Samokal Potrika

“Literature is nothing but the reflection of human character – William Shakespeare”

প্রতিটা শিল্প মাধ্যমে বাস্তবতার স্পর্শ থাকে, যা আগামী দিনে অতীতের বাস্তবতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে বর্তমানের সাপেক্ষে বিচার্যের দিক নির্দেশে প্রামাণ্য দলিল হিসাবে কাজ করে। সাহিত্যকে আঙ্গিক বদলে নবরূপে প্রকাশের মাধ্যম সেই পন্থাকে ঋদ্ধ করতে সময়ের দাবীকে প্রতিষ্ঠা দেয়। তার মধ্যে নাটক-এর নাট্যচিত্রায়ন একটি বলিষ্ঠ প্রকাশ ভাবনা। দমদম শ্যাডো নিবেদিত, সুদীপ্ত চৌধুরী পরিচালিত চৌর্যবার্তা নাট্যাভিনয় দেখার পর সেটাকেই দৃঢ় বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠা করে। পার্থ আচার্যের সমকালীন বিষয় কেন্দ্রিক গল্পকে পরিচালক নিজস্ব ভাবনায় ব্যাঙ্গাত্বক হাস্যরসের ব্যঞ্জনে কিছু নিখাদ থিয়েটার প্রেমী তরুণ – তরুণীর মঞ্চসুখ দৃশ্যকল্প উপস্থিত দর্শকদের ভাবনা জারক রসে জারিত করেছে বলেই বিশ্বাস।  চুরি একটি শিল্প, যা বংশপরাম্পরার ঐতিহ্যকে আরো বিখ্যাত করার স্বপ্ন নিয়ে এক নতুন যাত্রা পথ অতিক্রম করতে সিঁদেল থেকে শার্দুল খোঁজে চোর বাঘা সর্দারের উত্তরসুরি সুকুমার । সে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনন্য চৌর্যদ্বারা জনমানসে একটি প্রভাব বিস্তার করতে চাই । যেকারণে সামাজিক স্তর বিন্যাসে সুকুমার এক সমীক্ষকের মন নিয়ে মনুষ্য সমাজে দরবার করে চুরির সামগ্রি নির্ধারণে! মানুষের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান উপাদান কি? কিন্তু বর্তমানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দূর্ণীতির রক্ত চুয়ে যে পদ্ধতির জন্ম সেখানে চোর একটি সাধারণ গবেষণার পাত্র থেকে হয়ে যায় মহামূল্যবান মগযাস্ত্র । ডাক্তার, পুলিশ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মন্ত্রী সবাই যে সুকুমারের অসাধারণ মগজের প্রতি আকৃষ্ট তা আসলে বাস্তবের আয়না । অভিনয়ের প্রতিবিম্বে থিয়েটার মঞ্চে আমরা নিজেদের মূখোশ কে মুখের সঙ্গে যাচাই করার সুযোগ পায়। অভিনয় ভাবনা ও মঞ্চে সেই ভাবনার স্বার্থক রূপায়নে অভিনেতা – অভিনেত্রীরা যে কতটা অমূল্য তার অনুভবও চোর্যবার্তা নাটকের আর এক উপজীব্য। সুকুমারের ভূমিকায় অতনু হর চৌধুরী মানানসই । তবে অভিনয়ে চোখ টানে সত্য চোরের ভূমিকায় সৌভিক ভট্টাচার্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্রীতি রায় । মন্ত্রীর ভূমিকায় সৌমেন নাগ ও পুলিশ জয়ন্ত গায়েন আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন চরিত্রকে বাস্তবায়িত করতে । কিছুটা কানে লাগে ব্যবসায়ী চম্পকের ভূমিকায় প্রভাত সরকারের উচ্চারণ ও ডাক্তারের ভুমিকায় রুশি মণ্ডলের শরীরি ভাষা । পায়েল বিশ্বাসের মঞ্চ ব্যবস্থাপনা ও সুজিত বোসের আলো নাটকের সঙ্গে দারুণ সঙ্গত করে । আবহ সংগীত সংযোজনে কৌস্তভ রায় যথাযত । শুধু বলার অভিনেতা অভিনেত্রীরা নাটক ও নাট্যভাবনার সঙ্গে বোধহয় একাত্ব হয়ে উঠতে পারেনি । যেকারণে পার্থ আচার্যের সময়োপযোগী গল্পের নাট্য নির্মাণ সার্থক থিয়েটার হয়ে পরিবেশিত হয়নি। তবে আশা করতেই পারি যতদিন যাবে চৌর্যবার্তা নাটকটি নিখুঁত সময়ের দলিল হয়ে উঠবে ।