Samokal Potrika

বহুকাল ধরেই বহু দেশে এই গল্পটি শোনা যায়। তবে বিভিন্ন দেশে এই গল্পের   কিছুটা তারতম্য দেখা গেলেও মূল জায়গাটি কিন্তু সব দেশেই একই।   

যুগ যুগ ধরে এই গল্পটি চলে আসছে। গল্পটিতে বলা আছে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কখনও ন-বার ভেরোনিকা উচ্চারন করবে না। অনেকে বলেন এই গল্পটির  উৎপত্তি চিন দেশে এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন দেশে গল্পটি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে সত্যি এটা বিশ্বাস করেন যে এই নিষেধাজ্ঞা না শুনে যারা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে,  তাদের জীবনে ভয়ঙ্কর অভিশাপ নেমে আসে।

এবার দেখে নেওয়া যাক কে এই ভেরোনিকা? 

গল্প থেকে জানা যায় ভেরোনিকা নামে বছর চোদ্দোর এক কিশোরী ছিল। রোজ বিকেলে গ্রামের একটি জায়গায় সে তার বন্ধুদের সাথে একসাথে জড়ো হতো এবং তারা সবাই একসাথে খেলা করতো। একদিন বিকেলে তারা একটি পোড়ো বাড়ীর  মধ্যে ‘প্রেততত্ত্ব’ (মৃত ব্যক্তির আত্মার সাথে কথোপকথন) নিয়ে খেলা খেলছিল।  

‘প্রেততত্ত্ব’ নিয়ে খেলা করলে তার পরিণাম কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে এটা সকলেই  জানে, তাই এটা নিয়ে ছেলেখেলা করা কখনই উচিৎ নয়। কারণ এর জন্য বিশেষ  প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। এমনকি খুব অভিজ্ঞ লোকেরাও এই প্রেততত্বের জটিলতা সামলাতে না পেরে অনেক সময় ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখীন হন।  কিন্তু এ ব্যাপারে ছোট্ট মেয়েটির কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। কোনও কিছু না জেনেই শুধুমাত্র ছেলেমানুষি করে একটা নতুন খেলা খেলতে গিয়ে এই ভয়ঙ্কর অন্ধকার জগতের শিল্প নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়েছিল। ভৌতিক জগতের কোনও নিয়ম কানুন না মেনেই সে এটি নিয়ে মজা করতে গিয়েছিল। এর পরিণাম যে এতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে ছোট্ট মেয়েটি হয়তো সেটা বুঝতে পারে নি। হঠাৎ ঘরের একটি চেয়ারে প্রাণের সঞ্চার হয়, চেয়ারটি উড়ে এসে ভেরোনিকার মাথায় আঘাত করে এবং তৎক্ষণাৎ তার মৃত্যু হয়।  

শোনা যায় সেই দিন থেকে ভেরোনিকার আত্মা এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে পারে না। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তার অপরাধী আত্মা আমাদের চারপাশেই ঘুরে বেড়ায়, আর যারা এই অন্ধকার বা ভৌতিক জগতকে নিয়ে ছেলেখেলা বা অসম্মান করার চেষ্টা করে তাদের ওপর সে প্রতিশোধ নেয়।

বহু মানুষ এখনও এটা বিশ্বাস করেন কেউ যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ন বার ‘ভেরোনিকা’-র নাম নেয়, ভেরোনিকা তার পেছনে এসে উপস্থিত হয় এবং তাকে হত্যা করে।