Samokal Potrika

1 দারু চিনি

   

 

প্রবাহের সাথে প্রবাহে ভেসে

টিপটিপ সে,মুদ্রাদোষ

রাতের বুকে দাগ টেনেছেন,

উল্টোডাঙ্গা'র শঙ্খ ঘোষ।

 

সেমিকোলনের কুচকাওয়াজে,

বদমেজাজী মেঘের ফোঁস

চোরাবালির টাইপরাইটারে

শমন পাঠান শঙ্খ ঘোষ।

 

মানববোমা,যিশু'র পিতা-

মরছে ক্ষিধেয় ভ্রুণের কোষ,

এরপরেও কুরুক্ষেত্রে

ভীষ্ম সাজেন শঙ্খ ঘোষ।

 

কনুই মাঝে বাঘের হানা-

হাঁটতে হবে অনেক ক্রোশ,

বিপদ সুখে কম পড়েছে

লাল সেলামের শঙ্খ ঘোষ।

 

বরফ দেশের চঞ্চলা মেয়ে

বিগ্রহেরই অসন্তোষ,

আখছার দেশ ছাড়ছে জনতা

পায়ে পায়ে সেই-ই শঙ্খ ঘোষ।

 

চন্দন কাঠে সুন্দরী চিতা

কাঁটাতারে শুয়ে খরগোশ,

গোলাপ কাঁটায় পড়ছে চুঁইয়ে

কয়েক ফোঁটা শঙ্খ ঘোষ।

 

 

 

লেডিসের ঠিক পরেরটায়

     

 

তোমার ঘড়িতে সারারাত পুড়ে পুড়ে

দেয়ালে একটা মিনিবাসও দেখছি না।

ছুটির শাড়িতে নকল বিদেশে ঘুরে

খুঁজে পাইনি,দেশে ফেরবার ঠিকানা।

 

মোড়ের মাথায় ট্র্যাফিক জ্যাম,গাছের মুখটা নিচু

যতোটা ভেবেছি,বোতাম খোলেনি ততো,

বৃষ্টি আসবে না,তবু ভিজে যাবে কিছু কিছু,

লোভ না করলে-মেয়ে ঠিক ফিরে আসতো।

 

গেদেলোকাল ।বুক ঢিপঢিপ। দমদম

এ বেলা বোধহয় নিম্নচাপ'টা হবে...

কবিতায় আঁকা ভাবনাগুলোর শ্রম,

কেউ তো আবার ঘুম'কে শ্রমিক ভাবে।

 

তোমার ঘড়িতে সারারাত পুড়ে পুড়ে

শুঁয়োপোকা'তে প্রজাপতি চাইছি না--

হঠাৎ আবার গাল কেটেছে ক্ষুরে

রক্ত জানেনা,এইডস্ আক্রান্ত কি না

 

কিছু ঝরাপাতা,মায়ের রূপকথা

তোমার চুলেতে লাগিয়ে দিয়েছে ক্লিপ

শহীদ মিনারে লোক নেমে গেছে,মৌমিতা

চিঠি পাঠিয়ো,প্রযত্নে সরীসৃপ।

 

 

 

ভুলের জানালা খুলে

   

ভুলের পাথর ছুঁড়ে সবে হাতে এসেছে তোমার গভীর-

কালচে মেঘের ডাকে;তাই মন খুশি থাকে-তাই অবকাশ

ভিরু পথে নবারুণ হেঁটে যায়;স্রোতে স্রোতে তাই বারোমাস

দেহের তাগিদ অংক কষে যায়; যেন সমীকরণের ভিড়

চারপাশ; কতো ক্ষিধে আমি খাই,আরও কতো ভুল

জাহ্নবী'র

গরম লাভার মাঝে পাই কতো বিধর্মী বায়ুর প্রশ্বাস

ব্যথা চায়-শহরের ক্লান্ত রাত ভুল বকে-যাদের সিঁথিতে নীড়

ভুল হয়-চামড় দুলিয়ে ধেয়ে আসে ঝড়-যুদ্ধের শিবির

 

নোনতা চাঁদের প্রথা ধুয়ে যায়-রাবণের একাদশী বার্তা

যন্ত্রনার লোহিত কবরে শ্রোতা-মাছেরা কবির বাণী খোঁড়ে

উলঙ্গ'রা পোষাকের পিছে ধায়-দেবতার গ্রাসে স্বার্থকতা

মানুষের মেদ জমে,ভুলেদের দ্বিধা থাকে বিগ্রহ ঘিরে

চরম সৃষ্টির নেশা ভুল ভাঙে; সব পাতে খাদ্যের জড়তা

ভুল হয় কোলাজে-পাহাড়চূড়া তানপুরা ব্যাসবাক্য গড়ে।

 

 

 

আমায় চিনি, ওনার'টা জানি না

   

তুমি এসে ছিলে-তাই মায়াহীন পানশালা,

হেঁটেছে রাস্তাঘাটে ছোটগল্প নিয়ে,

ওঝা'র ধূপে যখন ভূত-অদ্ভূত ছেলেখেলা,

নদী পালিয়ে যায়,পরিচালক'কে নিয়ে।

 

বাদামী আগুনে ঠাঁসা সিনেমার নন্দন,

ভাঙা কাঁচ জুটিহীন মরিচীকা খোঁজে-

আসলে জীবন তো জীবিকার বন্ধন,

গোলাপগুলো বন্দী নারী; পরমাত্মার মাঝে।

 

অদলবদল হাত-চোখ দুটো দিলরুবা হারা

কামরায় গান গেয়ে জোটে কিছু বখ্শিষ,

বরঞ্চ ব্ল্যাক কফি,তুমি মৃদু আঁচে ক্যাফেকবিরা

সাথে মিনারেল ঠোঁট,আর একচিমটি সৌরিশ।

 

টিকিট ভিজে গেছে,ফেরিঘাটে ঢেউয়ের নাবিক

ছলাৎ ছলাৎ কথা,লাইব্রেরী মাঝে মধ্যে আসে,

ইচ্ছে ছিলোনা জানি; তাই মৌসুমী ভৌমিক--

আর নিখিলেশ সান্যাল,চলে গ্যাছে প্যারিসে।

 

যে যেতে চায়,তাকে চলে যেতে দাও,

হে তারিখ...

যতোই আধুনিকা হতে চাও,

আসলে তো তুমি নিজেই পৌরাণিক!

 

 

শীতের রাতে

   

 

শীতের রাতে হাত ধুয়েছি কামরাঙা বন তলে

আঁচড় কাটার আগেই দেখি,স্তবকগুলো ছেঁড়া

অবৈধ এক কফি'র সাথে ঘর বাঁধি ম্যানহোলে

নরম ঘামে স্নান সেরেছে,বেশ্যা ধ্রুবতারা।

 

শীতের রাতে কুয়াশা মেখেছি দৈব কর্মফলে

রক্তচোষার ক্যানভাস দেখি,রক্ত দিয়েই আঁকা

ধমনী বোনা মেনুকার্ডে'তে আশ্রয় ওঠে উথলে

ধ্যানগম্ভীর সাগরপাড়ে,উৎসাহ ঠাসা নৌকা।

 

শীতের রাতে আদিম হয়েছি,আধুনিকতার ছলে

স্বীকার করার পূর্বেই দেখি,পিসা'র হেলানো মিনার

ছদ্মবেশী পুরোহিত আজ গুপ্তচরের দলে

অসময় নেই একটুকরো,রাজকাহিনী শোনার।

 

তবুও সূত্রে জ্বলছে চিতা,তবুও অ্যালার্ম জাগে

তৃতীয় পেগের আয়না বুকে কার্ল মার্কস'কে এনো

খাঁচার পাখি দেনার জ্বালায় চাঁদের গন্ধ শোঁকে

শীতের রাতে দেশলাই দিও,শীতল মহাশূন্য...