Samokal Potrika

বাড়ির সামনে এসে সুচরিতা নেম প্লেট দেখে চমকে উঠলো !খুব ভালো করে ভিজিটিং কার্ডের সাথে ঠিকানা টি মিলিয়ে নিলো তারপর কলিং বেলের বোতামে ডান হাতের তর্জনী স্পর্শ করলো l 
দারোয়ান এসে বললো সাহেব ভিতরে আসতে বললেন !
সদর গেট থেকে মূল বাড়ীর দুরত্ব অনেকটা l সমস্ত টাই ঘাসের গালিচা পাতা l 
বেশ বিস্ময়ে চারিদিকে তাকিয়ে ভাবছে এই সেই সুজিত যাকে কলেজে পাত্তাই দেয়নি l গাঁ থেকে আসা এক দরিদ্র পরিবারের ছেলে l ভাগ্যের কী খেলা আজ এখানেই আসতে হলো ডিভোর্স ফাইল সই করতে l 
প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট l নিজে বাড়ি করেছে l 
বারান্দা দিয়ে উঠে সোজা বসবার ঘর মাসে জজ সাহেবের বাড়ীর চেম্বার l 
পিলু অবশ্য বলে রেখেছিল এই সুজিত ই আমাদের কলেজের ব্যাস মেট l কাজেই হয়তো চিনতে ভুল হয়নি দুজনেরই l তবে প্রথম দেখায় অনেকক্ষন দুজনে চুপচাপ একে অপরের প্রতি তাকিয়ে ছিল l 
বসুন ...সুজিত বললো l আরও বিস্ময় !তবে কি সুজিত চেনেনি !
দেখি আপনার ডকুমেন্ট গুলো .....!
সুচরিতা ভাবলো সুজিত বদলে গেছে l 
ফাইলপত্র দেখে একপাশে সরিয়ে রেখে বেয়ারাকে চা দিতে বলে উঠে গেলো l
এবার সত্যি ভাবলো !মানুষ বড় হয়ে গেলে 
বোধহয় এরকমই হয় l একবার ভাবলো চা না খেয়ে চলে যাবে কিন্তু না সেটা ভদ্রতা নয় l তাই চায়ে চুমূক দিতেই সুজিত এসে একেবারেই ধারণাটি পাল্টে দিলো সোজা সুচরিতার পাশে এসে বসলো বললো কিরে কি এমন হলো তোর যে দুবছরের মধ্যে সংসারের পাট চুকিয়ে দিলি ?
তুই চিনতে পারলি ?আমি তো প্রথমে তোর আচরণ দেখে ভেবেছিলাম তুই পাল্টে গেছিস !
ধুর !বন্ধু তো বন্ধু ই থাকে রে !
যখন বিচারক তখন অন্য মানুষ !
তোর পরিবার এখানে থাকে না ?সুচরিতা বললো !
পরিবার ?সুজিত বিস্ময়ে উত্তর দিলো l 
কেন বিয়ে করিস নি ?
মেয়ে আর পেলাম কই ?
যাকে মনে নিয়েছিলাম সেতো আসেনি !
কী বকছিস ?কে তোকে ধোঁকা দিয়েছিল রে ?
নানা ধোঁকা দেবে কেনো ?
আমার ভালো লেগেছিল !
আয় আমার বাড়ি টি দেখ্ !সুজিতের শোবার ঘরে যেতেই সুচরিতা দাঁড়িয়ে পড়লো l দেয়ালে টাঙানো তাঁরই ওয়েল পেইন্ট l নীচে লেখা ....ছবি নিয়েই বাকী জীবন কাটিয়ে দেব !
সুচরিতা ভেবে পেলো না কী বলবে .........!