একজন ভোটারের ক্ষেত্রে তার নাগরিক অধিকার সীমাবদ্ধ তার নামের তালিকায়। পরিসংখ্যান বলছে দেশের ৩৮ শতাংশ মানুষ কর্ম সূত্রে তার নিজের এলাকার বাইরে থাকেন। এছাড়া তরুণ প্রজন্মের শিক্ষিতরা প্রায় ৪৩ শতাংশ কোনো না কোনো ভাবে তথ্যপ্রয" />

Samokal Potrika

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতে ডিজিটাল ইন্ডিয়া নিয়ে কোটি কোটি টাকা করচ করা হচ্ছে। আধার কার্ড নিয়ে সাধারণ মানুষকে চুড়ান্ত নাজেহাল হতে হচ্ছে। অথচ নাগরিক অধিকার নিয়ে কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলের কোনো উদ্যোগ বা মাথা ব্যথা নেই। ভোটারকে নিয়ে ক্ষমতা দখলের অঙ্ক, জোটের ঘোট সবই আমরা দেখতে অভ্যস্থ। গালভরা নাম দিয়ে ২৫ জানুয়ারি ভোটার উৎসাহ দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্ত ভোটার তার নাগরিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আজও সীমিত গন্ডিতেই বন্দি। ভোট অধিকার প্রয়োগ করতে হলে একজন নাগরিককে অর্থ, সময় ও শ্রম নষ্ট করে তাকে সেই নির্বাচনী ক্ষেত্রে পৌছাতে হবে যেখানে ভোটার হিসাবে তিনি নথিভুক্ত। উল্টো দিকে দেখুন নির্বাচনে প্রার্থী হতে গেলে তাকে সেই নিয়ম মানতে হচ্ছে না। তিনি তার পছন্দ মত যে কোনো জায়গা থেকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারেন। শুধু মাত্র তাকে নির্বাচনের পরিধি মানতে হবে। বিধান সভা বা লোকসভা হলে রাজ্য বা দেশের সব প্রান্ত তার জন্য বৈধ। কিন্তু একজন ভোটারের ক্ষেত্রে তার নাগরিক অধিকার সীমাবদ্ধ তার নামের তালিকায়। পরিসংখ্যান বলছে দেশের ৩৮ শতাংশ মানুষ কর্ম সূত্রে তার নিজের এলাকার বাইরে থাকেন। এছাড়া তরুণ প্রজন্মের শিক্ষিতরা প্রায় ৪৩ শতাংশ কোনো না কোনো ভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। পেশাগত কারণে তাদের ব্যস্ততা অন্য পেশার তুলনায় অনেক বেশি। সুতরাং ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে সুযোগ খুব কম। সেক্ষেত্রে একজন ভারতীয় বৈধ ভোটার হয়েও সে তার ভোট কেন কর্মক্ষেত্রের নির্বাচনী এলাকায় দিতে পারবে না? আমাদের শ্লোগান - আমার ভোট আমি দেবো, যেখানে থাকবো সেখানেই দেবো। নির্বাচনী সংস্কার ছাড়া এর কি কোনো দ্বিতীয় পথ নেই। সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে ও নাগরিক অধিকার প্রয়োগে উতসাহী করতে অবিলম্বে দেশের সব প্রান্তে একজন ভোটারের অধিকার কার্যকরী করা হোক।