Samokal Potrika

'ই' বাজার প্রায় সর্বত্র।অক্ষর দরজায়,দরজায় কড়া নাড়ার আগেই 'ই'পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে।ড্রয়িংরুম থেকে বেডরুম।আলতো আলোয়,হালকা মেজাজে গদ্য-পদ্য-এমনকি সমালোচিত বিভিন্ন আলোচনা।বাদ নেই নিত্য দিনের রোজকার রাজনীতি,খেলাধুলা,বিনোদন।পত্র-পত্রিকার এরূপ অনলাইন সংস্করণে পাঠক বেড়েছে অগণতি।অংশগ্রহণের পথ অনেকটাই সুগম হয়েছে।চায়ের কাপে চুমুক দেবার মুহূর্তে আর পাতা অল্টানোর প্রয়াসটুকু করতে হয়না।সামান্য টাচে গোটা একটা বিশ্ব চোখের সামনে ভেসে ওঠে।পাঠক ও পাঠিকার চৌকাঠে প্রবেশ,এরূপ সহজ সাধ্য হওয়ায় প্রকাশনা ও সম্পাদকমণ্ডলীও নিজস্ব ওয়েব গ্রূপে যুক্ত করছেন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের আগ্রহী ব্যক্তিবর্গকে।এমনকি লেখক,কবি বন্ধুরা তাঁদের ভাবনাদের সম্পাদকের টেবিলে পৌঁছে দিতে পারছেন এসবেরই দৌলতে।চোখের নিমিষে দ্রুতায়নের এমন রূপান্তর আগামীর বাহক একথা বলা যেতেই পারে।

তবে প্রতিটা কয়েনের উল্টো পিঠের একটা গল্প থাকে বা থাকা উচিত।এক্ষেত্রেও তাই।ম্যাগের রমরমার কারণে অক্ষর বা ছাপাখানার গর্ভ-গুহা অনেকটাই নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে,একথা বলছে সমালোচকরা।গুটেন-বার্গ যে প্রবাহধারা আদ্যন্ত কাল ধরে মানব সমাজের অগ্রগতির ধারক হিসাবে মেলে ধরেছিলেন তা দিনে দিনে পিছিয়ে পড়ছে।তবে একটু গভীরে আলোচনা করলে একথা সহজেই অনুধাবন করা যায় যে,ই বাজারে যোগাযোগটা সত্যিই অনেক সহজ,অনেক দ্রুত।কিন্তু পাতা অল্টানোর যে স্নিগ্ধতা তা হয়তো কখনোই মুছে যাবার নয়।ছাপার অক্ষরের সাবেকিয়ানা,হয়তো অভিজাত বাড়ির ঠাকুর দালানের মতো থেকে যাবে ঐতিহ্যের বাহক হয়ে।নতুন হয়তো এগিয়ে যাবে অনেকটা।দখল করবে বই বাজার।কিন্তু পাতা অল্টানোর সুখ কখনো মুছে যাবার নয়।যেমনটা আজও কোনো দলিল বা মানপত্র পুরাতত্বের কাছে হীরক ন্যায় মূল্যবান। তেমনি ছাপার অক্ষরের পত্র-পত্রিকার ও তার সন-তারিখ আপামর জনসাধারণের কাছে থেকে যাবে জীবন ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হিসাবে।মাথা তুলে দাঁড়াবে তারই সংস্করণ,ই-ম্যাগ তথা ই-ম্যাগাজিন।সাহিত্য সমাজ মানবের এক ও অদ্বিতীয় রূপক রূপে।