Samokal Potrika

বিখ্যাত শিল্পপতি হওয়া স্বত্ত্বেও অম্লান সুকান্তের সঙ্গে দেশের অন্য শিল্পপতিদের সম্পর্ক তেমন মধুর নয়। অথচ দেশের সফল ও ধনীতম শিল্পপতিদের মধ্যে তিনি অন্যতম। কিন্তু শহুরে বিলাসবহুল বিনোদন পার্টিতে তাকে দেখা যায় না। তিনি বরং যৌনকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করতে ব্যস্ত থাকেন। যৌনকর্মীর সন্তানদের জন্য স্কুল করে দিয়েছেন। বিনাব্যয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণ করেছেন। এমন কি তার কোম্পানি যৌনকর্মীদের সামান্যতম খরচে বিমার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। যা নিয়ে সমাজের উঁচুতলায় কানাঘুষো চলে অম্লান সুকান্ত নিজের কুকৃত্তি ঢাকার জন্য এমন কাজ করেন। অনাথ আশ্রমের অনেক বাচ্চা নাকি তার কুকর্মের ফসল। মিডিয়াও অম্লান বাবুর বিষয়ে বিমাতৃসুলভ আচরণ করে। এত কিছু জানা স্বত্ত্বেও অম্লান সুকান্ত কিন্তু কখনো মুখ খোলেন না। যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ভাবতে থাকে মৌনতায় সম্মতির লক্ষণ। সরকার বা প্রশাসন নিয়ে অম্লান সুকান্তর বিস্তর অভিযোগ। কাউকে রেয়াত করে কথা বলেন না। অথচ তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকতেও তিনি চুপচাপ সব মেনে নেন।
একবার তো সাংবাদিকদের সঙ্গে মঞ্চেই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই থেকে সাংবাদিক ও অম্লান সুকান্ত অহি নকুলে।
ঘটনাক্রমে সেই অম্লান সুকান্ত কে রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোত্তম সামাজিক পুরস্কারে মনোনীত করেন। তাই নিয়ে মিডিয়া রাষ্ট্রপতি ও অম্লান সুকান্তের বাপান্ত করে ছাড়ে। তখনো তিনি মৌনী ব্রত নেন। কি এমন রহস্য ঘেরা মানুষ যে হাজার ব্যক্তিগত আক্রমণ স্বত্ত্বেও মুখে কুলুপ এটে থাকতে পারেন?
দেশের প্রায় সব প্রথম শ্রেণীর মিডিয়া প্রতিনিধি উপস্থিতিতে অম্লান সুকান্তের হাতে পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। পুরস্কার হাতে নিয়েই তিনি পুরস্কার মঞ্চে প্রায় পরমাণু বিস্ফারণ ঘটান। আমি একজন যৌনকর্মীর সন্তান। আর এমন একজন যৌনকর্মীর সন্তানের হাতে সর্বোত্তম সামাজিক পুরস্কার তুলে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রপতিকে। হলে তখন অনির্দিষ্টকালে নীরবতা।