Samokal Potrika

পুটু একটি ছাগল ছানার নাম। আজ থেকে প্রায় ১৭-১৮ বছর আগের কথা। আব্বা আম্মা শখ করে একটি বড় ছাগল( বুড়ি ছাগল) কিনে আনলো পালতে (পালন করতে) কিছু দিন পর সেই বুড়ি ছাগলটি ফুটফুটে সাদা ও কালো ফোটের একটা ছাগল ছানা দিল। সেই ছাগল ছানাটা আমার খুব প্রিয় ছিল। এবং আমার খেলার সাথীও ছিল! তার নাম রাখা হয়েছিল "পুটু" এই নামটা বড় ভাই রেখেছিলেন। কোন এক গল্পে নাকি একটা ছাগল ছানার নাম ছিল পুটু। তাই আমরাও আমাদের ছাগল ছানাটার নাম ঐ নামে'ই রেখেছি।

পুটু আস্তে আস্তে বড় হতে লাগল। পুটুকে নিয়ে আমরা খেলা করতাম, দুষ্টুমি করতাম, ও মজা করতাম। পুটুকে বেশীর ভাগ সময় ছেড়ে রাখা হতো। আর সেই সুযোগে পুটুও আমাদের থাকার ঘরে চলে আসতো। এবং এসেই খাটের উপর উঠে যেত। পুটু প্রচুর দুষ্টু ছিল! একদিন সে আমার হাত থেকে দোয়েল মার্কা একটা চকচকে ২ টাকা নোট খেয়ে ফেলেছিল। তার পরেও আমি পুটুর উপর কোন রাগ করিনি। এবং পুটুকে কোন আঘাতও করিনি।

এভাবেই পুটু একদিন অনেক বড় হয়ে গেল। মাশাআল্লাহ যথেষ্ট মোটা তাজাও হয়েছে। গ্রাম্য ভাষায় যাকে বলে খাসি ছাগল।
সামনে কোরবানীর ঈদ আসছে। আম্মা ও আব্বা পরামর্শ করলো যে এবারের ঈদে পুটুকে বিক্রি করে দেবে। এই কথা শুনেই আমার মন ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। আমি কিছুতেই পুটুকে বিক্রি করতে দেব না। পরে আব্বা আম্মা সবাই আমাকে অনেক বুঝালো, এবং আমিও সেই বুঝ মানলাম।
পরে বুধবারে বাতাকান্দি হাটে (বাজারে) আমাদের পুটুকে আব্বা নিয়ে গেল। আমিও সাথে ছিলাম।
বাজারের এক পাশে আমি ও আব্বা পুটুর গলার দঁড়ি ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম। অনেক ক্রেতা পুটুকে দেখে  দামাদামি করল। কিন্তু ক্রেতারা মনে হয় পুটুর দাম একটু কম বলেছে, তাই আব্বা পুটুকে বিক্রি করল না। বিকেল হয়ে এসেছে একটু পর সন্ধ্যা হয়ে যাবে। এবং হাট ভেঙ্গে যাবে। এমন সময় আমাদের গ্রামের এক মামা পুটুর কাছে এসে আব্বার কাছে জানতে চাইলো যে ক্রেতারা সর্বোচ্চ  কত টাকা দাম বলেছে?
উত্তরে আব্বা বলল- ২৫০০ টাকা।
তারপর ঐ মামা ২৬০০ টাকা দিয়ে পুটুকে আমার কাছ থেকে নিতেই আমি কেঁদে ফেললাম।
মামা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল- ভাগিনা ঈদের দিন তোমাকে আমাদের বাড়িতে দাওয়াত দিলাম। তুমি যেও কেমন? বলে মামা চলে গেল।

আমরা পুটুকে ছাড়া বাড়ি ফিরে এলাম। তার  দুদিন পর ঈদ। ঈদের দিন সকালে গোসল করে নতুন জামা কাপড় পরে ঈদগায়ে গেলাম। তারপর ঈদের নামাজ পড়া শেষে মসজিদের ইমাম সাহেব একের পর এক গরু ছাগল জবাই করছে। এবার পুটুর পালা, দু তিন জন লোক পুটুর পা গুলি বেধে মাটিতে চাপ দিয়ে ধরে রাখল। এবার ইমাম সাহেব ধারালো ছুরি দিয়ে পুটুর গলায় ধরতেই পুটুর গলা কেটে রক্ত আসতে শুরু করল। আমি নীরব হয়ে সেই রক্ত দেখতে লাগলাম।