Samokal Potrika

কাব্যগ্রন্থটির প্রথম কবিতাটিতেই  চোখ আটকে যায় । যেখানে কবি বলেন - 

 

"বেসুরো না-বাজলে সুর আসে না কণ্ঠে 

আমি তাই কলম ধরার আগে আকণ্ঠ 

পিঙ্কিকে পান করি" 

 

আমাদের কবি প্রেমিক । তিনি পর্যাপ্ত ভাবেই প্রেমের অমৃত সুধারস পান করেছেন । কাব্যগ্রন্থের নাম "পিরামিডের পিঙ্কিকে" । কবি শূন্য দশকের চেনা নাম , দয়াময় মাহান্তী । 

 

কবি এখানে বারেবারে খুঁজে পেতে চেয়েছেন তাঁর  প্রেম , যা তাঁর শরীরে অন্তঃসলিলা নদীর ন্যায় প্রবাহমান , সেই পিঙ্কিকে । দ্বিতীয় কবিতায় কবি কিছুটা সন্দেহ প্রকাশের সুরেই বলেন - 

 

"পিঙ্কিকে লিখতে গিয়ে আমি তখন খুঁজে বেড়াই 

পিঙ্কির কুমারীত্বের মতো একটি শব্দ 

যার ভিতরে ঢুকতে গেলে গভীর শিশ্নের প্রজ্ঞা চাই" 

 

কবি অনেকটাই যুগের চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে । বারেবারে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থে তার প্রমাণ মিলেছে । কবির প্রেম সংকীর্ণ নাগরিক বেড়াজাল ছাড়িয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মিথে পরিণত  হয় , যখন কবি বলেন - 

 

"এই মুহূর্তেও আমি পিঙ্কির ছবি আঁকছি 

সাপের কামড় পায়ে 

 রাত্রি জাগছি 

যেন কালঘুম না-আসে"  

 

কবির প্রেম অপূর্ণ বলেই হয়তো কবি খুঁজে পেয়েছেন বাঁচার মানে । কবি বলেছেন - "পিঙ্কি একটি মাল্টিপারপাসের নাম" , তিনি স্বীকার করেছেন - "পিঙ্কি আমার ভিতরে কর্মক্ষম" । আসলে 'পিঙ্কি' যেন কবির কাছে পরমাত্মা , জীবাত্মা হয়ে কবি ক্রমশই  তাঁর সাথে লীন হতে চেয়েছেন । এবং এই সমগ্র কাব্যগ্রন্থটি যেন তারই যাত্রাপথ । 

 

কবির প্রেম শুধু এই জন্মের নয় , সময়ের মাপকাঠিতে তাকে মাপা যায় না , সে নিরাকার , অবিনশ্বর । কবির ভাষায় - 

 

"একটি পিরামিড উপহার দিয়েছিলাম পিঙ্কিকে 

যা শতবর্ষ নয় , সব বর্ষ টিকে থাকবে 

সে জীবন ছিল আমাদের গতজীবন 

আমি ইহজীবনের কথা বলছি" । 

 

কবি প্রথম থেকেই আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সমাজের ট্র্যাডিশন গুলিকে ভাঙতে চেয়েছেন । তিনি তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মম রূঢ় সত্য গুলিকে যা অবলীলায় আমাদের তথাকথিত সভ্য সমাজ এড়িয়ে চলে । কবির ভাবনা পরিণতি পায় , যখন তিনি বলেন - 

 

"আমি দেখে নিচ্ছিলাম 

পিঙ্কির অনাবৃত স্তন , নাভি 

নামতে নামতে সেই ফুল 

সোজা নেমে ঢুকে গেল ওর উন্মুক্ত যোনিতে" ।

 

কবি তাঁর শেষ কবিতায় প্রকাশ্যেই সোশ্যাল ট্যাবু গুলির উপর আলোকপাত করে তাঁর স্বকীয় ভাবনার সাথে মিলিয়ে বলেন - 

 

"হস্তমৈথুনের থেকে ছিটকে বেরিয়ে 

পিঙ্কি ছুটতে থাকে নদী-নালা বেয়ে 

ছুটতে ছুটতে মেঘ হয়ে যায় 

 

আমিও ওর পেছনে ছুটে ছুটে ক্লান্ত হই 

শুয়ে পড়ি , স্বপ্ন দেখি , আমার শিশ্নটি 

একচিরি চাঁদ হয়ে গেছে" । 

 

কবির জঠরের সুপ্ত যন্ত্রণা পূর্ণতা পায় । আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হতে থাকে একটিই নাম - পিঙ্কি , পিঙ্কি , পিঙ্কি । কাব্যগ্রন্থটি শেষ করার পরও পাঠক হৃদয়ে তার নিরবিচ্ছিন্ন  রেশ বজায় থাকে । পাঠকও কবির মতোই একপ্রকার ঘোরে আবিষ্ট হন । 

 

যেটি না বললে পুরোটিই অসম্পূর্ণ থেকে যায় তা হল - গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালের জুলাই মাসে । প্রকাশক সুতরাং প্রকাশনীর পক্ষ থেকে সঞ্জয় ঋষি । কাব্যটির এই সুন্দর , মনোমুগ্ধকর প্রচ্ছদটি করেছেন বিতান চক্রবর্তী । এটি গ্রন্থটির পূর্ণাঙ্গ করণে শ্রীবৃদ্ধি ঘটিয়েছে । কাব্যটির মূল্য ২০ টাকা ।