Samokal Potrika

একটা জীবনের প্রথম স্বপ্ন-সজ্ঞাত কুড়িটা বছর আমি অপেক্ষা করেছি, 

কুঁড়ি ফোটা প্রথম রাতের শিশিরে হাত ভিজিয়ে লিখতে চেয়েছি প্রেম

তারপর মায়াময় একটা ছিটকিনি খোলা দরজায় চেয়েছি প্রত্যক্ষ ছায়াঝুরি

 সারা দুপুর জানলার রোদ্দুরে নির্ভয়ে খেলে যাবে কাছের পুকুরে সাদা হাঁস

উঠোন ভরা  বিশ্বাসে ডানা মেলে দেবে একটা লতানো জুঁই গাছ পাখির মতো 

রাতভর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তারারা নামবে ছাদ বেয়ে, নারকেল পাতা বেয়ে নির্ভর বারান্দায় 

একদিন নতুন ফসলের গলা জড়িয়ে নামসংকীর্তনের নবান্নে আবৃত্তি করব উৎসব,

অথচ ক্ষুণ্ণিবৃত্তির বড়শিতে গেঁথে সৌখিন ঝিল থেকে হ্যাঁচকায় প্রবৃত্তি চিৎ ডাঙায় 

সারাক্ষণ মাথার উপরে জ্বলেছে বিষাক্ত সূর্যের আগুনে দলা দলা প্রাণের বাতাস

কুড়িটা তিনশত পঁয়ষট্টির হুতাশন নিঃসৃত কথার রাত্রি আর কথার সকাল---

আমি অপেক্ষা করেছি এবং গণণা করেছি প্রতিটা হার থেকে স্বপ্ন খসে খসে পড়ার, 

তারপর একুশতম বার্ষিকী সমুদ্র বালির চরায় ভেসে আসা মৃত গাছের শিকড় থেকে 

সাজানো উঠোন থেকে নামতে নামতে পথের ঢেউয়ে পা তুলে নিয়ে নৌকোর গান

লতানো জুঁই গাছ, নারকেল পাতায় বৃষ্টি আর ভাগের আকাশের ছোটো যত তারা 

হারানো পায়ের দাগের আজন্ম চেনা চৌকাঠে, রংচটা ছাদের রেলিংয়ে শেষ মায়া

পুকুরের ঘাটে শ্যাওলা শুকিয়ে যাওয়া শীতের একটা দুপুর বেলা নতুন পথের খোঁজে 

একটা জীবনের দ্বিতীয় স্থিতি-সজ্ঞাত দু:স্বপ্নে কুড়িটা বছর অপেক্ষায় কাটিয়েদিয়েছি ।