Samokal Potrika

কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার জগন্নাথকান্দি গ্রামে অবস্থিত প্রায় এক শত ত্রিশ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক জগন্নাথকান্দি কেদ্রীয় জামে মসজিদ (বড় মসজিদ) এই মসজিদটি আয়তনে বিশাল অথবা তেমন বড় নয় । তবে উক্ত মসজিদটি জগন্নাথকান্দি  গ্রামের প্রথম এবং প্রায় সহস্র বছরের পুরোনো হবার কারনেই গ্রামবাসী এই মসজিদটিকে বড় মসজিদ নামেই উল্লেখ করে থাকে ।  ধারণা করা হয় আঠারোশ শতাব্দীর শেষের দিকে জগন্নাথকান্দি গ্রামের প্রভাবশালী ব্যাক্তি চৌধুরী কাজীর নিজ উদ্দ্যোগে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয় । ততকালীন "ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি" তথা ভারত থেকে আগত কারিগর এই দ্বারা এই মসজিদটি তৈরী করা হয় । 
উক্ত মসজিদের গায়ে কোন নির্মাণ শৈলী না থাকার কারনে মসজিদটি কত সালে তৈরী করা হয়েছে তা কিছু'ই নির্ণয় করা সম্ভব হয়ে উঠেনি ।  এবং উক্ত  মসজিদটির নির্মাণকাল আজো রহস্যে ঢাকা পড়ে আছে । 

তবে গ্রামের বয়োজোষ্ঠ মুরুব্বিদের দেয়া তথ্য ও যুক্তি অনুযায়ী এটা প্রমানিত হয়েছে যে আঠারোশ নব্বই দশকের দিকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে । এবং উন্নিশ ষাট দশকের দিকে মসজিদটি প্রথম পুর্ণনির্মান করা হয় । এবং পরবর্তিতে উন্নিশ নব্বই দশকের দিকে মসজিদটি দ্বিতীয় বারের মতো সংস্কার  করা হয় ।  এবং একই বছর গ্রামের মুসুল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় মসজিদ কমিটি  মসজিদটির আয়তম বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেন । এবং  মূল মসজিদটির সাথে যুক্ত করে একটি বারান্দা দেয়া হয় । 

২১৬ বর্গ ফুট আয়তনের মূল মসজিদটিতে মাত্র ২০-২৪ জন মানুষ এক সাথে নামাজ আদায় করতে পারে ।
জগন্নাথকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটিতে  রয়েছে একটি সুবিসাল গুম্বুজ ও চার কোণে রয়েছে চারটি মিনার । বিশাল গুম্বুজটির গায়ে পাকিস্তান থেকে আনা দামী দামী পাথর বসানো হয়েছে । এবং মিনার গুলি সুন্দর কারুকার্যময় নকশা ও ছাপ রয়েছে । গুম্বুজের উচ্চতা ২৫ ফুট ও মিনার গুলির উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট ।  মসজিদটির  দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট , ও প্রস্থ  ১৮ ফুট । মসজিদের দেয়াল গুলি ৩ ফুট চওড়া ।  মসজিদটির উত্তর দক্ষিনে দুটি জানালা রয়েছে । এবং একটি মেহরাব রয়েছে । মসজিদটির ভিতরেও সুসজ্জিত  কারুকার্যময় নকশা রয়েছে । এখন অবশ্য নকশা গুলি খসে পড়েছে । সরকারী পৃষ্ঠপোশকতায়  অথবা গ্রামবাসীর কোন উদ্যোগ না থাকার কারনে । জগন্নাথকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি আজ জৌলুস হারাতে বসেছে । তবে এখনো মসজিদটির ভিতরে বেশ কিছু কারুকার্য ও নকশার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় । 
মসজিদটির সামনে ৩ টি দরজা রয়েছে । এবং এর উত্তর দিকে রয়েছে জগন্নাথকান্দি মাথাভাঙ্গা ঈদগাঁ ।

জগন্নাথকান্দি কেদ্রীয় জামে মসজিক (বড় মসজিদ) এর পূর্ব দিকে রয়েছে একটি রহস্যময়  কুর (জলাশয়) এক সময় এই কুর থেকে ভেসে  উঠত বিয়ে সাদী অথবা বড় ধরনের যে কোন খানা পিনার অনুষ্ঠানের  জন্য যে সব ডেকোরেটরের  মালামাল যেমন থালা বাসন বড় পাতিল বড় বড় ডেক ডেচকি ইত্যাদি এসব উঠে আসত । 
জগন্নাথকান্দি গ্রাম সহ আশে পাশের গ্রাম গুলিতে যে কোন খানার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে যেমন বিয়ে সাদী খৎনা মৃত মানুষের চলিশার খানার আয়োজন করার  এক দিন পুর্বে উক্ত কুরের কাছে গিয়ে বলে আসলেই হত । তারপর দিন সকালে উঠে দেখত কুরের ঘাটে
উঠে আসত খানা পিনার ব্যাবহিত ডেকোরেটরের সমস্ত মলামাল ও সমস্ত সামগ্রী ।  এবং সকল কাজ কর্ম শেষ করে আবার উক্ত সামগ্রী গুলি ধুঁয়ে পরিস্কার করে কুরের ঘাটে রেখে আসলেই তা  কুদরতি ভাবে পানির নিচে তলিয়ে যেত । জগন্নাথকান্দি গ্রামের বয়োজোষ্ঠ মুরুব্বিদদের মুখে মুখে আজো সেই কথা শোনা যায় । এবং তারা নিজেও এসব সামগ্রী ব্যাবহিত করেছে । স্বাধীনতা যুদ্ধের পড়েও এই কুর থেকে এসব জিনিষ পত্র উঠত । 
কিন্তু একবার এক গাঁয়ের বধু লোভে পড়ে একটি থালা অথবা, একটি বাটী রেখে দিয়েছিল । তারপর থেকে আর কখনোই এই কুর থেকে এসব সামগ্রী গুলি  উঠে  না । 

যেভাবে যাবেনঃ- রাজধানী ঢাকা থেকে জগন্নাথকান্দি গ্রামের দূরত্ত্ব মাত্র ৫৭ কিলোমিটার । এবং জেলা সদর কুমিল্লা থেকে এই গ্রামের দূরত্ত মাত্র ৫৯ কিলোমিটার ।
ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পর পর হোমনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে "ঢাকা হোমনা সুপার সার্ভিস " ভাড়া ১০০-১২০ টাকা । উক্ত বাসে উঠে হোমনা উপজেলার ৬ কিলোমিটার পূর্বে পঞ্চপটি ষ্টেশনে  নামবেন । তারপর পঞ্চবটি থেকে খুব সহজেই রিক্সা করে যেতে পারেন , জগন্নাথকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিতে । অথবা বড় মসজিদে ।  
তাছাড়া বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকেও জগন্নাথকান্দি গ্রামে খুব সহজেই আসতে পারেন । সে জন্য আপনাকে প্রথমেই ঢাকা চট্টগ্রাম মহা সড়কের দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর মোড়ে নামবেন । তারপর সেখান থেকে সি এন জি যুগে গৌরিপুর হোমনা রুট ধরে মাত্র ১৮ কিলোমিটার যেতেই পঞ্চপটি ষ্টেশন । এই পঞ্চবটি ষ্টেশনে নেমে যাবেন । তারপর হাতের বাম পাশে দেখতে পাবেন ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও অটো রিক্সা দাঁড়িয়ে আছে । আপনি শুধু বলেই হবে "জগন্নাথকান্দি বড় মসজিদে যাব । ভাড়া অটোতে জন প্রতি ১০ টাকা । আর রিক্সা ২০ টাকা ।