Samokal Potrika

"দূরের আঁখিজল বয়ে বয়ে

কী বাণী আসে ওই রয়ে রয়ে"...

শরতের শেষ সপ্তায় বৃষ্টি পড়ছিল,টিপটপটিপটপ শব্দে।অনিকা অনেক রাতে টের পেয়ে বিছানা ছেড়ে জানালায় এসে দাঁড়াল। পাশের বাড়ির উঠানে  থাকা শিউলী গাছের ফুল থেকে সু-গন্ধ ভেসে আসছে।মিষ্টি শীতের আমেজ শরীর জুড়ে।ওড়নাটা রেখে এসেছে বিছানায়।কি যেন অদ্ভুদ সুরের মূর্ছুনায় মনটা ভরে যাচ্ছে।

প্রায় বছর ঘুরতে চলল বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে এসেছে।মাস্টার্স হয়ে গেছে।চাকুরীর প্রত্যাশায় দিন গুনছে।আবেদন করে,পরিক্ষায় অংশগ্রহণও  করে।প্রত্যাশিত চাকুরীটা জুটছে না,চেষ্টার ত্রুটি নেই। শহরে থেকে মাসে মাসে টাকা খরচ করতে নারাজ অভিভাবক বড় ভাই-ভাবী।

এদিকে অভিভাবক ও আত্মীয়-স্বজনরা  বিয়ে দেওয়ার জন্য ছেলে খুঁজছে।কিন্তু যারা সমবয়সী অথবা দু'এক বছর বয়স বেশি, সে সব ছেলের বাবাদের অভিযোগ, মেয়ে দেখতে ভাল হলেও বয়স বেশি।মাস্টার্স  পাশ করতে হলে তো বয়স হবেই,এ কথা বোঝে বিজ্ঞ অভিভাবকেরা। অনিকার পাশে রাখা মোবাইলটা টং শব্দ করে থেমে যায়,হয়তো ম্যাসেজে কোন অফার এলো ।

বৃষ্টি পড়ার সুরটা যেন থেমে গেছে।রাতটা বেশ অন্ধকার।আকাশে মাঝে মাঝে  দু'একটা তারা দেখা যাচ্ছে।মোবাইলের টং শব্দের সাথে আলোকিত তারাগুলোর কোন সম্পর্ক খুুঁজে পাচ্ছিল না অনিকা।হঠাৎ কেন যেন মনে হল মোবাইলের সিমটা খুলে, হাতের মুঠোয় রাখলেই,  অনিকা উড়ে যেতে পারবে। উড়ে সে যাবে কোথায়, তা সে জানে না।সেদিন দু'বছরের সিনিয়র এক ছেলে অনিকাকে দেখতে এসেছিল।ছেলে সাইজে একটু ছোট হলেও দেখতে বেশ সুন্দর,অনিকারও ভাল লেগেছিল।ছেলেটির চোখে হালকাভাবে চোখ পড়ার পর অনিকার মনে হয়েছিল,ছেলেটি অনিকাকে পছন্দ করেছে।

চা পর্বে বেশ হেসে কথা বলেছিল।ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে ছয়মাস আগে চাকুরীটা পেয়েছে,চার বছর আগে নাকি আবেদন করা ছিল;চার বছর  পরে এসে চাকুরীটা হয়েছে।মোবাইলটা খুলে সিমটা নাড়ছিল আর ভাবছিল।এক সময় সিমটা মনের অজান্তেই হাতের মুঠোয় রেখে দিল।

এমন  সময় অন্ধকার বেয়ে ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল।বুকের মাঝে এক ধরণের অনুভুতি জেগে উঠল।ইউনিভার্সিটির সেই  সহপাঠিটা  পদ্মার টিবাধের উপর দাঁড়িয়ে যেন গেয়ে উঠল

 " আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার..."

অনিকা উড়ছে অন্ধকার আকাশে তারাদের সাথে এবং পরীদের সাথে দল বেঁধে সুরে সুরে বলছে "দূরের আঁখিজল বয়ে বয়ে/ কী বাণী আসে ওই রয়ে রয়ে..