" />

Samokal Potrika

দুই নাতির আবদারে দাদু (তপনবাবু)গল্প শুরু করলেন। তিনি বললেন, -"বুঝলি, বহু বছর আগে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটতো। আজকের ভোরে তো মহালয়া, তো তোদের এই মহালয়া দুর্গাপূজা নিয়ে একটা গল্প বলছি শোন। 

আমার বয়স তখন তোদেরই মতো। আমাদের পাড়ার চার মেয়ে রিমি, মিমি ,সুমি আর ভগবতী একই ক্লাসে পড়াশোনা করতো। ভগবতীর গায়ের রং শ্যামলা হওয়ায় এবং দেখতে কুশ্রী হওয়ায় তাকে তিন বন্ধু দলে মেশাতে চাইতো না। সেইদিন ছিল মহালয়ার ভোর। বাড়ির দুয়ারে রেডিওতে মহিষাসুর মর্দিনী শুরু চলছে। আমি আর ওরা চারজন বসে বসে তা শুনছি।  ভগবতী বলে উঠলো যে সে দুর্গা সাজতে চায়। বাকি তিন বন্ধু নাক উঁচু করে তাকে অপমান করে বললো যে এমন কুৎসিত মেয়ে সে আবার দুর্গা সাজবে! ভগবতী কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে চলে গেল।  হঠাৎ রেডিও থেকে তীক্ষ্ণ কন্ঠে ভগবতীর আওয়াজ শোনা গেল-" আমি ভগবতী,তোদেরকে আমি শিক্ষা দিয়ে ছাড়বো।"

রেডিওর মধ্য থেকে এই ভয়ানক আওয়াজে সবাই আতঙ্কে চিৎকার করে ঘরে প্রবেশ করলো। সবাই দেখতে পেল ভগবতী তো ঘুমিয়ে আছে! প্রত্যেকে প্রত্যেকের মুখের দিকে তাকালো।

তারপর আবার এক অত্যাশ্চর্য কাণ্ড ঘটলো সপ্তমীর দিন। ঐ তিন বন্ধু মিলে ভগবতীকে না জানিয়েই পাড়ার দুর্গা প্রতিমা দেখতে এল। প্যান্ডেলের সামনে প্রচুর জনসমাগম। রিমি,মিমি এবং সুমির নিকটে হঠাৎ উপস্থিত হলো ভগবতী। সে প্রচণ্ড ক্ষোভে জ্বলে উঠে দেবীদুর্গার রুদ্রমূর্তি ধারণ করলো এবং চিৎকার করে বললো, " তোরা আমায় এত ঘৃণা করিস কেন?" তিন বান্ধবী অচৈতন্য হয়ে লুটিয়ে পড়লো। 

এমন সময় দাদুর ভাঙা রেডিওতে মহিষাসুর মর্দিনী শুরু হয়ে গেছে। হঠাৎ রেডিও থেকে ভগবতীর তীব্র কন্ঠ ধ্বনিত হলো  " বুড়ো তপন, আমি তো তোর একমাত্র বোন ছিলাম, দেখতে খারাপ বলে তুইও তো আমায় কোনদিন স্নেহ করিস নি।"

দাদু (তপনবাবু) জ্ঞান হারালেন।