা মা সত্যি একে অপরকে খুব ভালবাসতেন। দেখো এত বছর একসাথে ঘর করলেন, কোনও দিন বাবা মায়ের মধ্যে ঝগড়া দেখি নি। আসলে দুজনেই খুব আধুনিক মনের মানুষ ছিলেন।

-   হ্যাঁ, সত্যি আমিও তো ন বছর হল এই সংসারে এসেছি। এত সুন্দর বোঝাপড়া মনে হয় খুব কম মানুষেরই থাকে। আমার কখনই মনে হয় নি যে এটা আমার শ্বশুর বাড়ী। ওঁদের ওই স্নেহের পরশ আমি প্রত্যেক মুহূর্তে মিস করি।

সেই জন্যই মনে হয় তাঁরা পৃথিবীও ছাড়লেন হাত ধরে। সেই চেন্নাই থেকে ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনায় দুজনেই একসাথে স্বর্গে চলে গেলেন। সাত বছরের বিট্টু তো  দাদু ঠাকুমার কাছেই বড় হচ্ছিল। রোজ রাতে দাদু কত রূপকথার গল্প বলতো বিট্টুকে। বিট্টুর আবার কার্টুন বা ভিডিও গেমস পছন্দ নয়। দাদু ঠাকুমার কাছে রূপকথা, ইশপের গল্প, নীতিমালা এই সব শুনেই বড় হয়েছে। কল্পবিজ্ঞানও খুব পড়তে ভালবাসে। দাদু ঠাকুমাই ছিল ওর সবচেয়ে কাছের বন্ধু।   

ওঁরা মারা যাবার পর বিট্টুর মধ্যে একটা অদ্ভুত পরিবর্তন এসেছে। কেমন যেন একটু চুপচাপ হয়ে গেছে, মাঝে মধ্যেই কি যেন ভাবে।  

সৌম্য বাবা মা-কে খুব শ্রদ্ধা ভক্তি করতো। কোথায় যেন সেও তাঁদের অভাব   অনুভব করে এখন। বাবা মা ছাড়া বাড়ীটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগে।

একদিন রাতে শোবার পর সৌম্য সরিতা কে বলল- ‘একটা ভাবনা বেশ কয়েকদিন ধরেই আমার মাথায় ঘোরাফেরা করছে। তোমায় বলব বলব করেও বলে উঠতে পারছি না।’

-   কি ভাবনা গো?

-   আচ্ছা একটা কথা ভালো করে ভেবে দেখো। আমাদের অস্তিত্ব তো বিভিন্ন সম্পর্কের মধ্যেই বেঁচে থাকে- তা সে রক্তের সম্পর্কই হোক বা অন্য কোনও  সম্পর্ক। ধর, বিয়ের পর সব রকম চেষ্টা করার পর যখন কোনও  বায়োলজিক্যাল বেবি না আসে তখন সেই কাপল দত্তক নেবার কথা চিন্তা করে। তারাও চায় ওই ছোট্ট শিশুটি তাদের পরিচয়ে বড় হোক। এই সম্পর্কের সেতু ধরেই তো একটা জীবন চলতে থাকে।

-   কিন্তু আমাদের তো বেবি আছে। তুমি কি আর একটা বেবি দত্তক নেবার কথা ভাবছো?

-   আরে না না। সময়ের সাথে সাথে আমাদের ভাবনাগুলোও একটু বদলাতে চাইছি।

-   দূর, তুমি কি বলতে চাইছ আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

-   আচ্ছা তোমাকে বুঝিয়ে বলছি। ধর, আমরা কেন বেবি দত্তক নিই? সেই  সন্তানের জায়গাটা অপূর্ণ থাকে বলেই তো। এবারে একটু অন্য ভাবে ভাবো। আমাদেরও একটা অপূর্ণতা আছে এখন।

-   কিসের অপূর্ণতা?

-   বাবা- মা এর। তাই ভাবছি বাবা মা যখন সন্তান দত্তক নিতে পারে, তাহলে সন্তান কেন বাবা-মায়ের অপূর্ণতা পূরণের জন্য বাবা মা দত্তক নিতে পারবে না?

-   বাহ, এই ভাবনাটা দারুন তো। বেশ অভিনব। আর আমরা যদি সত্যি সত্যি নতুন বাবা মা পাই তাহলে সংসার আবার পূর্ণতা পাবে।

-   আমাদের আশেপাশে কত বৃদ্ধাশ্রম আছে, কত বাবা মার চোখের জলে আজ ভারাক্রান্ত। যে ছেলেদের হয়তো কখনও আধপেটা খেয়ে মানুষ করেছে, সেই ছেলেই আজ তাদের বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছে।

-   সত্যি গো, তাদের কথা ভাবলে বুকটা কেমন যেন ভারি হয়ে ওঠে।

-   তাহলে চলো, আমরা এবার বাবা-মা দত্তক নেবার কথা ভাবি। তুমি কি বল?

-   আমি শুধু একটা কথাই বলবো- আমি গর্বিত যে তুমি আমার স্বামী। তবে একটা কথা ভাবছি- দুজন আলাদা পরিবারের দুজন মানুষ একসাথে কি আমাদের সাথে থাকতে রাজী হবেন?

-   হ্যাঁ, সেটা একটা সমস্যা ঠিকই। তবে এমন গুনধর ছেলেও তো থাকতে পারে যে টার বাবা মা দুজনকেই একসাথে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছে। ঠিক আছে আগে খোঁজ খবর নিয়ে তো যাই, তারপর দেখা যাবে।  

পরের দিন থেকেই নেটে বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজ খবর শুরু করে দিল। অবশেষে ভবানীপুরের কাছে একটা বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজ পেয়ে গেল, তাদের বাড়ীর কাছাকাছি। তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে পরের রবিবার যাবে বলে ঠিক করে ফেললো।

রোববার তাড়াতাড়ি স্নান করে ব্রেকফাস্ট সেরে সবাই প্রস্তুত হয়ে গেল। বিট্টুও খুব খুশী, ভাবছে আজ সবাই মিলে হয়তো কোথাও বেড়াতে যাওয়া হবে।    

-   মা আজ আমরা কোথায় যাব?

-   আজ তোমার জন্য একটা সুন্দর উপহার আনতে যাচ্ছি সোনা।

-   ও উপহার! কি মজা...খুব দামি উপহার মা?

-   উপহারের কোনও মুল্য হয় না সোনা। এটাই হয়তো তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার।

ঠাকুরের নাম করে তারা বেরিয়ে পড়লো সেই বৃদ্ধাশ্রমের পথে। সেখানে পৌঁছেই দেখল বৃদ্ধাশ্রমটি বেশ সাজানো গোছানো। সামনেই একটা ফুলের বাগান, কত অসহায় বৃদ্ধ বৃদ্ধা বসে আছে সেখানে। মনে হল সেখানে তারা এই একাকিত্বের কুয়াশায় মানিয়ে নিয়েছেন নিজেদের। আর দেরী না করে সেই বৃদ্ধাশ্রমের দায়িত্বে যিনি আছেন তাঁর সাথেই তারা দেখা করলো। কথাবার্তা বলে তার কাছ থেকেই জানতে পারল যে সেখানে এক বৃদ্ধ দম্পতি আছেন প্রায় তিন বছর হল। লেকটাউনের কাছে তাঁদের বাড়ী ছিল। ছেলে ব্যাঙ্গালোরে চাকরি করতো, ছেলে বউমাকে ছেড়ে তাঁরা বহুদিনই ওই বাড়ীতে ছিলেন। হঠাৎ ছেলে কানাডায় ট্রান্সফার হয়ে যায়। তাঁর বেশ কিছুদিন পর নাকি কানাডায় বিলাস বহুল ফ্ল্যাট নেয়, তাই তাঁদের বাড়িটি বিক্রি করে দেয় ও বাবা মাকে এখানে রেখে যায়। ছেলে সময় মত এখানে টাকা পয়সা পাঠিয়ে দেয়, কিন্তু বাবা মার সাথে তেমন একটা যোগাযোগ নেই। এই কথা শুনেই সৌম্য আর সরিতা খুব কৌতুহলী হয়ে  পড়লো তাঁদের সাথে দেখা করার জন্য।

-   আমরা কি ওঁদের সাথে একটু একান্তে কথা বলতে পারি?

-   হ্যাঁ নিশ্চয়ই, ১৪ নম্বর ঘরটিতে ওঁরা থাকেন। 

-   অনেক ধন্যবাদ।

তারা আর সময় নষ্ট না করে তাঁদের সাথে দেখা করতে চলে গেল।

-   ভেতরে আসতে পারি?

-   হ্যাঁ বাবা এসো, তোমরা কে বাবা। কোথা থেকে আসছ?

-   আমি সৌম্য আর ও সরিতা, আমার স্ত্রী, আমরা ভবানীপুর থেকে আসছি।

এই বলেই দুজনে তাঁদের প্রণাম করলো।

-   অনেক আশীর্বাদ করি বাবা, তোমরা সুখী হউ। দাদুভাই তো খুব মিষ্টি। তোমার নাম কি সোনা?

-   বিট্টু…  তোমাদের নাম কি?

-   আমার নাম পরিমল সরকার আর এই ঠাকুমার নাম কানন সরকার।

-   ও, এটা বুঝি তোমাদের বাড়ী? তোমাদের ছেলে নেই?

তাঁদের চোখের কোণটা চকচক করে উঠল...

-   হ্যাঁ বাবা, এটাই আমাদের বাড়ী, আমাদের ছেলে অনেক দূরে থাকে আর আমাদের খুব ভালবাসে তো, তাই আমাদের এখানে রেখে গেছে।

পরিমলবাবুর গলাটা কেমন ভারি হয়ে এল...

আহ, বিট্টু, তুমি চুপ কর। এবার আমরা একটু কথা বলবো।

-   আপনাদের কাছে একটা বিনীত অনুরোধ করবো, যদি আপনারা রাজী থাকেন, সৌম্য বলল।

-   তোমরা এত ইতস্তত করছ কেন বাবা। বল না কি বলবে।

-   আপনারা আমাদের বাবা মা হবেন? সৌম্য সোজাসুজি প্রস্তাবটা দিয়ে দিল তাঁদের।

প্রস্তাবটা শুনে পরিমলবাবু আর স্ত্রী কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে চুপ করে রইলেন, তাঁরা এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য মনে হয় তৈরি ছিলেন না।

-   কি বলছো  বাবা, আমাদের পেটের সন্তান তো কানাডায় ফ্ল্যাট কিনবে বলে আমাদের শেষ আশ্রয়টুকু বেচে দিয়ে আমাদের এখানে রেখে গেছে। যোগাযোগ নেই বললেই চলে, আর তুমি... আমাদের নাতিও ওর মতই   হবে। ক্লাস থ্রি হল। কতদিন নাতিকে দেখি নি জানো বাবা, খুব দেখতে  ইচ্ছে করে।

কথাগুলো বলতে বলতে পরিমলবাবু কেমন আবেগ প্রবণ হয়ে উঠলেন, কানন দেবীও আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে লাগলেন।

সৌম্য পরিমলবাবুর হাতদুটো ধরে বলল- ‘আসলে আমি আমার বাবা মা দুজনকে  একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় হারিয়েছি দু বছর আগে। বাবা মা ছাড়া কোনও ছেলের সংসার মনে হয় পূর্ণ হয় না। প্রত্যেক মুহূর্তে আমরা বাবা মা-র অভাব অনুভব  করি। বিট্টুও দাদু ঠাকুমার কাছেই বড় হয়েছে, রোজ দাদুর কাছে রূপকথার গল্প শুনত। আমার মনে হয় দাদু ঠাকুমার কাছে বাচ্চারা যে শিক্ষাটা পায় সেটা মনে হয় পৃথিবীর কোনও স্কুল কলেজ দিতে পারে না। বংশ পরম্পরায় ওই শিক্ষাটা বেঁচে থাকে আমাদের মননে। তাই আমি আর আমার স্ত্রী এই সিদ্ধান্তটা  নিয়েছি।

পরিমল বাবু চোখ মুছতে মুছতে সৌম্যকে বললেন- ‘এতদিন জানতাম আবাহনের পর বিসর্জন হয়, কিন্তু বিসর্জনের পর আবাহন- তুমি না এলে জানতাম না বাবা। তোমায় প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করি বাবা দীর্ঘজীবী হউ, ঘরে ঘরে তোমার মত সন্তানের জন্ম হোক।’

সেখানকার সমস্ত রকম ফরমালিটিজ সেরে ফেললো সৌম্য। এবার বাবা মাকে বরণ  করে ঘরে তোলার পালা। তারা ঠিক করলো পরের রোববার বাবা মা কে বাড়ীতে নিয়ে যাবে।   

এই এক সপ্তাহ কি ভাবে গেল ওরা নিজেরাই বুঝতে পারল না। দেখতে দেখতে রবিবার এসে গেল। বাড়ীতে নতুন অতিথি আসছেন- বাবা মা-র ঘর সাজানো গোছানো হয়ে গেছে সরিতার। আজ মেনুতে লাউ চিংড়ি ঘণ্ট, মুগ ডাল, ঝুরো আলু ভাজা, সর্ষে পারশে, পোনা মাছের কালিয়া, খেজুর আমসত্বর চাটনি আর দই। সৌম্য সাড়ে এগারোটায় গাড়ি নিয়ে চলে গেছে তাঁদের আনতে। সাড়ে বারোটার মধ্যে বাবা মাকে নিয়ে বাড়ীতে হাজির। আজ যেন সকলের মুখ চোখ খুশীতে চকচক করছে। হারানো সম্পর্কগুলো খুঁজে পেয়ে তারা যেন আজ বাঁধন হারা উচ্ছাসে ভেসে গেল। রক্তের সম্পর্কের মিথটা যেন কোথাও একটা ধাক্কা খেল। দুপুরে সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া সারল। সারাদিন হইহুল্লোরে অনাবিল আনন্দের জোয়ারে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে কারুর খেয়াল নেই।

সৌম্য সরিতাকে বলল, ‘বাবা মায়ের জন্য সুন্দর করে চা বানাও তো।’

সরিতাও চটপট চা করে নিয়ে এল।

‘জানেন, আমরা আগে ঠিক এই ভাবেই বাবা মায়ের সাথে একসাথে বসে চা খেতাম। আবার অনেক দিন পর সেই অনুভূতিটা পেলাম। সেই ভালো লাগাটা মনে হয় মুখে প্রকাশ করা যায় না।’, সরিতা বলল।

‘জানো মা আজকে আমাদের মনের অনুভূতি তোমাদের ঠিক বোঝাতে পারবো  না। আমাদের পেটের সন্তানের কাছে আমরা আজ বর্জনীয়, আর তোমরা আমাদের বাবা মা হিসেবে এখানে বরণ করে আনলে। তোমাদের কি বলে আশীর্বাদ করবো সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না।’, পরিমল বাবু বললেন।

আমাদের শুধু এটুকুই আশীর্বাদ করুন যেন আমরা আপনাদের বাবা মায়ের মর্যাদাটুকু রাখতে পারি’, সৌম্য বলল।  

‘আর আজ থেকে আপনারা আমাদের বাবা মা, তাই আর কিন্তু আপনি নয়, আমি কিন্তু তুমি ডাকবো’ সরিতা বলে উঠল।

‘হ্যাঁ মা, তোমাদের যা খুশী হয় ডেকো, আজ আমাদের সন্তানদের আবার ফিরে পেয়েছি আমরা। তোমাদের মুখে এই ‘বাবা’ ‘মা’ ডাকটা বহুদিন পর শুনে মনের  যন্ত্রণার জমা বরফগুলো যেন একটু একটু করে গলছে। আসলে কি জানো তো মা বাবা মায়েদের যখন বয়স হয় বাবা মা তখন একটা জিনিসই চায় সন্তানদের থেকে- সন্তানদের ওই আন্তরিক ‘বাবা’ ‘মা’ ডাকটা শুনতে চায় বারবার, তখনই  আমরা এই সংসারে আমাদের অস্তিত্বটা বুঝতে পারি, না হলে কেমন যেন মনে হয় আমরা ওই ভাঙা ছাতা বা ভাঙা রেডিওটার মত অপ্রয়োজনীয় হয়ে সংসারের এক কোণে পড়ে আছি। আজ তোমাদের মুখে যতবার ওই বাবা মা ডাকটা শুনছি বুকের ভেতরটায় কেমন যেন একটা শীতল বাতাস অনুভব করছি।’, আবার আবেগে পরিমল বাবুর গলাটা ধরে এল।   

এভাবেই কথাবার্তায় সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত হয়ে গেল। ডিনার সেরে এবার শোবার পালা।

‘এই, বাবা মায়ের শোবার ঘরের সব কিছু ভালো ভাবে দেখিয়ে দাও, ডিম  লাইটটা জ্বেলে দিও, বাথরুমের সুইচটাও দেখিয়ে দিও’, সৌম্য সরিতাকে বলল।  

-   আরে হ্যাঁ গো, তোমাকে অতো ভাবতে হবে না, বাবা কে আমি সব  দেখিয়ে দিচ্ছি।      

   ঠিক হল বিট্টু রাতে দাদু ঠাম্মার কাছে শোবে। শুনেই তো বিট্টুবাবু খুব খুশী, আজ তাহলে আবার রূপকথার গল্প শুনে ঘুমোতে পারবে।

-   তোমরা আজ রাতে আমাকে রূপকথার গল্প বলবে তো, দাদু-ঠাম্মা?

এই কথাটা শুনেই ঠাম্মা আর আবেগ সামলে রাখতে পারল না, বিট্টুকে বুকে জড়িয়ে হাপুস নয়নে কাঁদতে লাগলো, পরিমল বাবুর চশমার কাঁচটাও কেমন যেন ঝাপসা হয়ে এল।