Samokal Potrika

চারিদিকে যুবতী মেয়েরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ গান গাইছে। একজনকে হঠাৎ দেখলো হাতের তালুতে আঙুল দিয়ে কি সব করছে, ঠিক যে ভাবে আমরা মোবাইলের বাটন টেপাটিপি করি। রজত আর কৌতূহল সামলাতে না পেরে সোজা মেয়েটির কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলো-

-   আপনি এটা কি করছেন?

-   ফেসবুক চ্যাট করছি।

-   কার সাথে?

-   আরে আমি তিনজনকে একসাথে ফেসবুকে ফাঁসিয়েছিলাম। দিনে বারো ঘণ্টা   চ্যাট করতাম, তাই অভ্যাস হয়ে গেছে।

-   তা এত কম বয়সে এখানে?

-   আর বলবেন না দাদা। কানে সব সময় ইয়ার ফোন থাকতো আর হাতে ফেসবুক। আশেপাশে কোথায় কি হচ্ছে কোনোদিকে হুঁশ থাকতো না। সবসময় ইয়ার ফোনে গান আর ফেসবুক চ্যাট। সায়েন্স সিটির কাছে বাস থেকে নামলাম, তখনও চ্যাট করছি, কানে ইয়ার ফোন, উল্টো দিক থেকে আসা একটা বাসের হর্ন শুনতে পাই নি, আর বাসটা পিষে দিয়ে চলে গেল আমাকে।

-   ইসস, সো স্যাড, এত কম বয়সে... ঠিক আছে, তুমি চ্যাট চালিয়ে যাও, আমি একটু অন্য দিক গুলো দেখে আসি।

-   বাই, সি ইউ ল্যাটার।

এদিক সেদিক ঘুরে ঘুরে সব দেখতে লাগলো, হঠাৎ...

-   আরে অনন্যা দি না?

-   আরে রজত, তুমি এখানে?

-   আর বলো না, কেউ কি আর সখ করে এখানে আসে। ব্যাটা যমরাজের  শাকরেদ আমাকে ভুল করে এখানে তুলে এনেছে।

-   ও আচ্ছা।

-   আচ্ছা তুমি হঠাৎ সুইসাইড করলে কেন?

-   আর বলো না ভাই। তোমাকে এসব কথা কি করে বলি। রাজার একটা মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বহুবার ওকে বলেছিলাম ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে। কিন্তু কোনও কাজ হয় নি। মাঝে ওর সাথে গিয়ে রাতে থাকতো। এমন একটা বাড়াবাড়ির পর্যায় চলে গেল আমি আর সহ্য করতে পারলাম না, শেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলাম।

-   তোমাকে শ্মশানে পুড়িয়ে আসার পর আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। রাজা দা তো দেখি ওই মহিলার সাথেই থাকে এখন।

-   যাক গে বাদ দাও ওসব কথা। তুমি মর্ত্যে ফিরছো কবে?

-   এই তো একটু স্বর্গলোকটা ভালোভাবে দেখে নিয়ে ফিরবো। আচ্ছা দিদি আজ চলি, একটু আশপাশটা ঘুরে দেখে আসি।

হাঁটতে হাঁটতে রজত হঠাৎ দেখল একজন কম বয়সী মহিলা উদাস নয়নে বসে রয়েছে। রজত তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো-

-   আপনার কেসটা কি?

-   আর বলবেন না, সবে ন মাস বিয়ে হয়েছিল। শুরু থেকেই শ্বশুর বাড়ীর অত্যাচার। এই টাকা চাই, এটা চাই, ওটা চাই- আমি না আনলেই মারধোর করতো। ক্রমশ অত্যাচার বাড়তে লাগলো। আমি সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলাম

-   উফ, সো স্যাড...ঠিক আছে আমি এখন চলি।

এই বলে রজত আবার হাঁটা লাগালো। হঠাৎ এক মাঝ বয়সী মহিলাকে দেখতে পেল। দেখেই রজত এগিয়ে গেল আলাপ করবে বলে।

-   এত কম বয়সে আপনি এখানে?

-   আর বলবেন না, কেউ কি আর সখ করে এখানে আসে। আমরা তিন জন- মানে আমি, আমার স্বামী আর আমার সাত বছরের ছেলে অভি কোনা এক্সপ্রেস হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি করে যাচ্ছিলাম। আমার স্বামীই ড্রাইভ করছিল। একটা ট্রাক এসে পেছন থেকে আমাদের গাড়িকে ধাক্কা মারল আর আমরা তিনজনেই ওই দুর্ঘটনায় মারা গেলাম। কিন্তু স্বর্গে ওরা দুজনে আলাদা আলাদা জায়গায় আছে। কারুর সাথেই যোগাযোগ করতে পারছি না, তাই একটু মনটা খারাপ।

-   ইসস, পথ দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটাই মারা গেল। খুব কষ্ট লাগছে। ঠিক আছে মন খারাপ করবেন না। দেখছি কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে। আচ্ছা আপনার আর আপনার স্বামীর নাম ঠিকানা আর মৃত্যুর দিনটা একটু বলুন, আমি লিখে নি। চিতু দাদুকে দেখালে আপনার স্বামী আর ছেলের খোঁজ নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে।

-   আমার নাম স্বাতী সেন, স্বামী সমীর সেন, ছেলে অভিরুপ সেন, স্বামী ৪২, আমি ৩৮ আর অভি ৭। আমরা মারা যাই ৭ নভেম্বর, ২০১৭।

-    ঠিক আছে, এতেই হবে, আর আপনার একটা ছবি তুলে নি, স্মাইল প্লিজ। ব্যস, ছবি তোলা হয়ে গেছে। এখন তাহলে চলি, একটু কাজ আছে।

রজত চারিদিকটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো। চারিদিকে যুবতী মেয়েরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। চারিদিকে নানান রঙের ফুল ফুটে আছে। রজত একটি ফুল গাছের নীচে দাঁড়িয়ে ফুলগুলি দেখছে আর গন্ধ শুঁকছে। হঠাৎ রজতের পিঠে কেউ যেন হালকা টোকা মারলো। রজত তো একটু চমকেই গেলো। এই স্বর্গে কে আবার তার পিঠে টোকা মারছে। ঘাড় ঘুরিয়েই দেখে অনিন্দিতা…

-   What a surprise! অনু, তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমি তো  ভাবতেই পারি নি।

-   আমিও কি ভাবতে পেরেছি তোমাকে এখানে দেখতে পাবো! তা তোমার কি হয়েছিলো, মানে কি ভাবে মারা গেলে তুমি?

-   আরে আমি এখনও মরি নি গো, দিব্যি বেঁচে আছি। সৌভাগ্যক্রমে জীবিত অবস্থাতেই কিছুদিন স্বর্গ ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে গেলাম, তাই কদিন এখানে ছুটি কাটাচ্ছি, হা হা।

-   তুমি যে কি বলছো কিছুই মাথায় ঢুকছে না।

-   যাক গে ওসব তোমায় পরে বুঝিয়ে বলবো। চলো ওই ফুল গাছটার পাশে বেঞ্চিতে গিয়ে একটু বসি, কতদিন তোমার সাথে কথা হয় নি।

-   আচ্ছা চলো, তাহলে ওখানে বসেই তোমার সাথে একটু গল্প করি।

-   সেই 8B বাস স্ট্যান্ডে তোমার সাথে প্রথম আলাপ। রোজ সকাল সাড়ে নটায় তোমার সাথে দেখা হত। রোজ পাশাপাশি সিটে বসে অফিস যাবার পথে কত গল্প হত বল তো।

-   হ্যাঁ, ঠিক বলেছো, কেউ একদিন না এলেই ফোন, শরীর খারাপ হল কি না খোঁজ খবর। তারপর বিশু দার চায়ের দোকান, ওই বিহারির দোকানে দাঁড়িয়ে শিঙারা, জিলিপি খাওয়া, উফ, কত স্মৃতি বল… হ্যাঁ গো ওই ঊর্মি, বিকাশ দা, অর্ণব দা, রাজু, সুস্মিতা ওরা সবাই ভালো আছে তো?

-   হ্যাঁ, সবাই ভালো আছে। রোজই সকালে বাস স্ট্যান্ডে ওদের সাথে দেখা হয়, তবে বেশী কথা হয় না। আসলে তুমি মারা যাবার পর থেকে স্ট্যান্ডে কারুর সাথেই তেমন একটা কথা বলি না। জানো, তোমাকে খুব মিস করি। তখন ডেঙ্গির প্রকোপে আমাদের ওখানেও বেশ কয়েকজন মারা গেছিলো।

-   আরে আমাদের পাড়াতে আমি আর একজন বয়স্ক লোক ডেঙ্গিতে মারা গেলাম।

-   হুম, খুব কষ্ট লাগে আমার। তুমি এত কম বয়সে মারা গেলে।

-   যাক গে, দুঃখ করো না, সাবধানে থেকো। মশারি টাঙ্গিয়ে শোবে। এই তোমার বৌ কেমন আছে?

-   ভালোই আছে।

-   তুমি কদিন আছো এখানে?

-   দেখি, অনেকদিনই হয়ে গেলো, বাড়িতে বৌও চিন্তা করছে। আরও কয়েকদিন কাটিয়ে যাবার ইচ্ছে আছে। তবে যে কদিন থাকবো রোজ সকালে তোমার সাথে এখানে এসে দেখা করবো।

-   হ্যাঁ ঠিক আছে। রোজ সকালে ১০ টা নাগাদ চলে এসো। পকেটে ‘তুমি’ চকলেট আছে নাকি? আমাকে তো রোজ বাসে উঠেই একটা করে ‘তুমি’ চকলেট খাওয়াতে।

-   হা হা, আমি কি আর জানতাম তোমার সাথে এই স্বর্গে এসেও আবার দেখা হবে? যাক গে স্বর্গে এসে ক্ষতি কিছু হয় নি। তোমার সাথে আবার দেখা হল, কি বল?

-   তা ঠিক, এই স্বর্গে যে তোমার সাথে যে আবার দেখা হবে আমিও তো কখনও ভাবি নি।

-   ঠিক আছে, আজ তাহলে উঠি, কাল আবার দেখা হবে।

-   ঠিক আছে রজত দা, টাটা

-   বাই।    

অনুর দেখা পেয়ে রজতের মনটা বেশ ভালো হয়ে গেলো। সোজা সেখান থেকে বাড়ী ফিরে গেল।   

পরের দিন আবার দেবরাজ ইন্দ্রের সভায় গিয়ে হাজির।

-   থাঙ্ক ইউ স্যার।

-   কেন বৎস?

-   স্বর্গ আর স্বপ্নিল আলয়ে ঘুরে বেড়াতে হেব্বি লাগছে। কি সুন্দর প্রকৃতি,  মর্ত্যে আর ফিরতেই ইচ্ছে করছে না। তবে বউ আছে তো। তাই মর্ত্যে তো ফিরতেই হবে। তাই একটা অনুরোধ ছিল স্যার।

-   এত বিনয় করছ কেন? বলেই ফেল।

-   বলছি স্যার আমি মর্ত্যে ফিরে গেলে আমার রুমটা লক অ্যান্ড কি করে যাবো ভাবছি। বছরে একবার বউকে নিয়ে ঘুরতে আসবো। বউয়েরও খুব পছন্দ হবে।  

-   হা হা...তুমি সত্যি খুব ছেলেমানুষ। জীবিত মানুষের স্বর্গে আসার অনুমতি নেই। একমাত্র তুমি যদি প্রচুর পুণ্যি অর্জন কর, তবেই মৃত্যুর পর স্বর্গে আসতে পারবে। তবে মৃত্যু হলেই যে টপ করে স্বর্গে এসে পড়বে তা নয়।  মৃত্যুর পরেও তোমাকে বহুদিন যমলোকে অপেক্ষা করতে হবে। অনলাইনে নাম রেজিস্ট্রি করাতে হবে। কয়েক লক্ষ ফর্ম জমা পড়েছে, ওই চিতু সেগুলো আপডেট করছে একে একে।

-   ও, তাহলে এখন আর ঘুরতে আসা হবে না, তাই না। ঠিক আছে, আমি পাপ খুব একটা করি না, আমার জীবনে পুণ্যটাই বেশী। তাই মৃত্যুর পর স্বর্গে আসাটা মোটামুটি কনফার্ম। তবে এই রুমটাই রেখে দেবেন আমার জন্য। সব কিছু ঠিকই আছে। শুধু আমার স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বর্গে এসে যেন আমার সাথে থাকতে পারে, সেই ব্যবস্থাটা একটু করে দেবেন স্যার। আর তখন একটা ডবল বেড লাগবে, আর টয়েলেটটা আর একটু মডার্ন করে দিতে হবে। যাক গে সে এখনও তিরিশ চল্লিশ বছর পরের কথা, এগুলো নিয়ে পরে ভাবলেও চলবে। বেশ কিছুদিন হল যমলোকে যাওয়া হয় নি, যম দাদুর সাথে অনেক দিন দেখা হয় নি, তাই ভাবছি কাল একটু যমলোক থেকে ঘুরে আসবো।

-   তা যাও না, একটু ওদের সাথেও দেখা করে এসো।

 

রজত আবার পরের দিন যম লোকে গিয়ে হাজির।

-   যম দাদু সব কুশল তো?

-   হ্যাঁ বৎস, সব কুশল, তোমার খবর কি? দেবলোক কেমন লাগছে? 

-   উফ, দারুণ, এমন সুন্দর জায়গা আমি আমি আগে কখনও দেখি নি। সব দেবতারা ভীষণ ভালো। তবে সকলের সাথে এখনও আলাপ হয় নি। আচ্ছা আমার বৌকে আর একটা চিঠি পাঠাতে হবে। এত দিন হয়ে গেলো কোনও যোগাযোগ করতে পারছে না, নিশ্চয়ই চিন্তা করছে।

-   তা বেশ তো তুমি একটা চিঠি লিখে দিও আবার। ওরা তো রোজই মর্ত্যে যাচ্ছে, আর তোমার বাড়ীও তো চিনে এসেছে, ওরা গিয়ে চিঠিটা ডাকবাক্সে ফেলে আসবে।

-   আচ্ছা, তাহলে একটু কাগজ কলম দিন, আমি তাহলে এখনই লিখে দিই।

-   এই নাও বৎস।

-   ধন্যবাদ প্রভু, আমি এখনই লিখে ফেলছি… এই নিন প্রভু, লেখা হয়ে গেছে।

-   দাও দাও, আমি ওদের দিয়ে দেবো।

-   অনেক ধন্যবাদ স্যার, আপনি খুব ভালো। আচ্ছা চিতু দাদু কই?

-   ও চিতু? ও তো ওর কাজে ব্যস্ত আছে। আজ কাদের মর্ত্য থেকে তুলবে  তার লিস্ট মনে হয় রেডি হয়ে গেছে। এখন চ্যালাদের হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ পাঠাচ্ছে মনে হয়। যাও না ওর সাথে দেখা করার ইচ্ছে হলে ওর ঘরে চলে যাও, ওখানেই ওর দেখা পাবে।

-   ঠিক আছে। তাহলে চিতু দাদুর সাথে একটু দেখা করে আসি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজও আছে। কিছু নিয়ম কানুন পালটে দিয়ে যাবো। যাই তাহলে দেখা করে আসি।

-   আচ্ছা, যাও বৎস।

 

-   চিতু দাদু, ভেতরে আসতে পারি?

 

-   চিতু দাদু, ভেতরে আসতে পারি? (আর একটু চেঁচিয়ে)

 

-   কে বাছা?

 

-   আমি রজত, এখনও জীবিত, তবে আপনার দয়ায় এখানে কিছুদিন ট্যুরে আছি।

 

-   ও এসো, এসো... বসো।

 

-   ধন্যবাদ, আপনার আজকের কাজ শেষ? মানে আজকের লিস্ট চ্যালাদের পাঠিয়ে দিয়েছেন?

 

-   একটু জোরে বলবে বাছা, বয়স হয়েছে তো কানে একটু কম শুনি।

 

-   হ্যাঁ, সে তো বুঝতেই পারছি, বলছি আজকের সব কাজ শেষ? (চেঁচিয়ে)

 

-   হ্যাঁ, আজকের লিস্ট পাঠিয়ে দিয়েছি।

 

-   তা আজ আবার কোনও কেলো করেন নি তো?

 

-   মেলো কি বাছা?

 

-   উফ, মেলো নয়, কেলো, মানে হোয়াটস অ্যাপে কোনও গণ্ডগোল পাকান নি তো?

 

-   না না, এখন কি আর ফুটবল খেলার বয়স আছে। দেখো না বাছা দুটো হাঁটু তে দুটো অশ্বত্থ গাছ জন্মেছে, বহু বছর হয়ে গেলো। যতই ভেঙে দি, আবার হয়। তাই হাঁটতে একটু কষ্ট হয়। 

উফ, এ বুড়ো তো ধান বললে কান শোনে, এর সাথে চেঁচিয়েই কথা বলতে হবে দেখছি। আবার হাঁটুতে অশ্বত্থ গাছ গজিয়ে গেছে, বুড়োর বয়সের গাছ পাথর নেই।

-   বলছি জাবদা খাতায় পাতা আছে তো?

-   উফ, এত চেঁচাচ্ছো কেন বাছা, আমি কি কালা নাকি? হ্যাঁ আছে তো।

-   তবে খাতাটা নিয়ে আসুন একবার, কিছু নিয়ম কানুন পাল্টাতে হবে।

-   দাঁড়াও বাছা, আনছি।

-   এবার চটপট আমি যা যা বলছি লিখে ফেলুন-

-   বলো, বলো... 

-   পয়েন্টগুলো বলছি সিরিয়ালি লিখে যান-

সত্তরের আগে লোক মারা চলবে না।

অপঘাত একদম বন্ধ করে দিতে হবে।

পথে ঘাটে দেখি কত বয়স্ক মানুষ, ভিখারি কষ্ট পাচ্ছে, তাঁদের কষ্ট করে বাঁচিয়ে রাখার তো কোনও মানে হয় না। তাই ওঁদের তুলে নিতে হবে এবং স্বর্গে জায়গা দিতে হবে। কারণ তাঁরা কোনও পাপ করে নি, মর্ত্যে অনেক কষ্ট করেছে। তাই স্বর্গে তাঁদের একটু সুখ ভোগের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

বহু ক্যান্সার রোগী শেষ অবস্থায় খুব কষ্ট পায়। তাই তাঁদের যন্ত্রণা কমানোর জন্য তাঁদের ক্রিটিকাল স্টেজে যাবার আগেই মেরে ফেলতে হবে। এ যন্ত্রণা চোখে  দেখা যায় না। এ ক্ষেত্রে বয়সটা কোনও ফ্যাক্টর নয়। কম বয়সী হলে তাঁদের পুনর্জন্মের ব্যবস্থা করে দিতে হবে... কি লিখছেন তো সব ঠিকঠাক?

-   হ্যাঁ বাছা, একদম যেমন বলছো, ঠিক তেমন।

-   আচ্ছা, ঠিক আছে লিখে যান... নেক্সট

এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ভালো করে শুনুন, তারপর লিখুন...

এখন মর্ত্যে ‘ভেন্টিলেশান’ টা এখন খুব চলছে। মরা লোককে ভেন্টিলেশানে ঢুকিয়ে কিছু অসাধু চিকিৎসা ব্যবসায়ী রোগীর আত্মীয় স্বজনদের পথে বসাচ্ছে। তাই রোগীকে ভেন্টিলেশানে ঢোকানোর আগেই তুলে নিন। আর যারা এই ভেন্টিলেশান নিয়ে ব্যবসা করছে তাঁদের পক্ষঘাত কিমবা কোমাতে পাঠিয়ে দিন। বছর কুড়ি ওই অবস্থায় থাকার পর তুলে নিয়ে সোজা নরকে চালান করে দিন... ঠিক করে লিখেছেন তো সব? খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কিন্তু।

-   হ্যাঁ বাছা, একদম যেমন বলছো তেমন লিখছি। তুমি খুব বুদ্ধিমান, তোমার কথাগুলো খুব যুক্তিপূর্ণ। আমার খুব ভালো লাগছে। আমি যমবাবুর সাথে এই নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করি তিনিও খুব খুশী হবেন।

-   হুম, আর একটা ব্যাপারে আমার নালিশ আছে। ভালো মানুষদের আপনারা কেন আগে তুলে নেন। এসব চলবে না আর। চোর, গুন্ডা, বদমাইশে দেশটা ভরে গেলো। ওদের পক্ষাঘাতে বিছানায় শুইয়ে রাখুন। খুব কষ্ট দিয়ে তারপর তুলে সোজা নরকে চালান করে দিন।

আর একটা ব্যাপারে আপনারা ডাহা ফেল। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আপনারা যাকে তাকে তুলে নিচ্ছেন। ঝড়, বৃষ্টি, বন্যাতে কত মানুষকে মেরে ফেলছেন এটা চলবে না। এটা নিয়ে আপনাদের একটু ভাবতে হবে। ধরুন ঝড়ে কারুর মাথার ওপর কিছু ভেঙে পড়ার আগে তাকে উড়িয়ে একটি গাছের ডালে তুলে দিতে হবে। বা কেউ বন্যার জলে ভেসে যাচ্ছে, তার সামনে এমন একটা কিছু পাঠিয়ে দিতে হবে যাতে সে তার ওপর ভেসে নিজের প্রাণ রক্ষা করতে পারে... এইরকম আর কি... সব আমি বলে দেবো না, এটা আপনারা মিটিং ডেকে ঠিক করবেন। মোট কথা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মানুষ মারা চলবে না।

-   আহা বাছা তোমার কথা শুনে আমার মন ভরে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি নিশ্চয়ই আসা প্রয়োজন।

-   হ্যাঁ, এই পয়েন্টগুলো ভালো করে নোট করে রাখুন। আমি চলে যাবার পর যেন এভাবেই কাজকর্মগুলো হয়। ও আর একটা পয়েন্ট ভুলে গিয়েছিলাম। ডেঙ্গিতে আর লোক মারা চলবে না। এমন করতে হবে ডেঙ্গির মশা  কামড়াতে এলেই, মানে যেই হুল ফোটাতে যাবে, লোকের কোনও ক্ষতি হবে না, ওদের হুল পট করে ভেঙে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই তারা আর মানুষের রক্ত খেতে পারবে না, দুষ্টু মশাগুলো অনাহারে মরে যাবে।

-   ঠিক আছে, তোমার যখন ইচ্ছে, তাই হবে।

-   ঠিক আছে চিতু দাদু। আজ অনেকক্ষণ আপনার সাথে কথা হল। আবার পরে একদিন এসে গল্প করবো। ও আর একটা ব্যাপার- আমার মৃত্যুর দিন  ক্ষণ আমিই ঠিক করে দিয়ে যাবো। কিভাবে মরবো সেটাও বলে যাবো  আপনাকে। তবে আজ নয়, আমি যাবার আগে সব বলে যাবো, সব লিখে রাখবেন।  

-   আচ্ছা, তুমি যেমনটি চাইবে তেমনটি হবে। তোমার সাথে কথা বলে আমারও খুব ভালো লাগলো। আবার এসো একদিন।

-   ও আর একটা কাজ আছে। বলছি আপনার ব্লু টুথ আছে?

-   কি টুথ?

-   ব্লু টুথ।

-   টুথ মানে দাঁত তো? না বাছা, অনেকগুলো পড়ে গেছে।

-   উফ, কার পাল্লায় পড়লাম। আপনার টুথ নয়, আপনার মোবাইলটা একটু দেখি।

-   এই নাও বাছা।

রজত ব্লু টুথ দিয়ে স্বাতীর ছবিটা চিতু দাদুর মোবাইলে সেন্ড করে দিল।

-   একটা ছবি পাঠালাম, দেখুন ভালো করে। এই মহিলা, তার স্বামী এবং ছেলে দুর্ঘটনায় মারা যায় গত ৭ নভেম্বর, ২০১৭। খাতাটা একবার দিন ওদের সব ডিটেলস লিখে দিয়ে যাচ্ছি। ওর স্বামী ও ছেলে কোথায় আছে খোঁজ খবর নিয়ে আমাকে পরে জানাবেন।

-   আচ্ছা বাছা, আমি সব খোঁজ খবর নিয়ে রাখবো।

-   ধন্যবাদ, আজ তাহলে চলি।

একবার যমরাজের সাথে দেখা করে রজত বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হল। বাড়ী ফিরেই খুব খিদে পেয়ে গেছে রজতের-

-   বাবা পরাশর, আজ কি রাঁধলে?

-   আজ্ঞে, মাছের মাথা দিয়ে মুগ ডাল, আলু ভাজা আর কাতলার কালিয়া।

-   বাহ, এতেই হবে। আমি একটু সরোবর থেকে স্নানটা সেরে আসি। খুব খিদে পেয়ে গেছে।

-   হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি স্নান সেরে ফিরে আসুন।

এদিকে সরোবরে গিয়ে রজত দেখলো অনেক সুন্দরী রমণী সেখানে স্নান করছে। সবাই ভিজে কাপড়ে দাঁড়িয়ে আছে। রজতকে দেখেই তারা একটু লজ্জা পেয়ে গেলো। রজত তাদের জিজ্ঞাসা করলো-

-   তোমরা কে গো?

-   আমরা স্বর্গের অপ্সরা।

-   আহা, কি সুন্দর রূপ তোমাদের, যেমন গায়ের বর্ণ, তেমন নাক, চোখ, মুখ। আহা, দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

-   কিন্তু তুমি এখানে এসেছো কেন?

-   আজ একটু সরোবরে স্নান করতে ইচ্ছে হল, তাই।

-   কিন্তু এ সরোবরে পুরুষদের স্নান করার অনুমতি নেই, তুমি কি জানো না?

-   না, আসলে আমি এখানে নতুন, একটু ট্যুরে এসেছি, কদিন বাদেই মর্তে ফিরে যাবো। তবে সে অনেক কথা। এখন বলতে গেলে অনেক সময় লাগবে। আমার খুব খিদেও পেয়েছে। তাই তোমরা একটু আমাকে স্নান করতে দাও। কয়েকটা ডুব দিয়েই চলে যাবো।

-   আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি নতুন এসেছো তাই তোমাকে স্নান করতে দিলাম। কিন্তু আর এখানে এসো না কিন্তু। দেবরাজ ইন্দ্রের কানে গেলে খুব রেগে যাবেন।

-   না না আর আসবো না।

 

এই বলেই কয়েকটা ডুব দিয়েই রজত বাড়ী ফিরে গেলো। দুপুরের আহারও বেশ জম্পেশ হল। তারপর টানা দু ঘণ্টা ঘুম দিয়ে উঠলো। শরীর একদম চাঙ্গা। বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে দেবরাজ ইন্দ্রের সভায় গিয়ে হাজির।

-   নমস্কার প্রভু।

-   আরে এসো বৎস, সব কুশল তো?

-   হ্যাঁ, খুব ভালো আছি। কাল থেকে ভাবছি নাচের ট্রেনিংটা শুরু করবো।

-   কোন নাচ?

-   আরে সেই বলেছিলাম না, লুঙ্গি ডান্স, যেটা মর্ত্যে খুব হিট হয়েছিল।

-   ও হ্যাঁ, হ্যাঁ। তা বেশ তো। কাল থেকেই শুরু করে দাও।

-   আমি গানটা একটু গেয়ে শোনাবো?

-   হা হা… বেশ তো, তোমার যখন ইচ্ছে শোনাও, গানটা শুনে দেখি কেমন।

-   আচ্ছা শুনুন তাহলে…

 

মুছো কো থোডা রাউন্ড ঘুমাকে

আন্না কে য্যায়সা চশমা লাগাকে

কোকোনাট মে লস্যি মিলাকে

আজাও সারে মুড বানাকে

মুছো কো থোডা রাউন্ড ঘুমাকে

আন্না কে য্যায়সা চশমা লাগাকে

কোকোনাট মে লস্যি মিলাকে

আজাও সারে মুড বানাকে

 

অল দ্য রজনি ফ্যানস

ডোন্ট মিস দ্য চান্স

অল দ্য রজনি ফ্যানস

ডোন্ট মিস দ্য চান্স

 

লুঙ্গি ড্যান্স লুঙ্গি ড্যান্স

লুঙ্গি ড্যান্স লুঙ্গি ড্যান্স

লুঙ্গি ড্যান্স লুঙ্গি ড্যান্স

লুঙ্গি ড্যান্স লুঙ্গি ড্যান্স

লুঙ্গি ড্যান্স লুঙ্গি ড্যান্স

লুঙ্গি ড্যান্স লুঙ্গি ড্যান্স

লুঙ্গি ড্যান্স লুঙ্গি ড্যান্স

লুঙ্গি ড্যান্স লুঙ্গি ড্যান্স

 

-   বাপ রে, এরকম গান তো এর আগে কখনও শুনি নি বৎস, আমি তো বসে বসেই নেচে উঠছিলাম। এ তো দারুণ নাচের গান বৎস। নাচটা কাল আমিও শিখবো।

-   আমার মোবাইলে গানটা লোড করা আছে প্রভু, ওটা শুনলে আরও ভালো লাগবে, উইথ মিউজিক।

-   এক রকম নাচ দেখতে দেখতে সত্যি একঘেয়ে হয়ে গেছে। ওদের ভালো করে শিখে নিতে বলবো। মাঝে মাঝে এই নাচটা হবে।

-   তবে সহকারী ডান্সারদের জন্য লুঙ্গি লাগবে, আর একটা ডাব, একটা সানগ্লাস, একটা হ্যাট আর এক গ্লাস লস্যি।

-   ঠিক আছে সব পেয়ে যাবে তুমি।

-   ঠিক আছে কাল বিকেল ৫ টা থেকে ট্রেনিং শুরু হবে, কয়েকদিন একটু প্রাকটিস করলেই হয়ে যাবে। আমি সব স্টেপ শিখিয়ে দেবো। 

-   ঠিক আছে বৎস তাই হবে।

-   প্রভু খুব খিদে পেয়েছে, কিছু পাওয়া যাবে এখানে?

-   আরে হ্যাঁ, নিশ্চয়ই পাবে। স্বর্গের একটি বিশেষ ফুলের পরাগ রেণু থেকে পায়েস তৈরি হয় এখানে। একবার খেলে বার বার খেতে ইচ্ছে করবে।

-   ঠিক আছে, দেখি তো টেস্ট করে, কেমন খেতে।

পায়েস এসে গেলো। রজত ওই পায়েস খেয়ে তো অভিভূত। সত্যি স্বর্গীয় স্বাদ। এমন পায়েস সে জীবনে খায় নি। দেবরাজ ইন্দ্রের সাথে কথাবার্তা বলে রজত  বাড়ী ফিরে গেলো। বাড়ী গিয়ে লুঙ্গি ডান্সের ভিডিওটা বেশ কয়েকবার দেখে নাচটা একটু প্রাকটিস করে নিল। কাল আবার সকালে গিয়ে শেখাতে হবে তো।

রজতের একটি জিনিস নজরে পড়লো। স্বর্গে চার্জার লাগছে না, অটোমেটিক চার্জ হয়ে যাচ্ছে। এটা বেশ মজার।   

পরের দিন সকালে রজত যথারীতি স্বপ্নিল আলয়ের বাগানে চলে গেলো অনুর সাথে দেখা করতে। অনুও সেই বেঞ্চিতেই বসে ছিল, রজতের জন্য অপেক্ষা করছিল। দুজনে মিলে অনেকক্ষণ গল্প করলো। রজতের খুব ইচ্ছে ওর বাড়িতে অনুকে একদিন নেমন্তন্ন করে খাওয়াবে। কথাটা অনুকে বলেই ফেললো, অনুও রাজী হয়ে গেলো।

-   তুমি কি খেতে ভালোবাসো বল অনু, তাহলে আমি সেইরকম বাজার করবো।

-   আমি সব খাই রজত দা। কিন্তু তুমি কি করে বাজার করো?

-   আরে চিতু দাদুর চ্যালারা তো রোজ মর্ত্যে যায়। ওদের বলে দি, আর ওরা সব নিয়ে আসে।

-   অ আচ্ছা, মাছ মাংসও খাও নাকি?

-   হ্যাঁ, সব খাই।

-   এ বাবা, স্বর্গে তো এসব নিষেধ।

-   দূর, ছাড়ো তো, আমি তো আর নিজে থেকে এখানে আসতে চাই নি, ওরাই ভুল করে আমাকে নিয়ে এসেছে, তাই এখন আমার কথা মতই ওদের চলতে হবে।

-   হা হা ভালো বলেছো। তাহলে এক কাজ করো একটু পমফ্রেট আর গলদা  চিংড়ি আনতে বল ওদের। অনেক দিন খাই নি।

-   ঠিক আছে, আজ তো আর হবে না। ওরা চলে গেছে। কাল সকালে ওদের আনতে বলে দেবো। ওদের ফিরতে রাত হয়ে যায়। তাই পরশু দুপুরে তুমি তাহলে আমার বাড়িতে খেও। 

-   আচ্ছা ঠিক আছে তাই হবে।

-   পরশু সকালে এখানে এসে তাহলে তোমাকে নিয়ে যাবো। আজ তাহলে উঠি। তোমার সাথে কথা বললেই মনটা খুব ভালো হয়ে যায়। 

-   হ্যাঁ গো, আমারও।

-   ঠিক আছে, আজ তাহলে আসি।

-   হ্যাঁ, সাবধানে যেও।

স্বর্গে বেশ কয়েকদিন হয়ে গেলো... রজত এখান ওখান মনের সুখে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখানে এসে পুরনো বান্ধবী অনুর সাথেও দেখা হয়ে গেলো, রোজ স্বপ্নিল আলয়ে তার সাথে দেখা হচ্ছে, তাকে নেমন্তন্ন করে খাওয়ানো হয়ে গেলো। অনুও  পুরনো বন্ধুকে পেয়ে খুব খুশী। ওদিকে দেবরাজ ইন্দ্রের সভায় লুঙ্গি ডান্সের তালিমও শুরু হয়ে গেছে। সকলে খুব উৎসাহ সহকারে নাচটা শিখছে। দেবরাজও মাঝে মাঝে একটু পা মেলাচ্ছেন। এভাবে স্বর্গের দিনগুলো বেশ ভালোই কাটছে।

রজত এবার দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে নতুন বায়না ধরেছে-

-   প্রভু, স্বর্গে যখন এসেই পড়েছি মায়ের সাথে দেখা না করে যাচ্ছি না।

-   তোমার মা কবে মারা গেছেন?

-   আরে না না, আমার মা এখনও জীবিত আছেন। আমি মা দুর্গার কথা বলছি। মর্ত্যে মাকে আমরা খুব ভক্তি ভরে পুজো করি। ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী, পুজোর কটা দিন আমরা খুব মজা করি। যাক গে, ওসব কথা থাক, আমি একটু মায়ের সাথে দেখা করতে চাই।

-   কিন্তু ওঁরা তো একটু দূরে থাকেন, সেই সুদূর কৈলাস। ওখানে তো তুমি একা যেতে পারবে না। আর ওখানে সাধারণ মানুষ যেতে পারে না।

-   সে তো যমলোক বা দেবলোকেও সাধারণ মানুষ যেতে পারে না। আমি তো জীবিত অবস্থাতেই এখানে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছি। তাহলে ওখানে যেতে পারবো না কেন?

-   তুমি আমায় খুব সমস্যায় ফেললে বৎস। জীবিত মানুষের স্বর্গে আসার অনুমতি নেই, তাও তোমাকে অনুমতি দিয়েছি। এখন আবার বলছো কৈলাসে যাবে। প্রথমত, ওখানে যাবার অনুমতি নেই। তাও আমি শিবুর সাথে একবার একটু কথা বলে দেখতে পারি। শিবুর মনটা খুব ভালো, কিন্তু গাঁজা, ভাঙের ডোজটা যেদিন একটু বেশী পড়ে যায়, তখন আবার সে প্রকৃতিস্থ থাকে না, কথায় কথায় রেগে যায়, উল্টোপাল্টা বকে, তখন ওর সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না। ঠিক আছে তোমার যখন ইচ্ছে আমি না হয় একবার কথা বলে দেখবো।

-   অনেক ধন্যবাদ প্রভু। আর একটা প্রশ্ন ছিল প্রভু।

-   হ্যাঁ বৎস বলো।

-   বলছি আপনাদের এখানে তো মাছ মাংস মানে আমিষ জাতীয় খাদ্য চলে না। কৈলাসেও নিশ্চয়ই একই নিয়ম।

-   হ্যাঁ, সব জায়গাতেই একই নিয়ম বৎস।

-   তাহলে মায়ের বাহন, মানে সিংহ কি খান? ফল মূল শাক সব্জি?

-   উফ, তুমি তো খুব ফাজিল ছোকরা হে, তুমি এখন তোমার গৃহে যাও, বিশ্রাম নাও। আমি শিবুর সাথে কথা বলে তোমাকে জানাবো।

-   অনেক ধন্যবাদ প্রভু। আজ তাহলে উঠি।

-   হ্যাঁ, সাবধানে যেও।

 

(ক্রমশ)