বিকাশ মনস্থির করলো এদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করার। কিন্তু পুলিশের কলঙ্ক সেই ও.সি. তার তুচ্ছদৃষ্টিতে যেন বুঝিয়ে দিল ওসব করেও লাভ হবে না।

" />

Samokal Potrika

বিকাশ তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করানোর উদ্দেশ্যে খড়্গপুরে ইন্দার মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। অকস্মাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো দ্রুত বেগে একটা মোটরবাইক ধাক্কা দিল। বিকাশের মায়ের কনুইয়ে প্রচণ্ড আঘাতজনিত যন্ত্রণা হতে লাগলো। স্থানীয় লোকজন বাইক আরোহীকে দাঁড়াতে বললো ।বাইকে দুজন বসেছিল। দুজনের মুখ থেকেই মদের দুর্দন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। দুজনকে দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা সরে দাঁড়ালো,কেননা দুজনেই স্থানীয় নামকরা পুলিশ অফিসারের নিকট আত্মীয়।

বিকাশ ঐ মদ্যপদের সাথে বৃথা বচসায় না জড়িয়ে বাইকের নাম্বারটা মনে রেখে দিল। বাইক আরোহী বেপরোয়া মদ্যপ যুবক নির্দয় নির্লজ্জভাবে বুড়ো  আঙ্গুল দেখিয়ে চলে গেল।

বিকাশ তার অসুস্থ মাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরল। ও বরাবরই শান্ত কিন্তু প্রতীবাদী স্বভাবের।ওই বাইক আরোহীর এহেন দুরাচার তার হজম হলো না। সে খড়্গপুর লোকাল থানায় গেল অভিযোগ দায়ের করতে। 

সবশুনে ও.সি. বিরক্তির সুরে বললেন,"এসব ছোটখাটো ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করে বৃথা ঝামেলায় জড়িও না।" 

--"এটা সামান্য ব্যাপার? অসুস্থ মায়ের কিছু হয়ে গেলে এর দায় আপনি নিতেন?"

--"আমি কি দায়িত্বের ঠিকা নিয়েছি নাকি?" এই বলে ও.সি. তর্কবিতর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করলো।

বিকাশ মনস্থির করলো এদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করার। কিন্তু পুলিশের কলঙ্ক সেই ও.সি. তার তুচ্ছদৃষ্টিতে যেন বুঝিয়ে দিল ওসব করেও লাভ হবে না।

উচ্চশিক্ষিত অতি সাধারণ পরিবারের ছেলে বিকাশ মনে মনে ভীষণ ব্যথিত হলো-"সত্যিই তো  জোর যার মুলুক তার।ক্ষমতাসীন মানুষ যা খুশি তাই করবে নাকি?"

 

পরের দিন শাসকদলীয় কোন এক বিখ্যাত নেতা এলেন মেদিনীপুরে সভায় যোগ দিতে। হাইরোড থেকে সাধারণ রাস্তা সব একেবারে কড়া পুলিশ প্রহরায় সজ্জিত হয়ে উঠলো।

বিকাশের মনটা গতকালের ঘটনায় ভারাক্রান্ত ছিল। তবুও বন্ধুদের অনুরোধে মেদিনীপুর রওনা দিল সভা দেখতে। সভাস্থলে তো একেবারে উপচে পড়া জনসমাগম। নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে হাজির হলেন মাননীয় নেতা। শুরু হলো উচ্চস্বরে বক্তৃতা," আমাদের সরকার কি করেনি?এককথায় সবকিছুই করেছে। বাকি সমস্থ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ার মুখেই।"

 

ঘন ভিড় ঠেলে  খুব কষ্টে বিকাশ সবন্ধুবান্ধব  সভার সামনের দিকটায় দাঁড়িয়েছিল। নেতা মন্ত্রীর এধরনের মিথ্যা কৃতিত্ব তার আর সহ্য হলো না।

সে জোর গলায় চেঁচিয়ে বললো," আমরা শত শত উচ্চশিক্ষিত বেকার হয়ে ঘুরছি। কোন রিক্রুটমেন্টই হচ্ছে না কয়েকবছর ধরে। আর যারা চাকরি পাচ্ছে  তারা লাখ লাখ টাকা দিয়ে।"

বিকাশের এই চাঁছাছোলা প্রতিবাদে প্রবঞ্চক নেতা ক্রোধের আগুনে জ্বলে উঠলেন। ভীষণ উত্তেজিত হয়ে বললেন," ওই ছেলেটা নিশ্চয়ই বিরোধী দলের পাঠানো। আমার সভা পণ্ড করতে এসেছে। ওকে নিয়ে যাও ধরে।"

মুহূর্তেই একদল পুলিশ বেচারা শিক্ষিত প্রতিবাদী বিকাশকে ধরে নিয়ে গেল। পরদিন থেকে শহরের শত শত বেকার যুবক বিকাশের নিশর্ত মুক্তির দাবিতে এস.ডি.ও অফিসের সামনে  বিক্ষোভ শুরু করলো।  আজও যে মধ্যযুগীয় বর্বর মাৎস্যন্যায় অব্যাহত তার নজির প্রায়ই পরিলক্ষিত হয়।

Search Here..