Samokal Potrika

খুব দ্রুত পাহাড়ি পথ থেকে নেমেই , জঙ্গলের সরু সোজা পথ  ধরল । লম্বা হয়ে অরণ্যের বুক দিয়ে পথটা  সরু হয়ে  গিয়েছে ।  সেই সরু পথের দিকে  দাঁড়িয়ে দু’ মুহূর্তের  জন্য সামনে যত দূর চোখ যায় ; দেখবার চেষ্টা করল । অন্ধকার , ছায়ায় ঢেকে গিয়েছে । গভীর জঙ্গল । সেখানে বড় –বড় গাছ নিজেদের দল নিয়ে , শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে , এমন ভাবে ঘিরেছে , দেখে বোঝাই যাচ্ছে - বাইরে সূর্যের  আলো  বনের ভূমি ছুঁতে , বেশ পরিশ্রম করতে হয় । সরু পাতায় মোড়া   সোজা পথ , তার চারপাশে উঁচু ভূমিতে অনেক লম্বা –লম্বা বৃক্ষ , সরলবর্গীয়  গাছেদের লম্বা সারি  রয়েছে । এই সব কিছুর ভিতরে  এখন একা দাঁড়িয়ে আছে , রাক্ষস জাতির যুব রাজা  বরাহ বাহন । তার বাবা  রাক্ষস গোষ্ঠীর প্রধান   , শরীরের বার্ধক্যজনিত কারণেই   ব্যবসার দায়িত্ব ছেলের উপর দিয়েছে । সেই উদ্দেশ্য নিয়েই , বরাহবাহন এই পথ ধরেছে , খুব দ্রুত   ঝামেলার হাত থেকে নিজের দলটিকে বাঁচিয়ে   সমতলের  জনপদ গুলোতে  শুয়োরের  যোগান দিতে হবে । এই কাজটা সফল ভাবে করতে পারলেই , তার বাবা  বরাহবাহনকে  দলের নেতৃত্ব   দিতে দেবে । এই দল মূলত  নিজেদের ব্যবসা নিয়েই থাকে । তাদের দায়িত্ব যেই সব জনপদ গুলোতে শীতে খাবারের যোগান থাকে না , সেখানে  শুয়োর   বিক্রি করে । বিনিময়ে শস্য , ফল, কাঠ , দামী পাথর  সংগ্রহ করে । এটা বিনিময় প্রথা । এমন ভাবেই বরাহবাহনের গোষ্ঠী বেঁচে আছে । ওদের কাছে তাই বরাহবাহন   আর তার বাবা  দলের মুখ । বাবা খুব  ভাবনা চিন্তা করে এই দায়িত্ব দিয়েছে । কেননা ছেলেটা যদি দলকে আর্থিক দিক দিয়ে লাভবান না করে , তবে দল সেই জায়গায় অন্য নেতা খুঁজবে । বরাহবাহনের কাছে এই ব্যবসায়িক লেনদেনটা খুব দরকার । এই সংহিতা যুগে , আর্থিক লাভ বলতে  এই বিনিময় প্রথার মাধ্যম বোঝায় । যদি বরাহবাহন তার  শুয়োর   গুলোকে জনপদে পৌঁছিয়ে দেয় , আর তার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহ করে ফেলে , তাহলে আর তার যোগ্যতা নিয়ে তেমন প্রশ্ন উঠবে না।

এই সব ভাবছিল । বরাহবাহন  কিছুটা দূরেই তার  শুয়োরের    পাল রেখেছে । সেই পশু গুলোকে  পাহারা দিচ্ছে দলের  শক্তিশালী আর বিশ্বস্থ  অনুচরেরা   । বরাহদের নিজস্ব জনপদ  আছে ।  তারা তাদের মতন জীবন কাটায় । এই বানিজ্যের সময়টা যুবকরা   ঘর থেকে দূরে থাকে । 

বরাহবাহন নিজে যেহেতু দলের দায়িত্বে রয়েছে । সঠিক পথ খুঁজে , নিরাপদে পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য এই এত সকালে , জঙ্গলের মধ্যে , এমন সরু পথের মুখে দাঁড়িয়ে আছে । সে নতুন পথটা দিয়ে এগিয়ে যাবে । এক্ষেত্রে একটা সমস্যা আছে । নতুন পথ আবিষ্কার  করলেও , সেই পথের শেষ সে জানেনা । শুধু তাই নয় এই পথে কোন সম্ভাবনাময় বিপদ ওঁত  পেতে থাকতে পারে ! সে সম্বন্ধেও তাকে জানতে হবে । এর জন্যই এত সকালে সে বেরিয়ে পড়েছে ।

সে  দেখছে , ঘাড় উঁচু করে । লম্বা –লম্বা গাছেরা অনেক উঁচুতে মনে হচ্ছে আকাশটাকে ফুটো করে উঠে যাবে ! সূর্যের আলো গাছেদের পাতা বেয়ে  খুব অল্প চুঁইয়ে –চুঁইয়ে  নামছে । ছায়া –ছায়া  সেই আলোয় মেখেছে  সমতলের হাঁটু সমান  ঘাসের জঙ্গল   । বরাহবাহন দু’ হাতের তালু  দিয়ে দু ‘চোখ ঘষলো  । ধীরে এগিয়ে চলেছে ।  

সরু পথের ধারে , উঁচু পাথরের গায়ে পা রাখল । এখান থেকে নিচের ভূমির দিকে তাকাতেই কিছুটা দূরে আশ্রম চোখে পড়েছে । বরাহবাহন দেখল  আশ্রমের উঠোন খুব সুন্দর ভাবে গোছানো  । চারপাশে গাছের মাঝে যতটা দেখা যাচ্ছে , ততটুকুতে বোঝা গেল  দূরের  আশ্রমে   তপস্বীদের  বসতি ।

খুব ধীরে –ধীরে , নামছে । বরাহবাহন বেশ কিছুটা পরিশ্রম করেই , অনেকটা সময় ধরে ঢালু পথ দিয়ে নেমে ; আশ্রমের কাছে দাঁড়িয়ে  দাঁড়িয়েছে । এতটুকু বুঝতে পারল , এই আশ্রমের সাথে দেবতাদের  যোগাযোগ রয়েছে । এখন কথা হচ্ছে , দেবতারা এখানে রাক্ষস ধরবার ফাঁদ পাতে নি তো ?  কেননা যদি বরাহকে ধরে ফেলে , আর বিনিময়ে  শুয়োরের   পাল গুলো  দাবি করে  বসে! বরাহ ছুঁচালো পাথরের অস্ত্রটি হাতে নিল । পেটে তার ক্ষিধে  ,এই শীতেও কপালে ঘাম  জমেছে ! এতদূর যখন এসেছে , সে চেষ্টা করবে সামনের পথ সম্বন্ধে জানতে । এর থেকে বিকল্প ব্যবস্থা জানা নেই । সে দেখল ধীরে –ধীরে অরণ্য , নিজের আলসেমি  থেকে গা ঝাড়া  দিয়ে উঠছে ।

আচমকাই আশ্রমের দরজা  খুলে , বছর সতেরোর এক মেয়ে  বেরিয়ে এলো । তার গায়ে  কাপড় ।  মাথার কালো চুল খোলা । হাত দিয়ে চুল ঠিক করল । বাইরে বেরিয়ে ছড়িয়ে থাকা কাঠের টুকরো হাতে  তুলে নিল । বরাহ দেখে বুঝতে পেড়েছে , এই মেয়ে দেবী হতে পারেন না । কোন ঋষির পত্নী হবেন । এর মুখ ভোরের মতন । যাকে স্পর্শ করলেই জীবনের সবটুকু নোংরা মুছে যাবে । বরাহবাহন চেয়ে রইল । মেয়েটি কিন্তু নিজের মনে কাজ করে চলেছে । এই যে কাজ , নিজের মনে , সেই কাজে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য রয়েছে । বরাহের মনে হচ্ছে , এক্ষুনি গিয়ে এই যুবতিকে জাপটে ধরবে । দু’হাত দিয়ে তাকে তুলে বুকের সাথে চেপে রাখবে । এই মেয়েকেই সে খুঁজছিল । কিন্তু মেয়েটির বিয়ে হয়ে গিয়েছে !

বরাহ ভাবল – জনপদ থেকে এই অরণ্য  পেরিয়ে যেতে তাকে পরিশ্রম করতে হবে । সেই  পথে এই মেয়েটি যদি  সাথে থাকে , সব ক্লান্তি মুছে যাবে । তার কোন ঋষির পত্নীকে নিজের সাথে নিতে অসুবিধা নেই । এই নারীকে সেও বিয়ে করতে পারত ।

মেয়েটির হাতের কাজ শেষ , এতক্ষণ বরাহের দিকে তাকিয়ে ছিল । বরাহ বুঝতেই পারেনি!মেয়েটিকে দেখে বলল – আমি খুব বিপদে পড়েছি । সহায়তা দরকার । এই অরণ্যে নিজের দলের থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে , আর পথ খুঁজে পাচ্ছিনা ।

মেয়েটি তার দিকে তাকিয়ে , শুধু বলল – আসুন , আমি এখানেই থাকি । এটা আমার পতির ঘর। আমাদের আশ্রম এখান থেকে অনেকটা দূরে । আমি এবং আমার স্বামী একান্তে সময় কাটাবো বলে এইখানে আশ্রম তৈরী করেছি ।  

বরাহ বলল – আমি ব্যবসায়ি । নিজের দলের সাথে , সমতলের জনপদ গুলিতে যাব । পথ জানতে চাই ।

মেয়েটি বলল – দুটো জনপদের মাঝে এই পর্বত , এখানে অরণ্য নিজের মতন । তাই   এই জঙ্গলকে না চিনলে আপনি ওই জনপদে পৌঁছাতে পারবেন না। একদিনেই সব কিছু জানতে পারবেন না ।

বরাহবাহন  বলল -   আমি যে এখানে থাকব , আপনার ঋষি যদি আপত্তি করেন ।

এতক্ষণ বাদে , মিইয়ে যাওয়া হাসি , মেয়েটির মুখে । বলল – আপনি ভাবছেন , আমি আপনার পরিচয় জানিনা ! দেখুন দেবতা আপনি নন । কেননা তাদের সাথে আমার খুব গভীর যোগাযোগ আছে । রাক্ষস জাতি আপনার পরিচয় । আপনার সাহস আর সংস্কার দেখে আমি বুঝতে পেরেছি। সত্যি বলতে আমি , পিতার কাছে যখন ছিলাম । আমার এক প্রিয় মানুষ রাক্ষস জাতিভুক্ত  ছিলেন । তার সাথে এখন আর সম্পর্ক নেই । আপনাকে দেখে , আপনার সবল পেশী বহুল দেহ , কাজলের মতন গায়ের রঙ ,  দীর্ঘ  নাক  আর চওড়া বুক দেখে আমি আপনার জাতিগত বৈশিষ্ট্য   বুঝতে পেড়েছি ।

বরাহ বলল – আপনি বললেন , আগে একজনের সাথে আপনার সম্পর্ক ছিল । তিনি খুব প্রিয় । বাবার জন্য সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন । জানতে পারি  তিনি কে ?

মেয়েটি আবার হাসল । বরাহের মনে হচ্ছে আকাশ থেকে মিষ্টি গন্ধের সাদা রঙের ফুল ঝরে পড়ছে । মেয়েটি বলল – আপনার জীবনে এখনো কেউ আসেনি না ?

বরাহ বলল – মানে ?

মেয়েটি বলল – যখন কোন মেয়ে , বিয়ের আগে বিশেশ কোন সম্পর্কের কথা বলে । তারমানে সে তার প্রেমিকের কথাই বলছে । আপনি আসুন......

বরাহ আশ্রমের ভিতর ঢুকল । এখানে কেউ থাকেনা । একা মেয়েটাই থাকে । সে যথেষ্ট সাহসী , জন্তুর ভয় আছে ।  আবার  ভাবল , স্বামীও থাকেন হয়ত । - আচ্ছা আপনি যে এক রাক্ষসকে  এত খাতির করে ডেকে আনলেন , স্বামী জানতে পারলে ?

মেয়েতি বরাহের কথায় উত্তর দিল ।- ঋষি এক বছর হল এখানে নেই । আমি আছি আর আছে অদ্ভুত একাকিত্ব  । সে তপস্যা করবার জন্য  দেব ভূমির অরণ্যে গিয়েছেন । আপনি  বসুন ।

-আচ্ছা , স্বামী ছাড়া একা   এক বছর ! আপনার  ভয় করেনি ?

-দেখুন , আশ্রমের চারধারে যজ্ঞের ছাই , কাঠ , আসন । দেবতারা সাথে থাকেন ।

-বেদ মেনে নিয়েছেন মানে , দেবতাদের বশ্যতা মেনে নিলেন ।

-আমরা বাধ্য । অবশ্য আমার স্বামী নিজের উন্নতির স্বার্থেই এই বেদ শিখেছেন । দেবতাদের বশ্যতা মেনে নিয়েছেন । আমিতো পরাধীন ...

-তা কেন বলছেন ? প্রতিটি নারীই স্বাধীন ।

-বেদ এখনো  নারী  স্বাধীনতাকে  স্বীকৃতি  দেয়নি । দেবেও না, আমরা  বেদ পাঠ করতে       পারিনা ! শুনতেও নেই ।  দেখেছেন কথায় কথায়  জানলাম না,  আপনার নাম ?

-বরাহবাহন । আপনি  স্ত্রী  না পরাধীন প্রাণী ?

-রাক্ষস জাতির কাছে , মাতৃতান্ত্রিক  সংস্কার আছে । আর দেবতার কাছে , পুরুষতান্ত্রিক ।আমরা বন্দি যে । দেবতাদের খাতির করতেই হবে । নারীরা  দেবতাদের কাছে   গৃহপালিত  প্রাণী ।

বরাহবাহন খেয়াল করল , এই কথা গুলো   বলতে –বলতে মেয়েটির দু’ চোখ জলে ভরে  গিয়েছে ! সে বুঝতে পাচ্ছে , দীর্ঘ একবছরের প্রতীক্ষা নিয়ে এই নারী , তারই জন্য অপেক্ষা করছিল । আজ অবসান ঘটল ।

মেয়েটি বলল – অপেক্ষা আর অসহায়তা , এই দুটো শব্দই  আমার জীবনের  অভিশাপ ।

বরাহবাহন বলল – কেন ?

মেয়েটি বলল – দেখুন , ওই কিছুটা দূরে আপনি একটা নদী পাবেন সেখানে  গিয়ে স্নান করে আসুন । ফলাহার করবেন । তখন সব কথা জানাব । এই গল্প শুনতে হলে , মন দিয়ে শুধুই আমার দিকে চেয়ে থাকতে হবে ।

বরাহবাহন এমন ভাবে তাকিয়ে আছে , যেন পূর্ব জন্মের প্রেমিক বহু অপেক্ষার পর , প্রেমিকাকে পেয়েছে ! বলল – আপনার নাম ।

মেয়েটি  আস্তে –আস্তে খুব ধীর গলায় মাথা নিচু করে বলল – পুলোমা । বেদজ্ঞ  ভৃগুর বউ ।                                                           ২

-আপনি  বলেছিলেন , আমাকে সাথে নিয়ে যাবেন । আমি দেবভূমি  দেখতে চাই । 

- আমার মনে আছে ।  এরপর যখন  দেবভূমিতে  যাব ,  তুমি  সাথে যাবে । এখন আমার পা টিপে দাও। আজ অনেক পরিশ্রম হয়েছে ।

-আপনি সেখানে কেন যাচ্ছেন ?

কথাটা বলেই   ষোল বছরের সদ্য বিবাহিতা মাথা নিচু করে রইল । এমন ভাবে যে নারী পুরুষের অধীন থাকে , সে পতিকে প্রশ্ন করতে পারেনা । এই নিষিদ্ধ কাজটা মেয়েটি করে ফেলেছে । এর একটা শাস্তি সে পাবে । মেয়েটির সামনে  শুয়ে আছে , বেদজ্ঞ  ভৃগু । সে দেবতাদের কাছ থেকে বেদ শুনেছে । শুধু তাই নয় , মেয়েটি জেনেছে এই ভৃগুর উপর ইন্দ্রপন্থী দেবতা অগ্নির বিশেষ  কৃপা আছে । যেমন রাতে চাঁদের আলোর প্রতি চাঁদের মোহ থাকে , যেমন ফলের সাথে তার ত্বক ওতপ্রত  জড়িত ; তেমনই অগ্নি দেবতা আর ভৃগুর সম্পর্ক । দু’জনেই পরস্পরের কাছে সমীহ আদায় করে । আগুনের মতন ভৃগুর রাগ । গায়ের তামার রঙ দেখে , তার জন্মের জন্য দেবতাদের  বীর্যের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না । এমন একটা আর্য সন্তানের হাতে নিজের মেয়েকে বিয়ে দিতে পেরে , যে কোন বাবার মতনই পুলোমার বাবা গর্ব বোধ করেছে । পুলোমার   মন  পুরোটা খুশি হতে পারেনি । তার বিয়ের আগে একজন প্রেমিক ছিল । সে খুব ভালোবাসত  । তারা ঠিক করেছিল বিয়ে করবে । পুলোমার  বাবা একজন রাক্ষস জাতির ছেলের হাতে নিজের মেয়েকে তুলে দিতে রাজি ছিল না। কেননা তারা  আর্য অনুগামী  ছিল ।

-কিছু ভাবছ ?

হুঁশ আসতেই , পুলোমা  বলল

-আপনি আমায় খারাপ ভাবলেন ।

-আমি ভৃগু । বেদজ্ঞ । অন্যের উত্তর দিতে রাজি নই  । স্বয়ং ইন্দ্রের অনুগামী  অগ্নিদেব আমায় , মন্ত্র উচ্চারণ শিখিয়েছেন । এমন কি , আমি নির্বিঘ্নে   অগ্নিকে আহ্বান করতে পারি । আমি এই  পৃথিবীতে নিজের অবস্থানের জন্য অবশ্যই অহংকারী । তুমি নারী , তাই তোমাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই নেই । আমরা মেয়েদের আমাদের ঘরে নিয়ে আসি , শুধুই আমাদের সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য । বেদে তারা যেমন অধিকার পায়নি । তেমনই সমাজের কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে , বৈদিক সমাজ নারীদের অংশগ্রহণ মর্যাদার চোখে দেখে না। এটাই আমাদের অনুসরণ করতে হবে । এমনটা করলেই দেবতারা খুশি হবেন , আমাদের সহায়তা করবেন । আমার আশ্রমকে প্রসারিত করতে হলে , দেবতাদের কৃপা দরকার ।

-আমি জানি ।

পুলোমা মাথা নিচু করে রইল । বলল

-আমি নিতান্তই কৌতূহল বশতই এমন একটা প্রশ্ন করে ফেলেছি !

-তা নয় । তুমি খুব স্বতন্ত্র   আর বুদ্ধিমতী  । আমার এতটুকু বিশ্বাস আছে  , কূলের নিন্দা হয় এমন কিছুই তুমি করবেনা । তোমার থেকে আমি পুত্র সন্তান আশা করছি । যে আমার মতনই তেজস্বী আর বেদজ্ঞ হবে । সে দেবতাদের সহায়তা করবে ।

-সহায়তা !

পুলোমা খানিক অবাক হয়েছে । ফর্সা মুখে , আচমকাই বিস্ময়ের বিদ্যুৎ খেলেছে ! বাইরে কালো রাত , মাটির ঘরের ভিতর মেঝেতে শুয়ে আছে  নব দম্পতি । এক চল্লিশ বছর বয়সী পুরুষ আর পাশে ষোল বছরের পুলোমি । বাবার কাছ থেকে , পুলোমির  সাথে একান্তে সময় কাটাবে বলে , এই দক্ষিণাপথে আশ্রম তৈরি করেছে । ভৃগু কাল সকালেই একা আশ্রম ত্যাগ করবে । দেবভূমিতে যেতে হবে । এই আচমকা দেবভূমিতে তলবের আসল কারণ অবশ্য পুলোমি জানেনা । সেই ব্যাপারটা নিয়েই কথা হচ্ছিল । এই কথা চলতে –চলতে , এক জায়গায় থেমেছে ।  ভৃগু হাসতে – হাসতে বলল

-সহায়তা মানে সাহায্য চাইছে । এই বেদজ্ঞ ভৃগুর কাছে দেবতারা আসেন , সাহায্য পেতে । আমি নেহাতই খুব তুচ্ছ নই । তাইতো তোমার কাছ থেকে , খুব শীঘ্রই পুত্র সন্তান চাইছি । তোমার পিতা জানেন । আমি বেশ ভারী শুল্ক দিয়ে  তোমাকে আমার কাছে এনেছি । তুমি আমার কাছে দুগ্ধবতী গাভীর চেয়েও মূল্যবান ।

পুলোমা  মনে – মনে বলল  – বিচিত্র আর্য সংস্কৃতি  ! নারীর স্বাধীনতা যজ্ঞে বলি দেওয়া পশুর মতনই অনিশ্চিত ও ক্ষণস্থায়ী  । গৃহপালিতের মতন , তাকেও খুঁটিতে বেঁধে  রাখতে হয় !  তার ভালোবাসা , আবেগ ,  সন্তান স্নেহ , ত্যাগ , পরিশ্রম সব কিছুই গাভীর দুগ্ধের মতনই তরল সহজলভ্য । তা পান করতে কণা মাত্র কষ্ট করতে হয়না ! এই  তোমাদের দেবতাদের শিক্ষা ...

পুলোমা   মাথা নিচু করে ,বলল

-প্রভু আপনি   বলতে পারেন । আমাকে যদি আপনার পরিকল্পনার কথা  বলেন , আমি শুনব । পিতা আমায় বারবার  বলে দিয়েছেন ,  আমি বিনা তর্কে যেন   নিজের কাজ করে যাই ।

-পুলোমা  । দেবতারা আজ এত সমীহ  পাচ্ছে , এই সব কিছু দেখে খুব  মনে হয় কত সহজ ,  এমনটা  মোটেও নয় ।  তুমি শুনবে ?

পুলোমা  বলল – আপনি আমায় বলবেন ?  এখন অনেক রাত । কাল সকালেইতো  বেরিয়ে যাবেন  !  পাখির গলার স্বর শুনতে এখনো  বাকী  আছে   ।  আপনি  বলুন দেবতাদের কথা   ।   আমি শুনতে    আগ্রহী ।     বাবার কাছে  থাকতাম , দেখতাম সকলেই অগ্নিদেবকে  যজ্ঞের  জন্য  সমস্ত দ্রব্য , পশু ,কাঠ দিচ্ছে । সকলেই স্তুতি করছে ।  শুধু তাই নয় , আরও অনেক  কিছুই তার কাছে শুল্ক হিসেবে পাঠানো হত । এত কিছু তিনি অনুগ্রহ করে গ্রহণ করতেন , বিনিময়ে আমাদের  আশীর্বাদ করবেন । আপনার মুখে দেবতাদের সহায়তা  দরকার শুনলাম , মানে আমাদের মতন সাধারণ মানুষের উপরেও দেবতারা নির্ভরশীল ! এই  ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার করে জানতে চাইছি । আমি এই ক্ষেত্রে একেবারেই অনভিজ্ঞ ।

ভৃগু , তার বাঁ হাত দিয়ে , পুলোমার দেহটাকে নিজের বুকের দিকে টেনে আনল । নিজের ভোগের বস্তু সহজে হাতছাড়া করতে নারাজ । ডানহাত দিয়ে লম্বা দাড়ি  তে হাত বুলিয়ে বলল

-আজ ক্লান্ত , পরিশ্রান্ত , দীর্ঘ  হাঁটা পথে শরীর ভেঙে পড়েছে । আজ রাতটুকু রেহাই দাও।

-না । রাত ফুরিয়ে গেলেই , দিনের আলো চলে আসবে । আপনি বেরিয়ে পড়বেন । এই ব্যাপারটা আমাকে এই অন্ধকারেই জানান । আমি  শুনতে চাইছি । সেই এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারব না । আপনি পুত্র সন্তান চাইছেন , তার জন্য প্রস্তুতির দরকার । দেবতাদের শায়তা কেন করব ? কি ভাবেই বা করব ? আমকে জানতে হবে ।

-প্রিয় , পুলোমা  । এই ঘরে এখনো অগ্নির উপস্থিতি । তার সামনেই , এই কথা বলব !

-আপনি আলো নিভিয়ে দিতে পারেন । এমনিতেও ঘরে আমরা দু’জনেই আছি ।

-তোমার দিকের মাটির আলোদানি  রয়েছে , নিভিয়ে দেও । ফুঁ দিওনা । তাতে দেবতাদের অপমান করা হয় ।

আলো নিভে যেতেই , ঘরটা অন্ধকারে ডুবে গেল । পুলোমি  , বুকের উপর ভৃগুর হাতের স্পর্শ  বুঝতে পাচ্ছে । আঙুল গুলো স্তনের উপর ঘুরছে ।

-আপনি , চুপ করে আছেন ! দেবতাদের সহায়তা , ব্যাপারটা আমাকে বলুন । দেখো , এটা খুব গভীর বিষয় । আমি বলছি । আশা করব তুমি বুঝতে পারবে ।  যদি কোন  সময় মনে হয় , ঠিক বুঝতে পারছ না । অবশ্যই আমাকে  জানাবে ।

-ঠিকাছে । আমি আগ্রহী । আপনি অনুগ্রহ করে বলুন । আর  অপেক্ষা সহ্য করতে পারেছিনা ।

-দেখো , এই যে দেবতারা তারা যাযাবর । তাদের কাছে অস্ত্র , যুদ্ধ কৌশল , উন্নত মানের জন্তুর ব্যবহার , দখল করবার মানুসিকতার  অভাব ছিল না। তাদের সমস্যা ছিল সভ্যতা , সমাজ আর স্থায়ী  জনবসতি  তৈরি করবার জন্য , উর্বর জমি , খনিজ পদার্থ , বনজ পদার্থ , জল সম্পদ আর  হ্যাঁ অবশ্যই মানব সম্পদের ।

-মানবসম্পদ ?

-মানুষ আর তার শ্রম , বুদ্ধি , প্রেম , সহানুভূতি , এইসব কিছু দিয়েই একটা পরিপূর্ণ সমাজ তৈরী হবে  । দেবতারা তাদের অনুসরণকারী এক সভ্যতার জন্ম দিতে চায় । সেই সভ্যতা  তাদের কাছে প্রতিনিয়ত  প্রয়োজনীয় দ্রব্যের যোগান দিয়ে যাবে । আমরা জাকে ভক্তির চোখে দেখি , আসলে তা এক চুক্তি  । বিনিময় প্রথার ব্যবসায়িক রুপকে সুন্দর ভাবে ভয়ের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছে । যদি তুমি দেবতাদের প্রয়োজনীয়  যোগান  দিতে ব্যর্থ হও , দেবতার  কোপ নেমে আসবে । তাদের বশ্যতা স্বীকারে অঙ্গীকারবদ্ধ না হলে , দেবতারা আক্রমণ করবে । দেবতাদের চাহিদা না মেটালে  , তোমার এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবার অধিকার নেই । মানুষকে দেবতাদের দাসত্ব মেনে নিতেই হবে ।    চাইলেও দেবতাদের বিরুদ্ধে  যুদ্ধ করতে পারবেনা । কেননা শক্তি নেই। মানুষ সঙ্গবদ্ধ   নয় ।   আধুনিকও নয় । চাপিয়ে দেওয়া সংস্কারের বাইরে , পা রাখতে তাদের বুক কাঁপে ;এমন  জনগোষ্ঠী  সভ্যতার জন্ম দিলেও তা হয় দাসত্ব সমর্থিত সভ্যতা । দেবতাদের হাতের পুতুল তারা ।

-তাই বলে পারাধীনতা   মেনে নেব ! আমাদের স্বতন্ত্রতা থাকবেনা ?

-দেখো , আমাদের  উচিত নিজেদের লাভের দিকটা দেখা । যদি দেবতাদের সাথে হাত মিলিয়ে নিতে পারি , তবে অফুরন্ত সম্পদ , সুখ , যশ ভোগ করব । নাহলে আমাদের অবস্থাও ওই রাক্ষসদের মতনই হবে । রাক্ষস জাতিদের নিজস্ব সংস্কৃতি  আছে , তারা দেবতাদের বশ্যতা মানতে চাইছেনা ।  একশ বছর ধরে ওদের বিরুদ্ধে দেবতারা লড়াই করে আসছে । দেবতাদের এখন জনবল দরকার , এই কারণেই  আমাদের থেকে   সহায়তা চাইছে । রাক্ষস জাতিদের দখলে বনজ সম্পদ , খনিজ সম্পদ আর জলজ সম্পদ আছে । এগুলো দখল করতে হলে আমাদের মতন মিশ্র জাতির সহায়তার প্রয়োজন । আমরা তিন জাতিই মানুষ । দেবতারা সেরা যোদ্ধা , গোঁড়া , সাম্রাজ্যবাদী  , উগ্র আর অবশ্যই সংগঠক । রাক্ষস জাতি নিজেদের জাতিগতমৌলিকতা হারিয়ে , অন্যের বশবর্তী হতে চায়না । আর এই আমরা মিশ্র জাতির মানুষরাও অতি সাধারণ মনুষ্য জাতি । আমাদের অস্তিত্ব  রক্ষার জন্য দেবতাদের সাথেই যাওয়াটা বেশি যুক্তি সঙ্গত ।

-কিন্তু কেন ?

-কারণ আমাদের জন্ম দেবতাদের কৃপাতে । আমাদের কাছে রাক্ষস জাতি অতি নিচু স্তরের আর বিপদজনক । শুধু তাই নয় সাংগঠনিক ভাবে দেবতারা যে বেদের সূচনা করেছে , সেই বেদকে তারা অস্বীকার করেছে । বহুক্ষেত্রে বেদকে চুরি অব্দি করেছে । পুলোমা  জীবনে বেঁচে থাকতে হলে তোমাকে নিজের সুখ আর স্বাচ্ছন্দ্যের  কথাই আগে ভাবতে হবে । রাক্ষস জাতি সংগঠিত, তাই তারা খুব দ্রুত দেবতাদের সাথে লড়াইয়ে নামতে পারে। আমরা মিশ্র যারা , দেবতাদের কৃপাতে এখানে বসবাস করছি , তাদের সংগঠিত করবার মতন নেতা কোথায় ? তাহলে আর দেবতাদের সাথে লড়াইয়ে নেমে লাভ নেই ।

এত সব কথা বলতে –বলতে , ঘরের মধ্যে , ভোরের আলো এসে উঁকি মেরেছে ! পুলোমার চোখ সেই দিকেই । কোমর   পর্যন্ত বস্ত্র নেই । খোলা বুকে ভৃগু মাথা রেখে বলল

-খুব নিষ্ঠুর । এই রাত দেবতাদের আর রাক্ষসদের কথা শুনেই কাটিয়ে দিলে । আমাকে অভুক্ত রাখলে !

এই কথায় , ষোল বছর বয়সী কিশোরীর  শরীর কেঁপে উঠেছে । বলল

-করুন । আমি নিষেধ করেছি নাকি ? এখনো ঢের সময় আছে ।

-ভোরের দিকে যৌনতায় , মজা আছে । ঘোর লেগে থাকে । তাতে ক্ষতি হতে পারে মুক্ত চিন্তার ! তাই সহবাসে নয় ,  নিজের আত্ম চিন্তায় মনোনিবেশ করতে হয় । এটাই বেদ সমর্থিত । আমরা চুক্তি বদ্ধ , কোন ভাবেই বেদের অনুশাসন থেকে নিজেকে রেহাই দিতে পারিনা । এই যে আশ্রম ,এখানে একান্তে তপস্যা করছি। এই সব এক বিশেষ ধরণের গবেষণা । বনজ সম্পদ , শক্তি , দর্শন , এই সব কিছু কতটুকু উদ্ধার করলাম , তারই হিসেব দিতে দেবভূমিতে যেতে হবে । আমি উঠি .........

গল্প এই পর্যন্ত থামিয়ে , সামনে বসে থাকা বরাহবাহনের দিকে  তাকিয়ে পুলোমা বলল

-আপনার হাত শুকিয়ে গিয়েছে । সেই  দুপুরে স্নান থেকে এসে কিছু ফলাহার করলেন , আর আমার জীবনের কথা শুনতে চাইলেন । আমি বলতে – বলতে দিনের আলো  গিয়েছে ফুরিয়ে  ! দেখুন , বাইরের আকাশে সন্ধ্যা লেগেছে। সব আলো ফিরে গিয়েছে । পাখিরাও গাছেদের কোটরে আত্মগোপনে মগ্ন । আপনি এখনও ধৈর্য্য হারান নি ?

-সামনে এমন সুন্দরি অনর্গল কথা বলে গেলে , কোন আহাম্মকই নিজেকে সরিয়ে নেবে । আমিতো প্রেমিক । রাক্ষস জাতি প্রেম করতে পারে , তেমনই সেই ভালোবাসার মূল্য দিতে জানে । আপনার স্বামী চলে গেলেন ! আপনাদের বিয়ের প্রথম রাত এমন ভাবে কেটেছিল ! ইস, আপনি আপনার রুপের , যৌবনের , সঠিক সম্মান এখনো পাননি ।

-আমার পতি সত্যিই আমাকে ভোগ না করে চলে গিয়েছিলেন । আসল কথা দেবভূমিতে নারী সম্পদের অভাব নেই । আমাকে দরকার শুধু সন্তান উৎপাদনের জন্য । সে যাবার সময় বলে গিয়েছিলেন , আমি যেনও কখনই রাক্ষস জাতির কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ না করি । তার রাক্ষস জাতির প্রতি  বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব রয়েছে ।

-সেই থেকে আপনি একা !

-আপনি নিতান্তই অনভিজ্ঞ , কিম্বা খেয়াল করেননি ।

বরাহ এইবার পুলোমার দিকে তাকিয়ে রইল । সে এতক্ষণ খেয়াল করেনি , এইবার দেখল  মেয়েটির পেটের  দিকটা  কিছুটা উঁচু !

-আমার চার মাস চলছে ।

-আপনি গর্ভবতী !!    

- অবাক হচ্ছেন না ?

-সে তো হচ্ছিই ।

-আর আমাকে ভালবাসবেন না ?

-সন্তান সম্ভবা  কে কি না ভালোবেসে থাকা যায় ? যে সভ্যতার শুরুতে জন্ম সত্যি ছিল । শেষেও জন্মই সত্যি থাকবে । আপনার  গর্ভে তেমনই সত্যি রয়েছে । আমি যে তাকেও ভালোবেসে ফেলেছি । আপনাকে বলেছিলাম না , আমরা রাক্ষস জাতিরা ভালোবাসলে  , সেই প্রেম রক্ষা করতে পারি । আপনার রুপ যেন ফেটে পড়ছে ! এই সময় দিনরাত ভৃগুর এই স্থানে থাকবার দরকার ছিল ।

- বেদ অধিকৃত  সমাজে আমরা  নারীরা কবেই বা এমন , সৌভাগ্য পেয়েছি । সংসারের শ্রম , পুরুষকে দৈহিক আনন্দ দেওয়া আর যুদ্ধের জন্য দেবতাদের পুত্র যোগান দেওয়াই কাজ । এই কাজ করেই আসছি । ব্যতিক্রম হয়ত আছে । তবে , তা একান্তই উদাহরণ ।

-আপনাকে একটা প্রশ্ন করব , কিছু মনে করবেন না ?

-বলুন ?

-ভৃগু যদি আপনার সাথে সহবাস না করে থাকেন , তাহলে এই সন্তানের পিতা কে ?

পুলোমা  স্থির চোখে চেয়ে রইল ।  বলল

-আপনার   প্রশ্নটি যথার্থ  । আমি উত্তর দেব । এত দিন এক পাপ আমি বহন করে  বেরিয়েছি । আজ  সেই কষ্টের ভাগ আপনাকে দেব ।

-বলুন ।

-এখন সন্ধ্যা দিতে হবে । আমি রাতে আপনার ঘরে আসব । আপনাকে আমার পরবর্তী জীবনের ইতিহাস বলব , এই গর্ভস্থ ভ্রূণের সাথে জড়িয়ে আছে দেবতাদের এক ব্যভিচার ।

পুলোমা  উঠে বসল । বরাহ আশ্রমের ডানদিকের একটা ঘরে গিয়ে ঢুকল । এখানেই আজ রাতে থাকবে । অপেক্ষা , পুলোমা   ডাকবে আর শোনাবে দেবতাদের মহিমা !