Samokal Potrika

দূর পাড়াগাঁয় জন্ম আমার স্কুলটা ছিল দূরে

পায়ে হেঁটে পড়তে যেতাম মাঠ জঙ্গল ঘুরে

বসার জন্য চটের আসন, ব্যগটা ছিল ছেঁড়া

উড়িয়ে ধুলো বন্ধুরা সব ছুটির শেষে ফেরা।

 

খেয়ে যেতাম পান্তা ভাতে পেঁয়াজ, লঙ্কা কাঁচা

উদাস হাওয়ায় দুলতো একা শালিক পাখির খাঁচা।

স্কুলটা ছিল গাঁয়ের শেষে, দেওয়াল ছিল মাটির

শিক্ষকেরা যেমন গরীব তেমনি মানুষ খাঁটি

বেতের মারে চলত পড়া, চলত হিহি হোহো

ভবিষ্যতের কথা ভেবে ছিল না সন্দেহ।

স্যারকে পথে দেখতে পেলে পালিয়ে যেতাম ছুটে

মার খেয়েও বাবা মাকে কে বলে মুখ ফুটে !

ভাঙা স্কুলের দাওয়ায় বসে দাওয়ায় বসে- ও আ ক খ শিখে

কিশোর বয়স পেরিয়ে এলাম রৌদ্রে জলে টিকে।

 

এখন আমি চাকরি করি নিবাস নগরীতে

সহপাঠীরা হারিয়ে গেছে পাতা খসার শীতে।

আমার ছেলে স্কুলে পড়ে, ঝাঁ চকচক বাড়ি

 সময় মতো ওঠায় নামায় স্কুলের ঠিকা গাড়ি

কেউ মারে না , কেউ বকে না-- বায়না তবু কতো

এই খাব না ঐ খাব না বলছে অবিরত

শিক্ষাটাও ঝুলে আছে লক্ষ টাকার দামে

বাপ পড়েছে বাংলায়, ছেলে ইংলিশ মিডিয়ামে।