সেই নাম না লেখা বট পাতাগুলো প্রতিদিন চুলার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ।

অর্থের  অভাবে সেই গোলাপি রঙের বাড়ি আজও বানানো হয়নি আমার ।

অনাহারের  তীব্র জ্বালায় ধুকে ধুকে মরতে বসেছি ।

Samokal Potrika

আমি এখনো চাকরি পাইনি জানো !

সেই যে পার্কে  বসে  বটগাছের তলে

ঝরে পরা বট পাতায় প্রথম লিখেছিলাম আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের নাম ।

তুমি সযত্নে  পাতাটিকে  তুলে রেখেছিলে  তোমার বাংলা নোটের  খাতায় ।

কথা ছিল  চাকরি পাওয়ার পর সুন্দর একটা বাড়ি বানাবো ।

তুমি ঠিক করে রেখেছিলে বাড়িটার  পছন্দের রং ।

মনে পরে তুমি বলেছিলে  তোমার ভাত রান্না শেখা হয়ে গেছে এবার তরকারি গুলো শেখা বাকি ?

বাধা দিয়ে বলেছিলাম তরকারি নয়

গরম ভাত বেরে ভালোবেসে একটু ফুঁ দিয়ে দিও ।

সেই হবে আমার অমৃত আস্বাদন ।

শুনলাম তোমার সন্তানের নাম রেখেছ অভয় ।

তোমাদের তাজমহলের  মতো বাড়িটার রঙ পাল্টে হয়েছে তোমার পছন্দের সেই গোলাপি রঙ ।

তোমাদের বাড়ির কাজের লোকটা হাসতে হাসতে বলছিল

তোমার স্বামী চাকরি থেকে ফিরলে তুমি নাকি পাখা চালাও না ।

ফুঁ দিয়ে ভাতগুলো ঠাণ্ডা করে দাও ।

পার্কের  সেই বট গাছটার পাতা এখনও পরে ।

ঘাসিয়াড়ারা বস্তাবন্দি করে বাড়ি নিয়ে যায় ।

কোনো বাংলা  নোটের খাতায় নয় ,

সেই নাম না লেখা বট পাতাগুলো প্রতিদিন চুলার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ।

অর্থের  অভাবে সেই গোলাপি রঙের বাড়ি আজও বানানো হয়নি আমার ।

অনাহারের  তীব্র জ্বালায় ধুকে ধুকে মরতে বসেছি ।

শুধু গরম ভাতটা একটু ফুঁয়ের অভাবে মুখে তোলা হয়নি আজ কতকাল ।

জানি  এমন কত অভয় ,কত শখের গোলাপি বাড়ি ,

কত ঠাণ্ডা না হওয়া ভাতের থালা পুড়ে ছাই হয়ে যায় সীমাহীন  দারিদ্রতার পাহাড় নিয়ে বুকে ।

এমন কত প্রেম , কত আশা  ইতিহাস হয়ে যায়

একটা চাকরি না পাওয়ার আফসোসে ।

একটা চাকরি না পাওয়ার আফসোসে !!