সবাই সমস্বরে বলে উঠল, "ঠিক ঠিক।"

তারপরই মামা বলল, "ও সব ছাড়, ফ্রান্সের ইলিআপ্তার খেলা কেমন দেখলি বল?" &nb" />

Samokal Potrika

ভ্যাবলাদের পাড়ার শেষে এক বিরাট ফুটবল মাঠ। মাঠের এক পাশেই বড় অশ্বত্থ গাছ। ঠিক তারই নিচে তালপাতা দিয়ে ছাউনির এক চায়ের দোকান। আর তাতেই চলছে ঘোর আলোচনা।  পাশের রাস্তা থেকেই জমামামার কপচানি শোনা যাচ্ছে। আর তাকে ঘিরেই রয়েছে ছেলে ছোকরাদের ভীড়।

 

     জগামামা চিৎকার করে বলছে, "যেটা বুঝিস না, সেটা নিয়ে বড় ফ্যাচ ফ্যাচ করবি না। জানিস না বুঝিস না, বড্ড বকবক করিস তোরা। কত টুকু জানিস তোরা ফুটবল সমন্ধে ? কপাল যদি ভালো থাকতো তো এতদিনে আমি ন্যাশনাল খেলতাম। তখন দেখতাম। তোদের বকবকানি।" 

পাশ থেকেই ভ্যাবলা বলে উঠল, "কই কোনদিনও তো এ কথা শুনিনি?" 

তখনই দাঁত কিরমির করে জগামামা বলা উঠল, "তা শুনবি কেন। তোদের জগামামার কোন প্রশংসাই তো তোদের সহ্য হয় না। আর হবে নাই না কেন! নিজেরা তো জীবনে কিছু করতে পারলিনে। তাই হিংসায় বদনাম রটাস। হিংসুটে কোথাকার।"

 

 ক্লাস এইটে পড়া পটা হঠাৎ বলে উঠল, "আচ্ছা মামা বিশ্বকাপ ফুটবলের সব খেলা গুলো দেখছো? 

মামা বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে বলল "দেখবো না! বলিস কি! ফুটবল হল আমার রক্তে। ফুটবল ছাড়া কিছু ভাবা যায়। দুদিন খাব না ঠিক আছে, তবু ফুটবল ছাড়া চলবে না। এই যে দুদিন তোদের মামি রান্নাই করেনি, তা বলে কি আমি খেলা দেখা বন্ধ করেছি? একদমই না। ফুটবল আমার প্রান। 

সক্কলে এক সাথে বলে উঠল,  "কেন ? কেন ? রান্না হয়নি কেন?" 

জগা মামা মুখ খানা বেজার করে বলল, "কেন আবার! তোদের মামিকে সেই বস্তা পচা সিরিয়াল দেখতে দেই নি, তাই সে বাপের বাড়ি গেছে। ভালোই হয়েছে বুঝলি, খেলা গুলো তো মনের সুখে দেখতে পাচ্ছি।"

 

ফাস্ট ইয়ারে পড়া সুপদ বলল, "তা মামা খেলা দেখে কি বুঝছো?"

 মামা বলল, "কি আর বুঝবো! বেচারা বেলজিয়াম। কপাল খারাপ ওদের। গতবারের পল টাও যদি বেঁচে থাকতো, তবে হয়তো বেলজিয়াম  জিতে যেত।" 

"আচ্ছা মামা, তুমি কি পল অক্টোপাসের কথা বলছো?" চায়ের দোকানের ঠেকে একে বারে পিছনের দিকে থাকা চিনি তাপস প্রায় মিনমিন করে বলে উঠল।

মামা মুখ ভেঙচিয়ে বলল, "হ্যাঁ, তা নয় তো কি! মিঃ পলের কথা বলছি?"  

 

"তা পলের সঙ্গে বেলজিয়ামের জেতার সম্পর্ক কি ?" ভ্যাবলা অবাক হয়ে বলল। 

জগামামা বিজ্ঞের মত বলল, "তুই যদি সবই বুঝতি তবে তো হয়েই যেত। এই তো সেদিনের ছেলে তুই। কি বা বুঝিস। শোন, ভাল করে শোন, সুযোগটা যদি ঠিকঠাক পেতাম তবে এতদিনে আমি ফিফার আম্পায়ার।" 

আঃ বল কি, আম্পায়ার! চিনি তাপস আবাক হয়ে বলল, "ফুটবলে আবার আম্পায়ার এল কোথা থেকে?"

জগা মামা মাথা চুলকে থতমত খেয়ে বলল, "তোর হবে। তোর হবে। একটু পরীক্ষা নিচ্ছিলাম। তোর উন্নতি হবেই হবে।কেউ আটকাতে পারবে না তোকে। বিকেলে দেখা করিস। হুম, বুঝলি। তবে হ্যাঁ, খালি হাতে আসিস  না। কিছু বাদাম ভাজা নিয়ে আসিস। তোকে সব শিখিয়ে দেব। ও হ্যাঁ, যেটা বলছিলাম।" 

 

পাশ থেকে পটা চিৎকার করে বলে উঠল, "পলের কথা বলছিলে।" 

 "ও হ্যাঁ, আসলে পল একটু বল খেতলে ভালো বাসে। তার উপর ওর জন্ম বেলজিয়ামে। তাই ওর তো একটা টান থাকবেই। কি বলিস তোরা?" 

সবাই সমস্বরে বলে উঠল, "ঠিক ঠিক।"

তারপরই মামা বলল, "ও সব ছাড়, ফ্রান্সের ইলিআপ্তার খেলা কেমন দেখলি বল?"  

"ইলি আপ্তা! ইলি আপ্তা আবার কে? এমন নাম তো শুনিনি।" পটা খুব চিন্তার সাথে বলল।

 

 পিছন থেকে ভ্যাবলার এক বন্ধু হেসে বলে উঠল "ভাগ্যিস পাটি সাপটা বলেনি।"বলেই খ্যাল খ্যাল করে হেসে উঠল। মামা তো রেগেই আগুন। "কে বলল এ কথা ? অ্যা, কে বলল?  চিনি তাপস তুই কি? বলেই মামা চিৎকার জুড়ে দিল। "তবে কে? এ্যাই ভ্যাবলা কে বললো রে? তোকে কত বার বলেছি, ভুল ভাল ছেলেদের নিয়ে আসবি না এখানে। ওরা বুঝেনা। শুধু কিতকিত খেলাটাই জানে। আমাকেই কিনা ইনসাল্ট! বলে কিনা পাটিসাপটা। ইয়ার্কি মারার জায়গা পায় না। জগার সাথে ইয়ার্কি! ঢের হয়েছে, আর নয়। কখনো যেন ওর মুখ আমি দেখতে না পাই।" 

পটা হাত জোড় করে বলল "মামা এবারের মতো মাপ করে দাও ওকে। আর হবে না।"

 বাকিরাও একই সাথে বলে উঠল, "হ্যাঁ মামা, এবারের মত ছেড়ে দাও।"  

 

"ঠিক আছে, ঠিক আছে। এবারের মত ছেড়ে দিলাম।" মামা এ কথা বলে হাত উঁচিয়ে আশ্বাস দিল। "জানিস, আমি ফ্রান্সের মত বার বার সুযোগ দিই না। অনেকটা  ইতিউতি উমতিতির মত। যারা ফুটবল ভালোবাসে তাদের পক্ষেই এমন উদার হওয়া সম্ভব।"

চিনি তাপস খ্যাল খ্যাল করে এক গাল হেসে বলে উঠল "মামা কত কিছু জানো তুমি।" 

আরে আমি কি শুধু এ কালের লোক? কত যুগ যুগ ধরে খেলে আসছি আমি। এসব জানতে হয়। স্টাইকার, স্টপার, মাঝমাঠ,ডিফেন্স এসব বুঝতে হয়। না বুঝলে পিছিয়ে পরতে হয়। তোদের কত কি শেখাবো বল তো।"

 

সুপদ এক গাল হেসে বলল "এই জন্যই তো মামা তোমায় এত মানি। এত ভালোবাসি।" 

মামা এবার রেগেই গেল " কি বললি ? ভালোবাসি! আমায় আর ভালোবাসা বোঝাতে আসিস নে। কি বুঝিস তোরা ভালোবাসার? একবার ভালোবেসে ছিলাম। তার ফল যে কি ভোগা ভুগছি, তা সে আমিই জানি। তাই ওকথা আর মুখে আনবি না। বলতে বলতেই রাগান্বিত মুখটা চুপসে গেল।

ভাগ্যিস মামি শোনেননি।

 

মামা বলল, "শোন আজকের মত এই আড্ডা শেষ। এখনো অনেক কাজ আছে। মাঠ থেকে গরুটাও নিয়ে আসতে  হবে। তোরা বরং দেখ, কে কি মতামত দিল। আর কেউ শেয়ার করলেও মাথায় রাখিস। আমি তো আছিই।