প্রকৃত একটি কবিতা কী? অর্থ, উপদেশ, জ্ঞান, আবেগ, ছন্দ, চিত্রকল্প, না শুধু শব্দ?

" />

Samokal Potrika

প্রকৃত একটি কবিতা কী? অর্থ, উপদেশ, জ্ঞান, আবেগ, ছন্দ, চিত্রকল্প, না শুধু শব্দ?

 

      সবগুলিই যে বিষয়কেন্দ্রিক বা বক্তব্যপ্রধান কবিতার রূপ তা বলাই বাহুল্য। কবিতায় বিষয় থাকবে, কবির সচেতন ভাবনা প্রসূত সময় ধারণের প্রয়াস থাকবে ; ইতিহাস চেতনা, প্রকৃতি চেতনা বা প্রেম অথবা মৃত্যু চেতনা কোনও একটি বোধ থাকবে অথবা এসব কিছুই থাকবে না সেরকম কবিতাও সার্থক হয়ে উঠতে পারে এ ধারণা আমি সমর্থন করি একটি কারণেই, যদি কবিতাটি প্রজ্ঞার আলোকে উদ্ভাসিত হয়। মানুষের জৈব চিন্তনের আধার হল মানুষের মন। সেখানে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির পূর্ণতা ও শূন্যতা থাকতে পারে। আনন্দ-হাহাকার বাজতে পারে। নঞর্থক বা সদর্থক প্রত্যয় জাগতে পারে এবং তা-ই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রত্যেক ভাবনা বৈচিত্র্যের উৎসে থাকে একটি সত্তা — যে সত্তা ব্রহ্ম স্বরূপ। ঐতরেয় উপনিষদে বলা হয়েছে :“সর্বাণ্যেবৈতানি প্রজ্ঞানস্য নামধেয়ানি ভবন্তি ।” (৩/১/২) । অর্থাৎ সমস্তই প্রজ্ঞারূপ আত্মার উপলব্ধির দ্বার। সুতরাং সমস্ত সৃষ্টির উৎসই যে প্রজ্ঞা তার বিস্তৃত ব্যাখ্যা উপনিষদে দেওয়া হয়েছে। এই প্রজ্ঞাতেই কবিকে ফিরে যেতে হয়। সৃষ্টি তো সমুদ্রের মতো ঢেউ ও অন্ধকারে জটিল, অস্থির। সেখানেই হাতড়াতে হয় আদিম সত্তাকে। যে সত্তা আমার একার নয়, ভূমার। অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো ব্রহ্মসত্তা থেকে ছড়িয়ে পড়েছি জগতে। আবার সেখানেই ফিরে যাব।

 

        রবীন্দ্রনাথ উপনিষদের এই বোধকেই সৃষ্টিতে চালনা করে গেছেন। “ডাকঘরে”র অমলের, “রাজা”র সুরঙ্গমার এবং “রক্তকরবী”র রঞ্জনের মধ্যেও ঢেলে দিয়েছেন আকুলতা। জীবাত্মাকে পরমাত্মার পথে নিয়ে যেতে কত টানাপোড়েন। বাধা-বিপত্তি, যন্ত্রণা-সংগ্রাম ও সংশয় দেখা দিয়েছে। কিন্তু বৈচিত্র্যের ও প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হলেও পথের ব্যত্যয় ঘটেনি। কবিতায়ও রূপকের নেপথ্যে সেই বোধকেই লালন করেছেন। একটি কবিতায় বলেছেন :

 

“মোর চক্ষে এ নিখিলে

দিকে দিকে তুমিই লিখিলে

রূপের তুলিকা ধরি রসের মূরতি।

সে প্রভাতে তুমিই তো ছিলে

এ বিশ্বের বাণী মূর্তিমতী ॥” (ছবি : বলাকা)

 

কবি যেন ব্রহ্মারই চোখে চোখ রেখে এ বিশ্বকে দেখলেন। ব্রহ্মারই তুলিকা হাতে রসের মূরতি আঁকলেন। আদিম প্রভাতে সেই ব্রহ্মাই তো চিরন্তন ছিল। “স্থিরতার চির অন্তঃপুরে” তিনিই তো বিরাজ করেন। আবার তাঁকেই তো কবি বলেন : “তুমি যে নিয়েছ বাসা জীবনের মূলে”।

 

         এই উৎসের স্বরূপকে নানাভাবেই কবি সমগ্র জীবন ধরে অনুভব করেছেন। যে অনুভব W B Yeatsও করেছিলেন সত্তার উৎসে পৌঁছাতে। তাঁর “Before the world was made”কবিতায় দেখতে পাই :

 

“আমি যদি চোখের পাতা কালো করি

চোখকে করি আরও উজ্জ্বল

ঠোঁটগুলোকে আরও টকটকে লাল,

অথবা এগুলোকে যদি ঠিকঠাক রাখা যায়

এক দর্পণ থেকে আর এক দর্পণে

আত্মশ্লাঘা যদি না প্রদর্শিত হয় :

আমি সেই মুখমণ্ডল খোঁজ করি

যা পৃথিবী সৃষ্টির আগেই সৃষ্টি হয়েছিল।”

 

সুতরাং জীবনের মূলে শিকড়ের টান প্রত্যেকেরই। আয়নার পর আয়না পাল্টালেও অর্থাৎ নিজেকে বিভিন্ন রূপে দেখতে চাইলেও সত্তার মুখ একই। এর কোনও পরিবর্তন নেই। এই সত্তাই তো পৃথিবীর ঊষালগ্নে আবির্ভূত হয়েছিল। স্রষ্টা সেটিকেই ধরতে চান। কবিতা সেখানেই ধরা দেয়। সেটাই সত্যিকারের কবিতা। সমূহ প্রবৃত্তিই প্রজ্ঞায় প্রতিফলিত । অগ্নিস্ফুলিঙ্গের ছড়িয়ে পড়া বহুমুখী জিহ্বার লেলিহান প্রকাশ। সবই ব্রহ্মার অংশ হয়ে ওঠে তখনই। তখনই মিলে যায় আত্মপ্রকাশও। আত্মরতির নিবিড় সংশ্লেষও । এই বোধ থেকে কেউই নিস্কৃতি পান না।

 

      সত্তার সম্পূর্ণ গ্রন্থিমোচন যেমন সম্ভব নয়, আত্মস্বরূপ উপলব্ধিরও কোনও উপায় নেই। শতধা বিস্তীর্ণ প্রজ্ঞা সর্ব প্রাণীতেই তার নানারূপে অবস্থিতি। ভাবনাও জটিল থেকে জটিলতর হয়ে ওঠে। কখনও তাঁকে ঈশ্বর, কখনও তাঁকে জগৎস্রষ্টা, কখনও তাঁকে Super natural Power হিসেবে অনুভব করতে চাইলেও কতটা সঠিক উপলব্ধি করা গেল তা নিঃসংশয়ে বলা কঠিন। কবিতা এখানেই দ্বিধান্বিত শিল্প। রহস্যময় এবং অধরা প্রকাশ। যুগ ও সময়ের নিরিখে শব্দ ও ছন্দের পরিবর্তন ঘটলেও ভাবের তেমন বিশেষ পরিবর্তন নেই। বিশেষ করে মৌলিক ভাবনায় যেখানে সত্তার অনুধাবন বা আত্মরতির অন্বেষণ থাকে। এর শেষকথা হয় না। শেষ বলে কোনও সিদ্ধান্তই জানানো সম্ভব নয়।

 

      প্রাজ্ঞ কবি মোহিনীমোহন গঙ্গোপাধ্যায়ই প্রজ্ঞাতেই নিজেকে ঠেলে দিয়েছেন সেই উৎসের পাদপীঠে যেখানে আদিম সত্তাই সমগ্রের সাথে মিশে আছে :

 

“মনের ভেতরে মন ডুবে যায়

বুকের ভেতরে বুক

আকাশ নীলে স্বপ্ন উড়ে

সবুজ ঘন মুখ।” (ফুলে নয়, শিকড়ে আছি)

 

তখন রবীন্দ্রনাথ, W B Yeats এর সঙ্গে তিনিও ব্রহ্মমনের, ব্রহ্মবুকের এবং ব্রহ্মআকাশের সঙ্গে নিজেকে বিস্তৃত করতে পারেন। আর জীবনের স্বরূপকে স্বপ্নের ইংগিতেই প্রতীয়মান করেন। তাই নিবিড়তায় সবুজ মুখ হয়ে ওঠে জগৎ। আদিসত্তারই আত্মপ্রকাশ যেন। সেখানেই কবির আত্মগোপন : 

 

“সব যে নিথর ঝড়ের প্রহর

করছে নাচানাচি —

ফুলেতে নয়, আমি কঠিন

শিকড়ে বসে আছি।”  (ওই)

 

 

এই শিকড়ের নামই তো প্রজ্ঞা। প্রজ্ঞারই অনুকম্প হিসেবে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। মায়ার ভেতর মহামায়ার উপলব্ধি ব্রহ্ম স্বরূপই কবির কাছে ধরা দেয়। এই কবিতায় মৃত্যু চেতনা নেই। স্থূল সৌন্দর্য চেতনাও নেই। আদিম প্রজ্ঞানের অসীম অনন্তলোকের দ্বার উদ্ঘাটনের চেষ্টা আছে। সুতরাং চিরন্তন বোধের দরোজায় তা উপনীত।

 

        এ-ভাবেই চিরকবিতার ইংগিত প্রতিফলিত হয় কবিদের ভাবনায়। সেখানে খণ্ডিত ইতিহাস নেই, কালের সীমানা নেই, যুগের হুজুগ নেই, আঞ্চলিক প্রীতি নেই। এইসব কবিতাগুলি কখনওই যে প্রাসঙ্গিকতা হারাবে না তা বলাই যায়। অনুকরণে অনুসরণে কখনও কখনও তা স্বাস্থ্যকর হয় না ঠিকই, কিন্তু এক দার্শনিক ভাবনায় ৠষিবাক্য হয়ে ওঠে। কবি “ছোট আমি”র ক্ষুৎপিপাসায় ঘুরপাক খেয়ে জীবনধারণের গ্লানিতে শৈল্পিক সিদ্ধি হারিয়ে ফেলেন না। আত্মক্ষরণে যথার্থ আত্মোন্মচ ঘটাতে তৎপর হন। তাই কবির ভাবনার মধ্যে পূর্বসূরীদের প্রভাব থাকতে পারে। আবার ভাবনাও মিশে যেতে পারে। অখণ্ডিত প্রবহমান সময়ের কাছে অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই। টি এস এলিয়ট Four Quartets কাব্যের Burnt Norton কবিতাংশে বলেছেন :

 

“And do not call it fixity,

Where past and future are gathered.

Neither movement from nor towards,

Neither ascent nor decline.”

 

অথবা

 

“Time present and time past.

Are both perhaps present in time future.

 And time future contained in time past.”

 

রবীন্দ্রনাথ “কথা কও, কথা কও” বলে অতীতের কাছে স্তব্ধতা ভাঙতে চেয়েছেন। সময়ের ধারায় এ ভাবেই চিরকবিতা কবিদের জাগায়। লেখাতে বাধ্য করে। এলিয়ট কথিত Tradition এ অন্তর্ভুক্ত করে ।

 

     এই “পৃথিবীর রণ-রক্ত-সফলতা সত্য” হলেও “তবু শেষ সত্য নয়”। আপাত দৃষ্টিতে আমাদের কাছে পৃথিবী মানুষ বাসের উপযোগী নয়। রিরংসা মৃত্যু বিদ্বেষ রক্তপাতে আমরা দিশেহারা। তখনই অনভব করি “পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন”, কিন্তু মানবজন্মের সার্থকতা তো এই পৃথিবীতেই রয়েছে। যে অচেতন ব্রহ্ম হয়ে আমরা সত্তাকে অনুভব করতে পারতাম না, মানবজন্মে চেতনা ফিরে পেয়ে পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ স্পর্শ আমাদের জীবনকে পরিপূর্ণ করে তোলে। এই জীবন তো সেই ব্রহ্মারই লীলা। সুতরাং শাশ্বত অন্ধকার, শাশ্বত সূর্যোদয় প্রবহমান আদিমতার নিরিখেই কেন্দ্রীভূত হয়ে চলেছে। এই চিরকবিতাকেই মানবজন্মের বোধে তুলে ধরেছেন কবি জীবনানন্দ দাশও :

 

“মাটি —পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,

না এলেই ভালো হ’তো অনুভব ক’রে ;

এসে যে গভীরতর লাভ হ’লো সে-সব বুঝেছি

শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে ;

দেখেছি যা হ’লো হবে মানুষের যা হবার নয় —

শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়।”

 

                          (সুচেতনা :বনলতা সেন)

 

“সুচেতনা” কবিতার নামটিই সেই ইংগিতবহ। প্রজ্ঞা জেগে উঠলেই জীবনের মাধুর্য ও সৌন্দর্য অনুভূত হয়। তাই প্রজ্ঞা যে সুচেতনারই নামান্তর একথা বলা চলে। “শাশ্বত রাত্রি” এবং “অনন্ত সূর্যোদয়” ব্রহ্মরাত্রি এবং ব্রহ্মদিনেরই প্রকাশ। এখানেই পার্থিব বোধে চিরকবিতা রচিত হয়েছে।

 

         প্রকৃতির মধ্যে শুধু অন্তর্লীনই নয়, পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী, পেশা, জৈবধর্মের আড়ালে কবির প্রজ্ঞা মিশে থাকে। আর এই প্রজ্ঞার বলেই কবি অনুভব করেন সমত্ব। নিজেকে যেমন গাছ ফুল পাখির সত্তায় দেখেন, তেমনি নিঃসঙ্গতা স্তব্ধতা রাত্রির মধ্যেও বিস্তৃত করেন। আবার প্রাণীত্বে আরোপও এই বোধেরই নামান্তর হয়ে ওঠে। শামসুর রাহমানের কবিতায় সে-রকম বোধেরই দেখা মেলে :

 

“অথচ নিঃসঙ্গ বারান্দার

সন্ধ্যা, এভেন্যুর মধ্যরাত্রির স্তব্ধতা, সার্কাসের

আহত ক্লাউন আর প্রাচীরের অতন্দ্র বিড়াল,

কলোনির জীবন মথিত ঐক্যতান, অপ্সরীয়

তারাবেঁধা কাঁচুলি, গলির অন্ধ বেহালাবাদক

ব্রাকের সুস্থির মাছ, সেঁজার আপেল জানে কতো।

সহজে আমাকে, জানে কবরের দুর্বিনীত ফুল ।”

 

                 (আত্মপ্রতিকৃতি :রৌদ্র করোটিতে)

 

বুদ্ধিজীবী কবি একান্ত আত্মপরিচয় দিতে গিয়ে মনুষ্যেতর প্রাণী থেকে মাছ আপেল বেহালাবাদক অপ্সরী সবই উল্লেখ করলেন ; সেইসঙ্গে মৃত্যুর প্রজ্ঞালোকে জেগে ওঠা কবরের দুর্বিনীত ফুলের বোধেও আত্মপরিচয়ের মূর্ছনা রেখে দিলেন। এখানেই কবি সর্বময় ব্রহ্মলোকের অনন্তযাপনকে তাঁর বোধিতে শব্দায়িত রূপ দিতে পারলেন। চিরকবিতা এখানেই তার মহিমা খুঁজে পেল।

 

           কালস্রোতের মহাজাগতিক বিস্ময়ে আমরা সকলেই প্রবেশ করি। আবির্ভূত হই। আমাদের আয়ুর সীমানায় ঘুরপাক খাই । তারপর সেই রহস্যেই আবার পৌঁছে যাই। এই চিরন্তন রহস্য আমাদের ভাবায়, আক্রান্ত করে। মায়ার ভেতর সেই মহামায়ারই খেলা চলতে থাকে। সুতরাং পার্থিব জগতের রসায়ন চিরদিনই আমাদের কাছে সমাধান হতে পারে না। বাংলাদেশের আরও একজন শক্তিশালী কবি আল মাহমুদ ছোট্ট একটি কবিতায় লিখেছেন :

 

“আদি সত্যের পাশ দিয়ে একটা নদী বইছিল

আমি সামান্য মানুষ, নদীকে বললাম, থামো।

আর দেখো, উতরোল জলস্রোতে

কাঁপতে কাঁপতে নিশ্চল সত্য

কত অনায়াসে ডুবে গেল।”

 

(আদি সত্যের পাশে :অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না)

 

নদী তো কালপ্রবাহ। এই প্রবাহ সবকিছুকেই ডুবিয়ে দেয়। মানুষ কালপ্রবাহের বুদবুদ। নিমেষে সে মিলিয়ে যায়। তার জেগে ওঠাটাই প্রজ্ঞাদীপ্তি। নিশ্চল সত্যের প্রকাশ। কিন্তু তাকে চলে যেতেই হয়। ক্ষুদ্র মায়া সেখানে কী করে স্থির হবে? কবিতার শেষ অংশটুকুতে কবি তাই বলেন সেই দার্শনিক ভাষ্যই :

 

“দেখলাম

বানের জল এমন ঘোলা যে

হারিয়ে যাওয়া নাকফুলের হদিস করতে

আজ আর কেউ নদীতে নামবে না।”

 

এভাবেই অতীত বিস্মৃতির গর্ভে বিলীন হয়। বর্তমান অতীত হয়ে যায়। সময়ের এই মহাশূন্যতায় আমাদের মনুষ্য নির্বিকার। ফলে যেন মহাকাল প্রবেশ করে। প্লেটো “Timacus”গ্রন্থে একথাই বলেছেন : “Moving image of eternity.” “নাকফুল” তো আমাদেরই “ক্ষুদ্র আমি”র মোহ, বানের ঘোলা জল তো অনন্ত স্রোতের দুর্জ্ঞেয় মহাকাল । এলিয়ট “Four Quartets”কাব্যে একটি কথা বারবার বলেছেন : “The still point of the turning word.” এই Still Point—ই সত্য, তা-ই তো শেকড় ; সূর্যোদয় আদি সৃষ্টির প্রতীক ; আবার ঘোলা জলের স্রোতও। সেখানেই ব্রহ্ম, পরমাত্মা। Turning Word অস্থায়ী, মায়া-মোহ, নাকফুল । ব্রহ্মের আত্মপ্রকাশ এইসব অস্থায়ী মায়া-মেহের মধ্যেই ; সকলকে নিয়েই তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বয়ম্ভু। তাঁর উত্থান-পতন একই চক্রাকারে বিবর্তিত। কবিতা সেই বিবর্তনের ধারণাকে, জটিল ও অস্পষ্টতাকে সামনে আনতে চায়। আবহমান কালের প্রেক্ষিতে উঠে আসেন কবিরা আর একে একে লিখে চলেন এই প্রজ্ঞালোকের অনুভাবনাকে।