Samokal Potrika

মিজার মিয়া মাছ ধরার জন্য তার দুই ছেলেকে নিয়ে নৌকা নিয়ে একটি খাল ধরে বড় গাঙ্গের দিকে যাচ্ছে।
গতবছর এই খালের উপড় একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল এবং সেই ব্রিজ নির্মাণ করার সময় মোটা মোটা কয়েকটি গাছের খুঁটি এখনো ব্রিজের নিচে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। ব্রিজের আশেপাশের গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়ে গুলি সেই সব মোটা মোটা খুঁটি গুলির উপড় দা ছুড়ি দিয়ে মানুষের মূর্তি বানানোর চেষ্টা করছে এবং দেখতে মানুষের নাক, কান ও মাথার মতো করে একটা ভাস্কর্যের আকৃতি ধার করিয়েছে! বর্ষার পানিতে এখন সেই খুঁটি গুলি ডুবে গেছে। তবে ভাটার সময় জাগে আবার জোয়ারের সময় ডুবে যায়।

মিজান মিয়া মাছ ধরার জন্য এখান দিয়ে যাবার  সময় তার নৌকাটি একটি খুঁটির উপড় আটকে গেলে নৌকাটি আর সামনের দিকে কিংবা এদিক ওদিক কোথাও যাচ্ছে না।
মিজান মিয়া তার বড় ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলল- দেখ তো বাবা নৌকাটা কিসের মধ্যে আটকে গেছে?
মিজান মিয়ার বড় ছেলে নৌকা থেকে পানিতে নেমে নৌকার তলার নিচে হাত দিলে হাত লাগে খুঁটির যেখানে কান আকৃতি করেছে সেখানে! মিজান মিয়ার বড় ছেলে পানি থেকে উঠে বলল- আব্বা এটা তো ইয়ে'র মতো মনে হয়!
ইয়ে কী?
ঐ যে মানুষের ইয়ের মতো!
মিজান মিয়া তার বড় ছেলের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে তার ছোট ছেলেকে বলল- এই তুই দেখত নৌকাটি কিসের মধ্যে আটকে গেছে?
ছোট ছেলে খুঁটির মাথায় হাত দিয়ে বলল- আব্বা এটা তো ইয়ের মতো মনে হয়!
কী সব ইয়ে ইয়ে শুরু করেছিস?
হ আব্বা এটা মানুষের ইয়ের মতো মনে হচ্ছে!
মিজান মিয়া তার ছোট ছেলের উপর রেগে বলল- কী সব ইয়ে ইয়ে শুরু করেছিস বলে পানিতে ঝাপ দিয়ে খুঁটিতে হাত দিলে হাত গিয়ে পড়ে খুঁটির মুখের উপড়! মিজান মিয়া সঙ্গে সঙ্গে হাত টেনে পানির উপড়ে উঠে বলল- এটা তো ইয়ের মতো'ই মনে হয়!

এমন সময় এই খাল ধরে নৌকা দিয়ে কে যেন এদিকে আসছে। মিজান মিয়ার কাছে আসতেই মিজান মিয়া বলল- কে কবিতার বাপ না?
হ। তা কী হয়েছে মিজান ভাই?
আরে আর কইয়ো না। নৌকাডা কিসের মধ্যে যেন আটকে গেল এখন আর এদিক ওদিক কোন দিক'ই যায় না। সেই দুপুর থেকে আমরা তিন বাপ পুতে মিল্লাও বুঝতে পারছি না। নৌকাডা কিয়ের মধ্যে আটকিয়ে গেল। সেই ইয়েটা আসলে কী? একটু কষ্ট করে দেখো না ভাই নৌকাডা যেই ইয়ে'ডার মধ্যে আটকিয়ে গেল সেই ইয়ে'ডা আসলে কী?

মিজান মিয়ার কথায় কবিতার বাপ পানিতে নেমে খুঁটিতে হাত দিল তার হাত খুঁটির নাকের উপড় পড়লে কবিতার বাপ পানি থেকে উঠে মিজান মিয়া ও তার ছেলেদের উদ্দেশ্য করে বলল- ধুরু মিয়ারা সেই দুপুর থেকে তিন বাপ পুতে মিল্লাও বুঝতে পারো নাই এটা কী?
এটা তো ইয়ে'র মতো'ই মনে হয়!!!