Samokal Potrika

স্পেনের একটি ছোট শহরে একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল যেটা যথেষ্ট ভীতিপ্রদ।

শোনা যায় সেখানে একটি সুখী দম্পতি বাস করত।  তারা একে অপরকে খুব ভালবাসতো।  তাদের একটি মেয়েও ছিল। মেয়েটি ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলো।  কিন্তু বড় হবার সাথে সাথে মেয়েটির  মনে   তার বাবার প্রতি একটি অবাঞ্ছহিত প্রেমের অনুভূতি তৈরি হতে লাগলো আর মায়ের প্রতি তীব্র ঘৃণা। অনবরত সে তার  বাবাকে বলত সে তাকে বিয়ে করতে চায়। এমনকি সে তার বাবাকে বিয়ে করে সারা জীবনের জন্য সুখে থাকবে বলে মায়ের মৃত্যু কামনাও করতো।  স্বাভাবিকভাবেই মেয়ের এই আচরণে বাবা খুব ক্রুদ্ধ হতেন এবং মনে মনে এটা মেনে নিতে পারতেন না। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই  মেয়েটির মনের আশা পূর্ণ হল - মেয়েটির মা মারা গেল।

স্ত্রীর অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার সময় ভদ্রলোক শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়লেন, তখন ছোট মেয়েটি যেনতেন প্রকারেণ নিজের পৈশাচিক হাসি লুকনোর চেষ্টা করছিল। মায়ের মৃত্যুতে তার মনে কোন দুঃখ ছিল না, কারণ তার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপান্তরিত হতে চলেছে। মনে হচ্ছিল সে যেন কোনো অন্ধকার জগতের শয়তানের সাথে জোট বেঁধেছে, না হলে একটা ছোট মেয়ে কি করে এতটা খারাপ ও নিষ্ঠুর হতে পারে?  

কিছুদিনের মধ্যেই সেই ভদ্রলোক ভীষণভাবে মানসিক অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়লেন। কিন্তু তার মধ্যেও তিনি লক্ষ্য করলেন যে তার ছোট্ট মেয়েটি তার দিকে খেয়াল রাখছে এবং সব সময় তাকে উৎসাহ ও সাহস জুগিয়ে চলেছে। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেন নি যে তার মেয়ের এত হাসি খুশী থাকার কারণ হল তার মায়ের এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া।     

একদিন বিকেলবেলা মেয়েটি তার বন্ধুদের সাথে পার্কে খেলতে গেল। তার বাবা তার ওপর দায়িত্ব দিলেন যে সে যেন ফিরে আসার সময় তাদের রাতের আহারের জন্য একটি শুয়োরের হৃৎপিণ্ড কিনে নিয়ে আসে। কিন্তু  খেলা শেষ হতে বেশ দেরী  হয়ে যায়। খেলা শেষ করে সে যখন মাংসের দোকানে গেল  দোকানটি তখন  বন্ধ  হয়ে গেছে। তখন তার মাথায় একটি অদ্ভুত ভাবনা এল- সে ঠিক করল যে মায়ের কবর খুঁড়ে মায়ের দেহ থেকে হৃৎপিণ্ডটি তুলে আনবে...

সে তাই করলো এবং কোন দ্বিধা না করে সে বাবার সাথে মায়ের হৃৎপিণ্ড দিয়ে রাতের আহারও সেরে ফেললো। 

রাতে সে যখন তার বিছানায় শুয়ে ছিল হঠাৎ একটা ক্ষীণ কণ্ঠস্বর তার কানে ভেসে এল, মনে হল ফিসফিস করে কেউ যেন কথা বলছে। গলাটি তার খুব চেনা  লাগলো। ক্রমশ সেই ফিসফিসে গলার স্বরটি সারা ঘরে অনুরণিত হতে লাগলো। অবশেষে সেই ফিসফিসে কণ্ঠস্বরটি সে পরিস্কার শুনতে পেল, কেউ যেন বলছে –  ‘মেয়ে, আমার হৃৎপিণ্ডটি দিয়ে দে যেটা তুই চুরি করে এনেছিস।’ কথাটি শেষ হবার সাথে সাথেই সিঁড়ির ওপর একটা ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ শুনতে পেল। যেন মনে হচ্ছে কেউ সিঁড়ি বেয়ে কয়েক ধাপ উঠে এসে তার দরজার সামনে দাঁড়ালো,  দরজার হাতলটি ধীরে ধীরে ঘুরতে লাগলো এবং দরজাটি হঠাৎ খুলে গেল।

তার মায়ের আত্মা ঘরের মধ্যে প্রবেশ করল এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তার আঙুলটি ধীরে ধীরে মেয়ের হৃৎপিণ্ডের দিকে বাড়িয়ে দিল। প্রচণ্ড ভয়ে ধীরে ধীরে মেয়েটির হৃৎপিণ্ড স্তব্ধ হয়ে গেল এবং তার মৃত্যু হল।

শোনা যায় সেই সময় থেকেই এই ‘হৃৎপিণ্ডহীন মহিলা’-র আত্মা সেই শহরের এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। কেউ কেউ বলেন যে সেই আত্মা তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য শুধুমাত্র ছোট মেয়েদেরই আক্রমণ করে। আবার  অন্য মত বলে যে সেই আত্মা শুধুমাত্র তার হারিয়ে যাওয়া ভালবাসার জন্য বিলাপ করতে থাকে।