Samokal Potrika

আমি জানালার ফাঁকে চোখ রেখে দেখলাম অসীম কাকুর সাথে মা আসছে।দু বছর আগে একবার এসেছিল মা'র প্রমোশন হলে,মায়ের মুখে তাঁর অনেক কথা শুনেছি।আজ এসেছে তবে পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে।পেশায় উকিল হলেও অসীম কাকুর হাতে বেশ কথা ছিল,যখন তখন দু চার লাইনের ছড়া বলে দিতে পারতো।মা বলতো আমার যখন অন্নপ্রাশন হয় তখন নাকি আমার নামে দুটো কবিতাও লিখেছিলেন।বাবা আমার নাম বলাকা রাখলেও মা সে নামে কখনো ডাকেনি বরং অসীম কাকুর দেওয়া টুকু  নাম বলেই ডাকতো।মা'র সব কিছুতেই বাবাকে নিয়ে খুত ছিল।আবার বলতো তারা নাকি পালিয়ে বিয়ে করছিল।অসীম কাকু আর মা বাল্যকালে এক স্কুলে পড়তো সেই থেকেই পরিচয়।বাবার যখন পঁয়ত্রিশ বছর তখন মা  সবে মাধ্যমিক দেবে।তখনি বাবা হুঠ করে বিয়ে করে।মা প্রায়শই বলতো তোর বাবা আমার চুল দেখে নাকি প্রেমে পড়েছিল।আমি বড় হওয়ার পর মা বাবাকে একসাথে হাসতে দেখিনি ভাবতাম কেমন করে প্রেম করে বিয়ে করল কে জানে!বাবার ছোট্ট একটা কোম্পানির চাকুরী ছিল,দু হাজার বিশ টাকা মাইনে। সেই টাকায় সংসার চলতো না,অভাব লেগেই থাকতো।মা-কে যে সব আশা দেখিয়ে বিয়ে করেছিল তার কোনোটিই বাবা পূরন করতে পারেনি।কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারদের সাথে হিসেব কষা নিয়ে গড়মিল হওয়ায় বাবা চাকুরীটা ক্ষয়ায়।তখন থেকে আর কারো গোলামি করেনি।জর্জকোর্টের মোড়ে একটা চা-য়ের দোকান দিয়েছে।মা-ওখানে সেখানে ঘুরে ঘুরে একটা প্রাইমারীর শিক্ষিকা পদে চাকুরী পায়।বেশ চলছিল কয়েক মাস।তবে অসীম কাকুর কথার জাল থেকে মা বেড়িয়ে আসতে পারেনি।মায়ের পিছনে লেগেই থাকতো।আর বাবার সাথে এখন তার সভা পায় না এসব কুতসা রটনা করতো।এ ও বলতো বাবার নাকি অন্য নারীর সাথে সম্পর্ক আছে।আর মা এ সব বিশ্বাস করতো।আমি যতোই বড়  হচ্ছিলাম, মা আর বাবার মাঝে দূরত্বটা ততোই বেড়ে যাচ্ছিল।বাড়বে না কেন!অসীম কাকু জীবনে বিয়েও করেনি তাই ওকালতি করে যা কামাত তার সবটাই মা-কে শাড়ী গহনাগাঁটি দামি হোটেলে খাওয়াতো।বাবা স্বচক্ষে এইসব দেখতে পেতো না।মা-প্রায়শই বাবাকে গালাগালি করতো। বিশ্রী ভাষায় দুজনেই দুজনকে গালি দিতো।আমি বালিশে কান বন্ধ করে না শোনার চেষ্টা করতাম।মাঝেমাঝে মা- বাবার রাগটা আমার পিঠে দুড়দাড় করে দিতো। আমি যেনো পরিবারের একটা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।আমাকে নিয়ে এক সময় বাবাও অসীম কাকুর নাম তুলতো।আমি সব বুঝেও নির্বাক শিশু।এইভাবে প্রতিদিন ঝগড়া বাবাকে একদিন পশুতে পরিনত করলো।হঠাত করে দেখলাম বাবা দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে হাজির।মা-কোনো প্রতিবাদ ও করলো না একফোঁটা জলও ফেলল না।আমি একটু একটু করে পায়ের আঙুলগুলোকে মেলাতে লাগলাম।বেশ কয়েকদিন হল মা বাড়িতে আসে না।লোক মুখে শুনলাম অসীম কাকুর সাথে নাকি মা'র পুরানো প্রেম জেগে ওঠেছে।একদিন তাই সত্যি হলো। আজ মা অসীম কাকুকে নিয়ে এসেছে  আমাকে নিয়ে ভাগাভাগি করবে।কে কতো দিন আমাকে লালনপালন করবে।কে আমাকে প্রতিমাসে হাত খরচ কতো দেবে।কে দেবে পুজো আসলে কতো টাকার জিনিসপত্র।আমি  বাবার দিকে একবার মা'র দিকে একবার তাকালাম।তারপর বেশ কয়েক ঢোক গিলে ফেললাম ড্রোরে রাখা পয়জন।তারপর কি হয়েছিল ঈশ্বর ছাড়া বোধ করি কেউ দেখেনি।