গণতন্ত্রের উপর মানুষের বিতৃষ্ণা দিনদিন বেড়েই চলেছে। অথচ নির্বাচন কমিশন বা সরকার এই ব্যপারে সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয়। ভারত বর্ষের মত বহু ভাষাভাষী ও বহু জনজাতির বৈচিত্র‍্যপূর্ণ সহবস্থান সংসদীয় গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ হওয়ার যে সুযো" />

Samokal Potrika

রাজনৈতিক ময়দানে ঘোড়া কেনা বেচা একটি অতি পরিচিত শব্দ। মসনদ দখলের চুড়ান্ত হিসাব না মিললেই বিভিন্ন দলের ম্যানেজাররা কোটি কোটি টাকার থলে হাতে বিধায়ক, সাংসদ কিনতে নেমে পড়েন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও টাকার লোভে দলের বিধিনিষেধ কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলে যান অন্য দলে। যে দল বা যাদের ভোটে জিতে তিনি বিধায়ক বা সাংসদ হন তাদের মতামতের কোনো মূল্যই থাকেনা। অথচ সংসদীয় গণতন্ত্রকে সম্মান জানিয়ে প্রয়োগ করা নাগরিক অধিকার বিক্রি হয়ে যেতে দেখেও ভোটারদের করণীয় কিছু থাকেনা। যেকারণে সংসদীয় গণতন্ত্রের উপর মানুষের বিতৃষ্ণা দিনদিন বেড়েই চলেছে। অথচ নির্বাচন কমিশন বা সরকার এই ব্যপারে সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয়। ভারত বর্ষের মত বহু ভাষাভাষী ও বহু জনজাতির বৈচিত্র‍্যপূর্ণ সহবস্থান সংসদীয় গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ হওয়ার যে সুযোগ দিয়েছে, কিছু দূর্নীতিগ্রস্থ নেতা নেত্রী বা ক্ষমতা লিপ্সু রাজনৈতিক দলের কল্যাণে তা আজ চুড়ান্ত অবদমিত ও প্রহসনে পরিণত। নির্বাচন কমিশনের নিয়মে দল বদলে ক্ষমতা ভোগীদের বিরুদ্ধে শাস্তি যোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার কোন উপায়ও নেই। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দল বদলের সাথে বিধায়ক বা সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করা বাধ্যতামূলক করা উচিৎ। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ভারতে মোট ১৬৬৮ টি রাজনৈতিক দল লিপিবদ্ধ। এছাড়া আরও ৮৭৯ টি রাজনৈতিক দল তাদের রেজিস্ট্রেশন রিনিউয়াল করায়নি। নতুন রাজনৈতিক দলের আবেদন জমা আছে ১৫৮ টি। যে দেশের গনতন্ত্র নিয়ে আমরা গর্ব করি সেই দেশে গনতন্ত্রের কি করুণ দশা! এই পরিসংখ্যান তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। আঞ্চলিক বৈসম্যের কথা বলে যারা রাজনীতি করেন বা রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন, তারাই আজ রাজনৈতিক মাফিয়াদের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা ব্যবসার মূলধন। বাস্তব এই পরিস্থিতি স্বীকার করে অবিলম্বে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের দল বদলের সাথে সাথে জনপ্রতিনিধি পদ থেকে পদত্যাগ বাধ্যতামূলক করা হোক।

Search Here..