Samokal Potrika

নদীর নাম গোমতী , এক সময় গোমতী নদীকে কুমিল্লার দুঃখ বলা হলেও । বর্তমানে তার চিত্র ভিন্ন ! এক সময় বর্ষা এলেই গোমতী নদীর পানী বৃদ্ধি পেত । এবং কৃষকের ফসলি জমির সব ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যেত । এবং নদীর উপর ব্রীজ কালবাট না থাকায় অথাবা আরো ভিবিন্ন করনেই কুমিল্লাবাসীর দুঃখ বলা হত গোমতী নদীকে । কিন্তু বর্তমানে গোমতী নদীকে গিরেই রয়েছে কুমিল্লাবাসীর অপার সম্ভবনা ।

বর্তমানে গোমতী নদীর দুই পারে নির্মান করা হয়েছে বেড়িবাঁধ সড়ক । যা আগে ছিলনা । যার ফলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েও কৃষকের ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে না । এবং গোমতী নদীর দুই প্রান্তে বেড়িবাঁধ সড়ক হবার পর থেকেই এই নদীতে আর কখনো বন্যা হয়নি । যদিও বর্তমানে গোমতী নদীর অবস্তা বেহাল ! 
গোমতী নদীর আগের রুপ আর এখন নেই ।

গোমতী নদীর প্রস্থ প্রায় ৬৫ মিটার ।  এবং এই নদীর মোট দৈর্ঘ ১৩৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদের ভাগে গোমতী নদীর অতিবাহিত করেছে প্রায় ৮৩ কিলোমিটার । এবং বাকী ৫২ কিলোমিটার রয়েছে আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারতের ভাগে । 
কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কটকাবাজার সীমান্ত থেকে দাউদকান্দি উপজেলার শাপটা পর্যন্ত ৮৩ কিলোমিটারের মধ্যে গোমতী নদীর উপর ১৮ টি ব্রীজ অথবা সেতু নির্মান করা হয়েছে ।  যার সুবাদে নদীর উভয় পারের মানুষের দৈন্দিন জীবনে সুফল বয়ে চলেছে । 
এবং বেড়িবাঁধ সড়কের ফলে নদী পারের মানুষেরা গোমতীর পানী সেচ কাজে ব্যাবহিত করে মাঠে মাঠে ফলাচ্ছে রবী শশী । 
বেড়িবাঁধ সড়ক ও ব্রীজ কালভাট হবার ফলে নদী পারের মানুষ গুলি জেলা শহর কুমিল্লা ও আশেপাশের অন্যান্য জেলা উপজেলা সহ সারা দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্তা চালু হয়েছে । 
গোমতী নদীর তীর ঘেঁসেই কয়েক লক্ষ মানুষের বসবাস এবং এই নদীকে ঘিরেই রয়েছে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান । 
কয়েক'শ জেলে পরিবার গোমতী নদীতে মাছ ধরে । এবং সেই মাছ নিকটস্ত বাজারে বিক্রি করে যে টাকা আসে সেই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলে । 
এক সময় গোমতী নদীতে প্রচুর পরিমানে  মাছ পাওয়া যেত । এবং গোমতীর মাছ দিয়েই সমস্ত  কুমিল্লা জেলার চাহিদা মেটাতো । বড় বড় বোয়াল, রুই, কাতল, শোল, কৈ, শিং, মাগুর, আইর, টাকি, টেংরা মাছ সহ আরো ভিবিন্ন মাছ পাওয়া যেত । এবং ছোট মাছের মধ্যে রয়েছে , মলা , ডেলা পুটি , কাচকি চিংড়ি সহ দেশীয়  সকল  মাছ পাওয়া যেত । 
কিন্তু কালের পরিবর্তে গোমতী নদীতে এখন আর আগের মতো  তেমন  মাছ পাওয়া যায় না । নানা কারণে গোমতী নদীতে মাছ কমে যাচ্ছে । বৈশাখ-জৈষ্ঠ্যমাসে গোমতী নদীতে কোথাও কোথাও চর দেখা যায় । ড্রেজিং করা হয় না বলে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এবং অবৈধ ভাবে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে । যার ফলে মাছের চারণক্ষেত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ।

এক নজরে গোমতী নদীঃ-
গোমতী নদীর মোট দৈর্ঘ্য ১৩৫ কিলোমিটার । এবং প্রস্থ প্রায় ৬৫ মিটার । উৎপত্তিস্থল ভারতের
ত্রিপুরা রাজ্যের অমরপুর, উদয়পুর, সোনাইমুড়ী নামক স্থানের পাহাড়িয়া এলাকায় । এটি বাংলাদেশ ও ভারতের  একটি আন্তঃসীমান্ত নদী । গোমতী নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে । কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কটকাবাজার সীমান্ত দিয়ে । এবং বাংলাদেশে এই নদীর মোট দৈর্ঘ্য ৮৩ কিলোমিটার ।  কুমিল্লা সদরসহ বুড়িচং, ব্রাক্ষ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলাসহ মোট ৭ টি উপজেলার বুক চিরে  দাউদকান্দি উপজেলার শাপটা নামক স্থানে গিয়ে মেঘনা নদীতে মিশে যায় । এবং সেখান থেকে মেঘনা গোমতী নদী নাম ধারন করে । এবং গোমতী নদীর গুরুত্বপূর্ণ উপনদীসমূহের একটি
ডাকাতিয়া এবং এর আরেকটি শাখা নদীর নাম বুড়ি ।
গোমতী তীব্র স্রোত সম্পন্ন একটি পার্বত্য নদী । কুমিল্লায় এর প্রবাহ মাত্রা ১০০ থেকে ২০,০০০ কিউসেক পর্যন্ত উঠানামা করে । নদীটির বর্ষাকালীন গড় প্রশস্ততা প্রায় ১০০ মিটার । এ সময়ে নদীটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে থাকে এবং স্রোতও হয় দ্রুতগতি সম্পন্ন । কিন্তু শীত মৌসুমে এর গতিধারা সংকীর্ণ হয়ে আসে এবং অধিকাংশ স্থানে হেঁটেই নদী পার হওয়া যায় ।

গোমতীর তীর ঘেঁসে ছোট বড় বেশ কয়েকটি বাজার গড়ে উঠেছে । বানাশুয়া  , গোবিন্দপুর , কাংশনগর , জাফরগঞ্জ , কোম্পানিগঞ্জ , মুরাগনগর , জাহাপুর , হরিপুর , আসমানিয়া , গৌরিপুর , লালপুর , ও দাউদকান্দি বাজার , গুলি  অন্যতম ও বিখ্যাত ।

গোমতী নদীর চারপাশ গাছপালা ও জীব ও বৈচিত্র্যে ভরপুর । বেড়িবাঁধ সড়কের দুই প্রান্তে ফলজ ও বনজ বৃক্ষের দারুন সমাহার । গাছ-পালা লতা-পাতা ও নানান পাখির কলরবে মুখরিত থাকে গোমতী নদীর দুই তীর । 
সরকারী  পৃষ্ঠপোষকতায় যদি গোমতী নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে । এবং ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনে । এবং সেই সাথে নদীর দুই প্রান্তের বেড়িবাঁধ সড়ক পাকা করে পর্যটকদের জন্য  রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট তৈরী কর হয় । তাহলেই কুমিল্লা জেলার প্রাণ কেন্দ্র গোমতী নদী পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠবে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বিনোদন  কেন্দ্র ।

সমাপ্ত ।।