Samokal Potrika

কেচুয়া ভাষায় ‘yana’ কথার অর্থ হল কালো আর ‘qucha’ কথার অর্থ হল হ্রদ।   এই ইয়ানাকোচা পেরুর কাখামার্কা অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে সোনার খনি আছে এবং এই সোনার খনি হল পৃথিবীর মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম।

পেরুর প্রাচীন লোকগাথা থেকে জানা যায় আয়াকুচোর যুদ্ধের পর স্পেনীয়রা সেখানকার সব ধন সম্পত্তি নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তারা যখন উয়ান্তার কাছে রাসুউয়িকা পাহাড়ে এসে পৌঁছালো, তারা আর অত ধন সম্পত্তি বহন করতে পারছিল না। তাদের যেন সেই ধন সম্পত্তি শত্রুদের হাতে চলে যাক সেটা তারা চায় নি। তাই তারা সেগুলো পাশের একটি হ্রদের জলে ফেলে দেয়। 

কথিত আছে এই ঘটনার আগে পর্যন্ত ওই হ্রদের জল ছিল স্ফটিকের মত স্বচ্ছ। কিন্তু অত ধন সম্পত্তি ওই হ্রদের মধ্যে ফেলার ফলে হ্রদের জলের রং পরিবর্তিত  হয়ে যায়। তখন থেকে সেই হ্রদ ‘ইয়ানাকোচা’ বা কালো হ্রদ নামেই পরিচিত।  

সেই ধন সম্পত্তি হ্রদের জলে পড়ার সাথে সাথেই এক যুবক জলে ঝাঁপ দেয় ও সাথে সাথে সে মারা যায়। লোকগাথা থেকে জানা যায় সেই রাত থেকে সোনার চেনে বাঁধা একটি স্বর্ণ ষাঁড় ওই হ্রদ থেকে জেগে ওঠে। সে ওই হ্রদ থেকে   পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু সে পালাতে পারে না। কারণ ওই চেনটি একটি সোনালী চুলের সুন্দরী মৎস্য কন্যা শক্ত করে হাতে ধরে রাখে। 

ঠিক রাত বারোটার সময় যখন ওই ষাঁড় ও মৎস্য কন্যার যুদ্ধ হয়, সেখান থেকে একটি গলার স্বর ভেসে আসে এবং সে বলে-

আমি একজন যুবক। আমি এখানে এসেছিলাম ধন সম্পত্তির খোঁজে, কিন্তু আমি একটি ষাঁড়ে রূপান্তরিত হয়ে যাই। তোমরা যদি আমাকে জল থেকে টেনে তোল, তাহলে আমি এখনও নিজেকে বাঁচাতে পারি।

শোনা যায়, বহু মানুষ ধন সম্পত্তির খোঁজে এই হ্রদের জলে নেমেছে, কিন্তু তারা  আর কেউ ফিরে আসে নি। হ্রদের জলে নামার সাথে সাথেই তারা চিরজীবনের  জন্য হারিয়ে যায়।