একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সেই একই ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রয়োগে। জনগণ বা ভোটারের ভোটে কোনো ব্যক্তি বিধায়ক বা সাংসদ নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর কাল অতিক্রম করে দিলেই তিনি আজীবন পেনশনভোগী হয়ে যাবেন। কিন্তু কেন এই সুবিধা তিনি পাবেন?<" />

Samokal Potrika

২০০৪ সালের পর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীদের পেনশন থাকবে না। তার আগের সরকারি কর্মীদের পেনশন যেমন ছিলো তেমনই থাকবে। সময়কাল এখানে একটি সীমারেখা মাত্র। প্রশ্ন অন্য জায়গায়। একজন মানুষ লেখাপড়া করে চুড়ান্ত পরীক্ষা পর্ব পেরিয়ে সরকারি চাকরি পান। এবং অধিকাংশ মানুষ কর্মজীবনে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ বছর শ্রম ও মেধা ব্যয় করেন। তারপরও তাদের পেনশন প্রথা বন্ধ করে দেওয়ায় অভিযোগ নেই। বিশ্বের বহু দেশেই পেনশন নেই। তাহলে প্রশ্ন কি ও কোথায়? প্রশ্ন হল একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সেই একই ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রয়োগে। জনগণ বা ভোটারের ভোটে কোনো ব্যক্তি বিধায়ক বা সাংসদ নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর কাল অতিক্রম করে দিলেই তিনি আজীবন পেনশনভোগী হয়ে যাবেন। কিন্তু কেন এই সুবিধা তিনি পাবেন? বিধায়ক বা সাংসদ থাকা কালীন তিনি মাস মাইনা পান। পান যাতায়াত, মোবাইল টেলিফোন খরচ সহ যাবতীয় ভিআইপি সুবিধা। সেখানে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বা কর্মদক্ষতা বিচার্য নয়। বিধায়ক বা সাংসদদের জমা করা আয়ের তথ্য ঘেটে দেখা গেছে একজন সাধারণ মানুষ বিধায়ক বা সাংসদ হওয়ার পর তাদের সম্পত্তির পরিমাণ কোন জাদু স্পর্শে কয়েক শো গুণ থেকে দু'হাজার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৩০ কোটি মানুষের দেশে যে নাগরিক তাদের গনতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচিত করেছেন। তাদের কর্ম নিশ্চয়তা, শিক্ষা স্বাস্থ্য বা অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা পর্যন্ত পূরণ হয়না। অথচ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয় শুধু মাত্র বিধায়ক, সাংসদদের পেনশন দিতে! যা দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক বড় বোঝা। যে অর্থ ব্যয়ে অনায়াসে বছরে কম করেও ১০ কোটি মানুষকে স্বাভাবিক মৌলিক পরিষেবা দেওয়া সম্ভব! অবিলম্বে সরকারি কর্মচারীদের মত বিধায়ক সাংসদদের পেনশন বন্ধ করা হোক।