Samokal Potrika

ফুটবল হতে চেয়েছিল সে...

চেয়েছিল চড়ুই হতে, রামধনুর সাতরঙে রঙিন হতে 

সঙ্গে মেঘের বুকে পা রেখে বৃষ্টি হতে চেয়েছিল 

আর স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে খোলা আকাশের নীলিমা ছুঁতে চেয়েছিল সে।।

 

বয়েস তার সবেমাত্র উনিশ, কোঁকড়ানো চুল, চোখ দুটো খুব ছোট ছোট, গায়ের রং শ্যামলা।।

একদিন রোদ্দুর কুড়োতে কুড়োতে হারিয়ে গিয়েছিল শেষ অঙ্ক পরীক্ষার খাতায়

সে নিজেকে এঁকেছিল ঐ পুবআকাশের ধ্রুবতারা আর সপ্তর্ষিমন্ডলের মেলবন্ধনের ভাষায়...

 

তার মায়ের নাবোঝা ভাবনা তার জীবনের সবচেয়ে দামি খুশিগুলো কেড়ে নিয়েছিল..

নিজের ছেলের ইচ্ছেডানা,ভালোবাসা,মন, ভাবনা, কল্পনা এসব কিছুই গুরুত্ব না দিয়ে

 তাকে বিদেশি বানাতে চেয়েছিল

 ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার করতে চেয়েছিল

 তার ফিজিক্স কেমিস্ট্রিতে জোর দিয়েছিল 

 

 বুঝতে পারেনি তার জীবনের আসল ফিজিক্স কেমিস্ট্রিটা...

ভাবতে খুব অবাক লাগে...

আজ সে চিড়িয়াখানার মনমরা চড়ুই,টিয়ার সাজে সর্বসান্ত

নিজেই নিজের চুমু খায় আবার চড়ও মারে নিজেই...

মাঝে মাঝে বলে--

ওই নৃশংস মরুভূমির রুদ্ধশ্বাসে আমি শ্বাষ নিতে চেয়েছিলাম

ওই অসীম সমুদ্রের উচ্ছ্বসিত ঢেউয়ে আমি নিজেকে বারবার ভাষাতে চেয়েছিলাম।।

 

শিল্পের রং গায়ে মাখতে দিলে আজ হয়তো, হয়তো সে চিড়িয়াখানা নয় খোলা আকাশে সবার প্রিয় চড়ুই, টিয়া হতে পারত 

হতে পারত বাঁধন ছেঁড়া সুর,শিল্পের কলোরব।।

 আজ তার একলা আকাশে সে একলা হাসে...

 একনিমেশে থমকে গেছে তার হাসির পৃথিবী আর পৃথিবী হারিয়েছে একটা  হাসি....