Samokal Potrika

গোমতী নদী দেখতে সাইকেলে চড়ে ছুটে গেলাম কুমিল্লার জেলার মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর বাজারে । জাহাপুর বাজারের পাশে এবং গোমতী নদীর তীর ঘেঁসেই রয়েছে জাহাপুর জমিদার বাড়ি । 
জাহাপুর  জমিদার বাড়ি দেখে । রওনা হলাম গোমতী নদী দেখার মূল সাইকেল অভিযানে জাহাপুর বাজার  থেকে বেড়িবাঁধ সড়ক ধরে ছুটছি আসমানিয়া বাজারের দিকে । জাহাপুর বাজার থেকে আসমানিয়া বাজারের দূরত্ত ৬ কিলোমিটার। এই ৬ কিঃ মিঃ বেড়িবাঁধ সড়ক পাকা হলেও মাঝ পথে বেশ কয়েকটি ইটখোলার মাল বোঝাই ট্রাক আসা-যাওয়ার কারনে রাস্তার অবস্তা বেহাল ! এবং জাহাপুর থেকে আসমানিয়া বাজার পর্যন্ত এই ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সড়ক  পুরোটাই ভাঙ্গা উচু নিচু গর্ত হয়ে আছে । দীর্ঘ দিন অনাবৃষ্টির ফলে রাস্তায় প্রচুর ধূলা বালি জমে আছে । এবং বসন্তের বাতাসে তা দ্রুত এদিক ওদিক ছড়িয়ে পরছে ।

ধূলা বালি আর ভাঙ্গা রাস্তা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলছি সামনে দিকে । 
গোমতী নদী হাতের ডান পাশে । নদীর ওপারেই তিতাস উপজেলা ও এপারে মুরাদনগর উপজেলা । এই দুই উপজেলাকে বিবক্ত করে শান্ত স্নিগ্ধ গোমতী নদী  এঁকে বেঁকে বয়ে চলেছে । 
সবুজ মাঠ কিংবা ফসলি জমির বুক চিরে বয়ে চলা গোমতী নদী ।  নদীর দুই প্রান্তের বেড়িবাঁধ সড়ককে ঘিরে এখানে গড়ে উঠেছে জনবসতি । নদী পারের মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাপন দেখছি আর ভাবছি , গোমতী নদীকে ঘিরেই তাদের কত সব আয়োজন , কত সব উৎসব , কত সব স্বপ্ন ! নদী পারের বেশীর ভাগ মানুষেরই পেশা কৃষি  ও মাছ ধরা । গোমতী নদীর পানি দিয়ে এখানকার কৃষকেরা  ধান , গম , পাট , শাক , শবজিসহ , নানান রকম রবি শশী ফলাচ্ছে । কেউবা আবার গোমতী নদী থেকে মাছ ধরছে । এবং গোমতী নদীর তীর ঘেঁসেই বেশ কয়েকটি ইদখোলাও গড়ে উঠেছে । 
যেতে যেতে গোমতী নদীর অপরুপ সৌন্দর্য জেলেদের মাছ ধরা , ও মাছরাঙা পাখি , আর সাদা বকের মাছ শিকার করার দৃশ্য  দেখতে দেখতে । এবং বেড়িবাঁধ সড়কের গাছ পালা তরুলতা আর পাখির কিচিমিচি ডাক শুনতে শুনতে চলে গেলাম আসমানিয়া বাজারে ।
আসমানিয়া বাজার থেকে হাল্কা নাস্তা ও ঠান্ডা পানীয় খেয়ে  বিকল্প পথে ছুটছি বাড়ির দিকে ।
দুপুর গরিয়ে বিকেল হয়ে এল ।
আসমানিয়া বাজারের পাশের বেইলী ব্রীজে আবারো একটু দাঁড়িয়ে পরন্ত বিকেলের শান্ত স্নিগ্ধ গোমতী নদীর মিষ্টি হাওয়া গায়ে মাখলাম !  এবং গুধূলি বিকেলে গোমতী নদীর অন্যরকম রুপ ও বৈচিত্র্য মন ভরে দুচোখ খুঁলে উপভোগ করলাম ! 
এবার বাড়ি যাবার পালা , 
কথা দিলাম..!
আবার কোন এক বিকেলে ছুটে আসব তোমার পানে 
তোমার ঐ শান্ত কোমল নরম জল ছুঁতে..!

থাকা খাওয়াঃ- যেহুতু গোমতী নদী পল্লী গ্রামের বুক চিরে অতিবাহিত হয়েছে । তাই গোমতী নদী কিংবা বেড়িবাঁধ সড়কের আসে পাশে কোথাও কোন আবাসিক অথবা অনাবাসিক হোটেল মোটেল নেই । আপনাকে রাত্রি যাপন করতে হলে চলে যেতে হবে কুমিল্লা শহরে । ময়নামতি কিংবা দাউদকান্দিতে । 
বেড়িবাঁধ সড়ক ধরে সামনে যেতে'ই অনেক বাজার চোখে পরবে । এবং সেই সমস্ত বাজার গুলিতে সাধারণ মানের কিছু ভাতের হোটেল রয়েছে । দুপুরের ভোজন যেখান থেকে খুসি সেরে নিতে পারেন । তাছাড়া হাল্কা নাস্তা  যেমন , চা বিস্কুট সিঙ্গাড়া ঠান্ডা পানীয় এইসবের  দোকান তো আছে'ই । 

যেভাবে যাবেনঃ- আপনারা যদি সাইকেলে চড়ে গেমতী নদী অথবা গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সড়কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তাহলে ,  প্রথমে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোথা থেকে সাইকেল রাউড শুরু করে কোথায় গিয়ে শেষ করবেন ?
আপনারা চাইলে কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জে এসে শেষ করতে পারেন । কুমিল্লা  ক্যান্টনমেন্ট থেকে কোম্পানিগঞ্জের দূরত্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার ।
যদি আপনি আরো বেশী লং ড্রাইভ করতে চান ?  তাহলে মুরাদনগরের জাহাপুর অথবা তিতাস উপজেলার আসমানিয়া বাজারে অব্দি আসতে পারেন । 
কোম্পানিগঞ্জ থেকে আমসানিয়া বাজারের দূরত্ত ২২ কিলোমিটার ।
অথবা আসমানিয়া বাজার থেকে শুরু করে কুমিল্লা গিয়ে শেষ করতে পারেন । 
সে ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর আসতে হবে ।  বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার "রায়পুর" নামক স্থানে নামবেন । তারপর রায়পুর থেকে আসমানিয়া বাজার ,  দূরত্ত ৫.৬ কিলোমিটার ।